নোবেলজয়ী অভিজিৎকে নিয়ে ভারতের কেন এই গাত্রদাহ?

শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিভিন্ন স্তরের নেতারা কুৎসা রটিয়েছেন অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জির নামে। তিনি কংগ্রেসের ‘ন্যায়’ নামের একটি প্রকল্পে তথ্য-সহযোগিতা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সমালোচনার শুরুটা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জির নোবেলপ্রাপ্তির খবরে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, যার মা মারাঠি, স্ত্রী বিদেশি এবং লোকটি নিজে মার্কিন নাগরিক, তাকে আদৌ বাঙালি বা ভারতীয় বলা যায় কিনা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা অন্য কোনো সরকারি পদাধিকারী তখনো একটি টুইটও খরচ করেননি অভিজিতের নোবেলপ্রাপ্তি সম্পর্কে। বরং সোশাল মিডিয়া ভরে উঠতে শুরু করেছিল অভিজিতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাদা ঘাঁটায়। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল যখন বললেন, অভিজিৎ বামপন্থি এবং তার তত্ত্বকে ভারতীয়রা বাতিল করে দিয়েছেন, তখন বোঝাই গিয়েছিল যে এটাই বিজেপির অঘোষিত নীতি। অভিজিতের কৃতিত্বকে খাটো করে দেখানো। সেই পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা এবং দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহার মন্তব্য আদৌ অপ্রত্যাশিত নয়। রাহুল সংবাদ সম্মেলনে হাসতে হাসতে বললেন, অর্থনীতিতে নোবেল পেতে গেলে দুটি বিয়ে করা এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বিদেশি হওয়া অন্যতম আবশ্যিক যোগ্যতা কিনা তিনি জানেন না। একইসঙ্গে খোঁচা দিলেন অভিজিৎ এবং আরেক নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনকে। তা হলে কি বাঙালি হিসেবে গর্ববোধের কোনো জায়গা নেই এই নোবেলপ্রাপ্তিতে? এমন প্রশ্নের জবাবে রাহুল সিনহা বললেন, অবশ্যই এটা দেশের এক প্রাপ্তি। কিন্তু অভিজিতের একটা নিশ্চিত রাজনৈতিক পক্ষপাত রয়েছে। সেখানে নোবেল পুরস্কারকে ঢাল করে অর্থনীতির তত্ত্বকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করায় তাদের আপত্তি। আর কংগ্রেসের ন্যায় প্রকল্পে অভিজিতের তথ্য সহযোগিতা নিয়ে রাহুল সিনহার দাবি, ভারতের মানুষ তো সেই তত্ত্ব খারিজ করেছে!

পীযূষ গোয়েলের মন্তব্যের পর রাহুল গান্ধী টুইট করে অভিজিতের উদ্দেশে বলেছেন, তারা (বিজেপি) ঘৃণায় অন্ধ। একজন পেশাদার সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। আপনি যদি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, তাও তারা বুঝবে না। আর অভিজিতের বক্তব্য, কংগ্রেস তার কাছে তথ্য সাহায্য চেয়েছিল, তাই তিনি দিয়েছেন। একজন পেশাদার হিসেবে। বিজেপি চাইলেও দিতেন। তিনি এবং তার গবেষক দল যখন গুজরাটে বা মহারাষ্ট্রে কাজ করেন, তখন বিজেপি সরকারের সঙ্গেই কাজ করেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত নয়। আর তার যে ব্যক্তিগত চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে, তাতে তিনি দুঃখিত। এছাড়া আর কিছুই বলার নেই তার।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj