সড়ক ব্যবস্থাপনা : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হওয়া দরকার

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯

নিরাপদ দেশ গড়তে বিভিন্ন কর্মপ্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নজরদারি দৃশ্যমান। মঙ্গলবার ছিল জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এই দিন সকালে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং ওভারটেকিংয়ের মতো অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। কেউ অহেতুক নিয়মের বাইরে গিয়ে গাড়ি বা ট্রাকের আকার পরিবর্তন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। এ ছাড়া স্কুল পর্যায়ে ট্রাফিক আইন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এসব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচা) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিককালে প্রতি বছরই গড়ে ২ হাজারের ওপরে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব দুর্ঘটনায় বছরে গড়ে ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হচ্ছেন। সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এআরআই) গবেষণা বলছে, ৫৩ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের বেপরোয়া গতি। কিন্তু গতি নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে ছোট যানবাহন বন্ধ ও বেপরোয়া যানবাহন চলাচল বন্ধে সাফল্য নেই। দেশব্যাপী অন্তত ৫ লাখ ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, হিউম্যান হলার অবাধে চলছে। এসব যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির নজিরও তেমন নেই। যার ফলে চালকরা ইচ্ছামতো গাড়ি চালান। হাই রিস্ক নিয়ে ওভারটেক করেন। এ ছাড়া চালকদের প্রশিক্ষণেরও অভাব রয়েছে। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পথচারীরাও অনেকাংশে দায়ী। ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস, ওভারপাস থাকার পরও রাস্তার মাঝখান দিয়ে পারাপার হন। যদিও এসব কাজ থেকে বিরত রাখতে আইন রয়েছে। কিন্তু সে আইনের যথাযথ ব্যবহার হয় না। এতে সমস্যা সমস্যাই থেকে যায়। দুর্ঘটনার জন্য যারাই দায়ী হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হওয়া দরকার। এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্যক উপলব্ধি করে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর অনুমোদন দিয়েছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পরিস্থিতির উন্নতি তো দূরের কথা ন্যূনতম শৃঙ্খলা নেই কোথাও। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সমাধানের অযোগ্য কোনো বিষয় নয়। এ জন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক, শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতন হতে হবে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj