বিয়ের মৌসুম

রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৯

শেফালী সোহেল

বিয়ের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। তাই নগরের অলিগলিতে আলোকসজ্জায় উৎসবের আমেজও চলে এসেছে একই সঙ্গে। এ সময়ে বর-কনের সাজপোশাক তো গুরুত্বপূর্ণই। তবে এর পাশাপাশি বোন, ভাবিসহ টিন থেকে ত্রিশের সবাই কীভাবে সেজেছেন সেটাও কিন্তু খেয়াল করা হয়। সাজ, পোশাক, গয়না দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে ঐতিহ্যবাহী নানা সাজেই নিজেদের তুলে ধরছেন এদের সবাই। তবে, বিয়ের মৌসুমে মুঘল শৈলীই ঘুরেফিরে দেখা যায় দক্ষিণ এশিয়ার অনেক ফ্যাশনে।

মুঘল রানিদের বসনে অভিজাত পোশাকের চিহ্ন মেলে। কিছু চিত্রকর্মে দেখা যায় রানিরা জমকালো শাড়ি পরতেন। সমগ্র শাড়িজুড়ে নিখুঁত ও চোখ ধাঁধানো সূচিশিল্প। এ আমলে যা কেবলই অভিজাত উৎসবে মানায়। রানিদের অঙ্গে থাকত প্রচুর অলঙ্কার। বিয়েতে বউয়ের এমন সাজতে হয় এ যুগে। তখন রানিদের পোশাকে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোটিফ রয়ে গেছে এখনো।

ফ্যাশন এসেছে আধুনিকতার তাগিদে। তবে, মুঘল আমলে ফ্যাশন ছিল না। ছিল স্টাইল। মুঘল আমলের রাজা-বাদশা, রানি-মন্ত্রীদের নিজস্ব স্টাইল ছিল। কিন্তু সে স্টাইল জনসাধারণের অনুসরণ করার উপায় বা সামর্থ্য কোনোটাই ছিল না। তাই মুঘল শৈলী সে আমলে ফ্যাশন হয়নি। তবে এখন ফ্যাশনে দেখা যায় অনেক মুঘল স্টাইল এবং মুঘল স্টাইলের মোটিফ।

জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে মুঘল স¤্রাটদের অনেক চিত্রকর্ম বিশেষ। চিত্রকর্মে দেখা যায়, উৎসব মাথায় রেখে রাজ পরিবারের তরুণীদের পোশাকের নতুনত্ব আসত। নতুন কোনো উৎসবে অনেক সময়ই বানানো হতো নতুন পোশাক। উৎসবে নতুন ফ্যাশনের চল তখন থেকেই বিদ্যমান।

সে সময়ে রাজকীয় পোশাকের সম্পূর্ণ প্রতিফলন এখনকার বিয়ের ফ্যাশনে দেখা যায়। আবার অনেক মোটিফ নকশার উৎসাহ হিসেবে নেয়া হয় মুঘল বাদশাহী পোশাকের নকশা। হাল ফ্যাশনে সিল্কের বা মসলিনের জমকালো পোশাকগুলোই তার উদাহরণ।

মুঘল রানিদের বসনে অভিজাত পোশাকের চিহ্ন মেলে। কিছু চিত্রকর্মে দেখা যায় রানিরা জমকালো শাড়ি পরতেন। সমগ্র শাড়িজুড়ে নিখুঁত ও চোখ ধাঁধানো সূচিশিল্প। এ আমলে যা কেবলই অভিজাত উৎসবে মানায়। রানিদের অঙ্গে থাকত প্রচুর অলঙ্কার। বিয়েতে বউয়ের এমন সাজতে হয় এ যুগে। তখন রানিদের পোশাকে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোটিফ রয়ে গেছে এখনো। মেয়েদের যে কোনো পোশাকেই দেখা যায় আদিম মোটিফ।

সে সময়ে নারীদের মধ্যে প্রচলন দেখা যায় ধোপদুরস্ত কামিজ, শান্তিপুরী বা ক্রেপ এবং নেটের চাদর। মুঘল আমলে মুসলিম অভিজাত পরিবারের মেয়েরা পরত রামজামা। কামিজের চেয়ে লম্বাকৃতির ও আরেকটু ঢোলা হওয়ার কারণে এরকম নামকরণ। কামিজের সঙ্গে এই পোশাকের পার্থক্য হলো কামিজ বিভিন্ন উচ্চতার হতে পারে, কিন্তু রামজামা শুধু লম্বাই হয়। অর্থাৎ এ যুগের ফিটিং লং কামিজই তখনের রামজামা।

অনুপ্রেরণা থেকে এ সময়ের বিয়েবাড়ির বধূ

বিয়েতে শাড়ি তো সবাই পরে, কিন্তু কাক্সিক্ষত ড্রামা তৈরির জন্য ড্রেপিং নিয়ে মজার এক্সপেরিমেন্ট কনেরা করতেই পারেন। কাফতান কিংবা গাউন স্টাইলের প্রি ড্রেপড স্টাইলের শাড়ি কিন্তু দারুণ দেখায়। স্কার্ট শাড়িতেও তৈরি হবে কাক্সিক্ষত ড্রামা। সাধারণত আগে থেকে কুচি সেট করে রাখা হয় এসব শাড়ির।

ম্যাটেরিয়াল হিসেবে চাই এমন উপাদান, যাতে শাড়ির ফøুয়িডিটি বজায় থাকবে, হাঁটা-চলায়ও অস্বস্তি আসবে না। লেহেঙ্গাতেও ড্রামা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। মারসালা, ব্রাউন, ডার্ক এমারেল্ড, বার্গেন্ডি, পার্পল আর কালোর মতো অভিজাত রংগুলো ড্রামার পরিপূরক। এসব রংয়ের লেহেঙ্গায় সাজা কনে সবার নজর কাড়বেনই। লেস, ভেলভেট, স্যাটিন, সিল্ক দিয়ে তৈরি পোশাকে হওয়া যায় চমৎকার আবহ। সঙ্গে এমবেলিশমেন্ট হিসেবে মিরর ওয়ার্ক, হ্যান্ড অ্যামব্রয়ডারি, অ্যান্টিক জারদৌসি, বিড আর স্টোন সেটিং বেশি মানাবে। লেহেঙ্গায় লং ফুল ¯িøভ জ্যাকেট কিংবা কেপ লেয়ার করে পরে নেয়া যেতে পারে বাড়তি নাটকীয়তার জন্য। ড্রামাটিক কনেরা বেছে নিতে পারেন স্টেটমেন্ট জুয়েলারি। চোকার, মাথাপট্টি নয়তো হাতের গয়নায় যেন ফুটে ওঠে অপ্রচল আবেদন। গয়না ডিজাইনার লায়লা খায়ের বলেন, ‘এখন কাটাই কাজের গয়নার কদর বেড়েছে। এ ছাড়া বিডসের সঙ্গে বড় আকারের লকেটও পছন্দ করছেন অনেকে। আঙুলে বড় আংটি পরতে পারে। বড় ঝোলানো গলার মালার সঙ্গে চোকারও পরতে পারেন চাইলে।’ একেকটি অনুষ্ঠানের জন্য একেক ধরনের শাড়ি বেছে নিলেই ভালো হয়। শিফন বা জর্জেটের ওপর জারদৌসির কাজ করা শাড়িগুলো আপনাকে বিয়েবাড়ির কাজেও কিছুটা স্বস্তি দেবে।

সর্বোপরি সবই অনুসরণ করা যেতে পারে মুঘল ফ্যাশনের রাজকীয়তা থেকে। আর কেনার আগে অবশ্যই ভাববেন ভবিষ্যতে ওই পোশাকগুলো যেন আবার ব্যবহার করতে পারেন।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj