উৎসবে জমজমাট নাট্যাঙ্গন

শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

রাজধানীর নাটক পাড়া এখন উৎসবে সরগরম। চলতি মাসে দুই উৎসবকে ঘিরে ২০ ধরে জমজমাট অবস্থা বিরাজ করছে ঢাকার নাট্যাঙ্গনে। গত ২০ অক্টোবর শেষ হয় গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব। পরদিনই শুরু হয় মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় আয়োজিত দশ দিনব্যাপী ‘বাংলা নাট্য উৎসব’। গঙ্গা যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ৩৬টি নাট্যদল এবং ভারতের চারটি দলসহ আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, পথনাটকের ১২১টি সংগঠনের প্রায় চার হাজার শিল্পী অংশ নিয়েছে বলে আয়োজকেরা দাবি করেন। উৎসবের আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মাঝে মৈত্রীবন্ধন আরো দৃঢ় করার প্রত্যয়ে অষ্টমবারের মতো এই উৎসবটি হলো। এবার ব্যাপকভাবে সাড়া পেয়েছি। নাটক বা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সংখ্যার বিচারে নয়, মানের বিচারে এবার বেশ কিছু ভালো নাটক, আবৃত্তি প্রযোজনা, সঙ্গীতানুষ্ঠান উপভোগ করেছে দর্শক। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন, পরীক্ষণ থিয়েটার হল, স্টুডিও থিয়েটার হল ও সঙ্গীত আবৃত্তি ও নৃত্য মিলনায়তন এবং বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে মঞ্চনাটক, পথনাটক, আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, মূকাভিনয় পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া উন্মুক্ত মঞ্চের সাংস্কৃতিক পর্ব প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এবং মঞ্চনাটক প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়। উৎসব চলে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।

গঙ্গা যমুনা উৎসব শেষ হওয়ার পরদিনই সোমবার থেকে শুরু হয় আরেকটি উৎসব। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের তিন যুগ পূর্তি উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী ‘বাংলা নাট্য উৎসব’-এর উদ্বোধন করা হয় এদিন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন, পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তন, বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তন ও দনিয়া স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে এ উৎসব চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের পাঁচটি নাটকসহ বাংলা ভাষাভাষীর ৩১টি নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে এ আয়োজনে। মহাকালের সভাপতি মীর জাহিদ হাসান জানান, উৎসবে ভারতের আসাম রাজ্য থেকে ভাবিকাল থিয়েটার, পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবং আমরা থিয়েটার ও রঘুনাথগঞ্জ থিয়েটার গ্রুপ এবং ত্রিপুরা থেকে শুভম নাট্যচক্র ও লারনার্স থিয়েটার অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী দলগুলো হচ্ছে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়, দেশনাটক, প্রাচ্যনাট, থিয়েটার আর্ট ইউনিট, নাট্যচক্র, বুনন থিয়েটার, শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র, আরণ্যক নাট্যদল, থিয়েটার সার্কেল, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা থিয়েটার, ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠী, নাট্যতীর্থ, নাট্যম রেপর্টরি, লোক নাট্যদল (বনানী), সময়, নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বল, বটতলা, অনুরাগ থিয়েটার, চন্দ্রকলা থিয়েটার, নবনাট, পদাতিক নাট্য সংসদ (টিএসসি), বাংলাদেশের পুতুলনাট্য গবেষণা কেন্দ্র, কথক, নাট্যযোদ্ধা ও বাংলা নাট্যদল। মীর জাহিদ হাসান বলেন, ‘মহাকালের তিন যুগে দাঁড়িয়ে আমরা উৎসব আয়োজন করছি বাংলা ভাষাভাষী ৩১টি নাটক নিয়ে বাংলা নাট্য উৎসব। একই উৎসবে ভারতের তিনটি রাজ্য এবং বাংলাদেশের নাটকগুলো উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে বাংলা নাটকের একটি যোগসূত্র রচনা করতে চাই। উৎসবের এ মিলনমেলায় দর্শক ও নাট্যকর্মীরা একত্রে ভারত ও বাংলাদেশের নান্দনিক নাট্য প্রযোজনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অবিরাম নাট্যচর্চায় মহাকাল নাট্যসম্প্রদায় ৪০টি নাট্য প্রযোজনা মঞ্চে এনেছে। ইতোমধ্যে প্রযোজনাগুলোর ১ হাজার ১৯টি প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে। দুটি নাট্য প্রযোজনার শতাধিক মঞ্চায়ন এবং একটি প্রযোজনার ১৫০তম মঞ্চায়ন সম্পন্ন করেছে। মঞ্চে চারটি প্রযোজনা নিয়মিতভাবে মঞ্চায়ন করে যাচ্ছে।

:: শাহনাজ জাহান

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj