নুসরাত হত্যা মামলা : এ রায় হোক নারী নির্যাতন বন্ধে রাষ্ট্রের প্রতিজ্ঞার পথপ্রদর্শক

শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ফেনী জজকোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন। মাত্র ৬২ কর্মদিবসে আলোচিত কোনো মামলার রায় হয়েছে কিনা জানা নেই। এমন রায় প্রমাণ করে অপরাধী যে-ই হোক কারো কোনো ছাড় নেই। আসামি যতই প্রভাবশালী হোক কেউই যে অপরাধ করে পার পাবে না সেটা প্রমাণ হলো। নুসরাত হত্যা মামলার রায় হোক নারী নির্যাতন বন্ধে রাষ্ট্রের প্রতিজ্ঞার পথপ্রদর্শক। চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকা পরা পাঁচ দুর্বৃত্ত। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। গত ২৮ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে ৮৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মামলার কার্যক্রম শেষ করে ৬২ কর্মদিবসে রায় দিয়েছেন আদালত। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর থেকে রাফির কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদ ও সাহসী এক নারীর প্রতিচ্ছবি। সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় থেকে তিনি তার ওপর বর্বরোচিত হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। ইস্পাতকঠিন কণ্ঠে বলেছেন, অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়। আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, নুসরাতের চাওয়া পূরণ হয়েছে, তার আত্মা শান্তি পেয়েছে। এই রায়ে বিচার ব্যবস্থায় দেশের মানুষের নতুন করে আস্থার জায়গা মজবুত হয়েছে। কারণ নুসরাতের করুণ মৃত্যুতে লজ্জার সাগরে ডুবেছিল জাতি। অকাল মৃত্যু হয়েছে একটি স্বপ্নের। শিক্ষায়তনও যে একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে, তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেলেন তিনি। এ দায় আমাদের সবার। রায়ের মধ্য দিয়ে জাতি কিছুটা হলেও দায় থেকে মুক্তি পাবে। আমরা আশা করব এ রায় যেন উচ্চ আদালতেও বহাল থাকে এবং দ্রুত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ভয়ঙ্কর অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই দেশের মানুষ ও নুসরাতের পরিবার-পরিজন স্বস্তি বোধ করবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj