নেতৃত্ব পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ : স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা অপকর্মে সম্পৃক্ত

শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কাউন্সিল সমাগত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে কতিপয় নেতার অপকর্মের কারণে সমালোচিত এ চারটি সংগঠন কেমন চলছে, কারা আসছেন নেতৃত্বে, কী ভাবছেন নেতারা- এসব নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করেছেন ঝর্ণা মনি ও মুহাম্মদ রুহুল আমিন

আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার উদ্দেশ্যে জন্ম নেয় স্বেচ্ছাসেবক

লীগ। ৯৪ সালের ২৭ জুলাই বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সমন্বয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কিন্তু বিগত দুই যুগে আর্তমানবতার বদলে নেতারা কাজ করছেন নিজের উন্নয়নে। আওয়ামী লীগের দিবসভিত্তিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া ছাড়া তেমন কোনো সাংগঠনিক কাজ তাদের নেই। তবে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন অনেক নেতাই। অভিযোগ উঠেছে, সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় হলেও অপকর্মে সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা।

সারাদেশে কিছু নেতার টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, খুনখারাবির কারণে আলোচনায় ছিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সম্প্রতি শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযানে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা আবু কাওছারসহ অন্তত অর্ধডজন কেন্দ্রীয় নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ মূলত পরিবহন ব্যবসায়ী। ২০০৯ সালে একটি রুটে তার ‘বিহঙ্গ’ পরিবহনের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে পাঁচটি রুটে ২৪০টি বাস চলছে। ক্যাসিনো, মাদক সিন্ডিকেট, পাবলিক হেলথ, শিক্ষা ভবনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণেরও অভিযোগ রয়েছে দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটুর বিরুদ্ধে। সূত্রমতে, ক্যাসিনো ছাড়াও দখল বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, ইয়াবার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজিসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে গত ১০ বছরে টাকার কুমির হয়েছেন অনেকেই।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কোনো সহযোগী সংগঠনেই অভিযুক্তদের ঠাঁই হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক ভোরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সে রয়েছেন। তিনি কাউকে ছাড় দেবেন না। কাউন্সিলে যোগ্য, তরুণ, ক্লিন ইমেজের অধিকারীরা প্রাধান্য পাবে।

বাদ পড়লেন কাওছার-পঙ্কজ : অপকর্মের গোড়া উপড়ে ফেলতে এরই মধ্যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগে। এরই মধ্যে সংগঠনের সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি। এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নির্মল গুহ। আর সদস্য সচিব হয়েছেন জেষ্ঠ্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্ছু। আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সম্মেলন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন তারা। সম্প্রতি রাজধানীর ক্যাসিনো কারবারে ওয়ার্ন্ডার্স ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনামে আসেন মোল্লা কাওছার। এ জন্যই তাকে আর স্বেচ্ছাসেবক লীগে না রাখার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসায় তাকেও সরিয়ে দেন আওয়ামী লীগ প্রধান। এ ব্যাপারে মোল্লা মো. আবু কাওছার ভোরের কাগজকে বলেন, আমি শেখ হাসিনার কর্মী। তিনি যা বলবেন তাই করব। তবে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ত্যাগী, কর্মঠদের মূল্যায়ণ করবেন। ক্যাসিনোকাণ্ডে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি রাজনীতিবিদ। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে। তবে তা অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে।

আলোচনায় যারা : সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সদ্য দায়িত্ব পাওয়া নির্মল রঞ্জন গুহ, সহসভাপতি মঈন উদ্দীন মঈন ও সহসভাপতি আফজালুর রহমান বাবু। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সদস্য সচিব গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, শেখ সোহেল রানা টিপু ও সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক আবুল ফজল রাজু, সহপাঠাগার সম্পাদক এম এ হান্নান।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ নভেম্বর শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১১ জুলাই সংগঠনটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মোল্লা কাওছার সভাপতি এবং পঙ্কজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক হন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj