চিঠি লেখার সুযোগ থাকলে ফারুকী ভাইকে চিঠি লিখতাম : হুমায়ুন সাধু

শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমরা যখন অভ্যস্ত ছিলাম না তখন চিঠিই যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই চিঠিই কখনো বিনোদনের খোরাক জোগাত, কখনো ব্যথাতুর হৃদয়ে কান্না ঝরাত, কখনো উৎফুল্ল করত, কখনো করত আবেগে আপ্লুত। অসুস্থ হওয়ার আগে ‘প্রথম চিঠি’ বিভাগের জন্য মেলার সঙ্গে কথা বলেছিলেন হুমায়ুন সাধু। তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এটি প্রকাশ করলো মেলাসিনেমা দেখে চিঠি পাঠিয়েছিলাম

ছোটবেলায় খুব ভালো চিঠি লিখতে পারতাম। লিখতামও। একবার সিনেমা দেখে এক মেয়েকে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। তখন সম্ভবত ক্লাস টু কিংবা ফোরে পড়ি। সিনেমাতে নায়িকার যে নাম ছিল সেই মেয়েটারও একই নাম ছিল। তখন মনে হলো, আরে মেয়েটাকে তো চিঠি দিতে হবে! নায়িকার নাম ছিল ‘শবনম’, মেয়েটারও নাম ‘শবনম’। সিনেমার নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। সিনেমায় সুন্দর একটা রোমান্টিক গান ছিল, ওই গানের কিছু লাইন নিজের মতো লিখে তাকে পাঠিয়েছিলাম। এ ছাড়া আমার বড় ভাই-বোনরা দেশের বাইরে থাকত তাদের সঙ্গে প্রায়ই চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ হতো। খুব আবেগময় কথা লিখতাম তাদের।

হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর চিঠি

প্রাইমারি স্কুলে আমার এক বন্ধু ছিল। তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব এত গভীর ছিল যে, শুক্রবার স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে, তার সঙ্গে আমার দেখা হবে না; তাই প্রতি বৃহস্পতিবার আমার জন্য লেখা একটা করে চিঠি আনত সে। কিন্তু স্কুল থেকে বের হওয়ার পর, তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ কমে যায়। সেও আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি। আর স্কুল-কলেজে থাকতে আমিও অনেক সময় অনেক বন্ধুকে চিঠি লিখতাম। কখনো কখনো বন্ধুদের পার্সোনাল চিঠিও লিখে দিতাম। অনেক সময় নাম-ঠিকানা না লিখে বন্ধুর বইয়ের ভাঁজে উড়ো চিঠি রেখে দিতাম। দেখা যেত, ওই চিঠি আমার সামনেই সে পড়ছে, কিন্তু তারা কখনো জানতে পারেনি যে আমিই এই চিঠিটা লিখেছিলাম।

যদি আবার চিঠি লিখি

এক সময় চিঠি লিখতাম, এখন যে আর সেই দিন নেই; তা নিয়ে আমার মধ্যে হাহুতাশ বা আবেগ নেই। কিন্তু এখন যদি চিঠি লেখার সুযোগ থাকত, তাহলে ফারুকী ভাইকে চিঠি লিখতাম। প্রথমত, এই সময়ে আমি যদি কাউকে কিছু বলতে চাই তা একমাত্র ফারুকী ভাইকেই বলতে চাই। দ্বিতীয়ত, আমি যদি তাকে খালি পৃষ্ঠাও পাঠাই- আমার অভিব্যক্তি বা ভাষা ফারুকী ভাই যেভাবে বুঝবে, আর কেউ এভাবে আমাকে কখনো বুঝবে না।

চিঠি নিয়ে প্রিয় সিনেমা

চিঠি নিয়ে আমার প্রিয় সিনেমা ‘লাভ লেটার’। জাপানিজ সিনেমা, পরিচালকের নাম সুনজি ওয়াই। এই সিনেমা যদি কেউ দেখে থাকে অথবা দেখেন, আমার মনে হয় সবারই ভালো লাগবে।

:: রাব্বানী রাব্বি

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj