সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্য : যাত্রীস্বার্থ সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিন

রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৯

গণমাধ্যমে ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্যের খবর। নগরীর গণপরিবহনের সংকটময় সময়ে সিএনজিচালকদের দৌরাত্ম্য অতীতের সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীতে চুক্তিভিক্তিক সিএনজি অটোরিকশা চলছে। প্রতিটি সিএনজিতে মিটার রয়েছে, কিন্তু চালকরা মিটারে যাতায়াত করেন না। চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় চলা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। যারা এসব দেখভাল করার কথা তারা চোখ বুজে আছেন। ঢাকা মহানগরীতে সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। এর মধ্যে বৈধ অটোরিকশা ১২ হাজার ৮৩০টি। সরকার ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে মিটার রিডিংয়ে ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশ দেয়। নজরদারির জন্য রয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু এই নিয়ম মানা হয় না। এর মধ্যে হাতেগোনা কিছু সিএনজি অ্যাপসে চলাচল করছে। বাকিগুলো চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় চলাচল করে। সিএনজি অটোরিকশার মালিকদের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৯০০ টাকা। সেখানে তারা নিচ্ছেন ১৪শ থেকে ১৬শ টাকা। আর এই বাড়তি চাপ পড়ছে যাত্রীদের ওপর। অর্থাৎ কেউই আইন মানছেন না। কেউ কেউ বলছেন, সিএনজির সংখ্যা বাড়লে প্রতিযোগিতা তৈরি হতো, ফলে চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে ইচ্ছামতো ভাড়া নিতে পারতেন না। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির এক জরিপেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে চলাচলকারী ৬২ শতাংশ অটোরিকশা চুক্তি অনুযায়ী যাত্রী বহন করে না। মিটারে চলাচলকারী অটোরিকশাচালকদের ৮১ শতাংশ বকশিশ দাবি করেন। যাত্রীদের চাহিদার গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৭৩ ভাগ অটোরিকশা। মিটারবিহীনভাবে চলাচল করছে ৩৮ শতাংশ। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ, তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে। সিএনজি অটোরিকশা অনায়াসেই যাত্রীসেবা দিতে সক্ষম। কিন্তু এ খাত ঘিরে এখন চলছে সীমাহীন তঞ্চকতা। অন্যদিকে এ খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষও হিমশিম খাচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে অলিখিত আর্থিক চুক্তিতে সিএনজিচালকরা সহজেই অনিয়মগুলো উতরে যাচ্ছেন। অথচ সংশ্লিষ্টরা আইনি ব্যবস্থা নিলে এ খাতে সহজেই শৃঙ্খলা ফিরে আসতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীরা। নাগরিকদের জীবনযাত্রা সহনীয় করার ক্ষেত্রে সরকার তার দায় অস্বীকার করতে পারে না। সিএনজিচালকরা যাত্রীদের মুখের দিকে না তাকিয়ে ভাড়া হাঁকবেন অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে তা কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়। সিএনজি নিয়ে অরাজকতায় মালিক, চালক, ট্রাফিক পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করি। পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে ভাড়া সন্ত্রাস দূর করা যাবে না। সিএনজির যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তথা সরকার এ ব্যাপারে অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj