হেরিটেজ ট্রাভেলার এলিজা মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৯

সালটা ১৯৯৯। ঢাকার বলদা গার্ডেন দিয়ে এলিজা বিনতে এলাহীর তার ভ্রমণ শুরু করেন। চল্লিশোর্ধ্ব এই নারী বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে একের পর এক এশিয়া-ইউরোপের ৪৬টি দেশ ও ২৪৭টি শহর ভ্রমণ করেন। নেদারল্যান্ডস পুরোটাই তিনি চষে বেড়িয়েছেন।

নিজ উদ্যোগে এলিজা গড়ে তুলেন কোয়েস্ট প্রকল্প। তার এই ভ্রমণের নাম কোয়েস্ট : অ্যা হেরিটেজ জার্নি অব বাংলাদেশ। উদ্দেশ্য- অনুসন্ধান, জানা, তথ্য সংগ্রহ, হেরিটেজ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা, সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা ইত্যাদি। ঢাকায় মানুষ হলেও গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায়। ইতিহাস, প্রতœতত্ত্বের প্রতি অনুরাগ এলিজার ছোটবেলা থেকেই। তিনি নেদারল্যান্ডসের ডি হেগ ইউনিভার্সিটি অব এপ্লাইড সায়েন্সেস থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ায়। নিজ ইচ্ছার তাগিদে শিক্ষকদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে শখের বিষয়কে পড়াশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন এলিজা। শুধু ভ্রমণ নয়, এলিজা প্রতœতাত্তি¡ক স্থাপনার সঠিক ইতিহাসও সংগ্রহ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও আকারে প্রতœতাত্তি¡ক ঐতিহ্যবাহী স্থান নিয়ে পোস্ট দেন। যা তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে ইতোমধ্যে। মগ-পর্তুগিজ দস্যুদের দমন করার জন্য শাহ সুজা নির্মিত সুজাবাদ দুর্গ, যা আজ প্রায় হারিয়ে গেছে। তিনি এই দুর্গ নিয়ে ছোট একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেন। এ ছাড়া রাখাইন পল্লীতে একদিন, রায়েরকাঠি জমিদার বাড়ি, প্রাচীন পটুয়াখালীর ইতিহাস, শ্রীরামপুরের মিয়া বাড়ি, নারী মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ভাগীরথী, মাস্টার সুবর্ণ ভূমি পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া ক্যাসপারের নীলকুঠি, কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি নিয়ে তার করা ডকুমেন্টারি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পরিধি ছোট, তবে তথ্যনির্ভর, বাহুল্য বর্জিত, দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনা তার ডকুমেন্টারির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যেখানেই যান সেখানকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন নিয়ে কথা বলেন এলিজা। হেরিটেজ ট্যুরিজমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তরুণরা কী ভাবছে সেটা জানা ও বোঝার চেষ্টা করেন।

এলিজা বলেন, আমাদের দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রতœতাত্তি¡ক স্থাপনা, যা হেরিটেজ ট্যুরিজমকে করতে পারে সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময়। এজন্য দরকার প্রতœতাত্তি¡ক স্থাপনাগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ। পর্যটনকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। এতে সুবিধা হলো জায়গাগুলো সংরক্ষিত থাকবে। উপরন্তু আয়ও হবে দেশের।

ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে এলিজা বলেন, আমি অনেক জায়গায় দেখেছি মেরামতের নামে পুরনো ভবনের গায়ে প্রাচীন দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য নকশা তুলে সিমেন্ট দিয়ে দেয়া হয়েছে। কোথাও আবার দেয়ালে ফুল, লতা, পাতার নকশা করা টাইলস লাগানো হয়েছে। এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় গিয়েছি। তাদের তেমন সাড়া পাইনি। বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতœœতাত্তি¡ক স্থাপনার বিষয়ে আগ্রহ আছে।

বাংলাদেশের হেরিটেজ ট্যুরিজম নিয়ে বিশ্ব পর্যটক এলিজা খুব আশাবাদী। তিনি জানান, সমগ্র বাংলাদেশ ভ্রমণ শেষ করে সংগৃহীত স্থির চিত্র, ভিডিও যেন দেশ-জাতির উপকারে লাগে সে জন্য তার ব্যাপক পরিকল্পনা আছে। টেলিভিশন ও ইন্টারনেটে ভিডিও ডকুমেন্টারি, স্থির চিত্র দিয়ে জেলাভিত্তিক বই প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে। প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কাছে তার অনুসন্ধান ও গবেষণা তুলে ধরারও ইচ্ছা আছে। হ

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj