ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস : সেরা অভিনয়শিল্পী জয়া-পাওলি, সিয়াম-প্রসেনজিৎ, সেরা চলচ্চিত্র দেবী ও নগরকীর্তন

বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯


বিনোদন প্রতিবেদক : অনন্য এক রাত। সন্ধ্যা থেকেই আলোর ঝলকানি। সেই ঝলকানির মধ্য থেকে কখনো ভেসে আসছে সুরের মূর্ছনা, আবার কখনো নৃত্যের উদ্দামতা। সেই উদ্দামতা রাতের আকাশকেও যেন করে তুলছিল নেশাসক্ত। বাংলাদেশ ও ভারতের চলচ্চিত্র দুনিয়ার রথীমহারথী, তারকা, শিল্পী আর কলাকুশলীদের উপস্থিতিতে রাজধানীর রাতটা হয়ে উঠেছিল রঙিন। সুরের সুধার সঙ্গে নৃত্যের ছন্দে রাতের আকাশটা বর্ণিল হয়েছিল আলোকের ঝর্নাধারায়। জমকালো সেই বিচ্ছুরণে মধুময় এক রাতের সৃষ্টি হলো রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। গত সোমবার সন্ধ্যার সেই আলোকের ঝর্নাধারার পরিসমাপ্তি ঘটে রাত্রি দ্বিপ্রহরে। অনুষ্ঠানে বেস্ট ফিল্ম বাংলাদেশের ‘দেবী’ ও ভারতের ‘নগর কীর্তন’। ভারতের জনপ্রিয় নায়িকা ক্যাটাগরিতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও বাংলাদেশের জয়া আহসান। বেস্ট লিড অ্যাকট্রেস বাংলাদেশের জয়া আহসান ও ভারতের পাওলি দাম। বেস্ট অ্যাকটর লিড রোল বাংলাদেশের সিয়াম ও ভারতের প্রসেনজিৎ। পপুলার অ্যাকটর অব দ্য ইয়ার বাংলাদেশের শাকিব খান ও ভারতের জিৎ। বাংলাদেশ ও ভারতের চলচ্চিত্র দুনিয়ার মানুষদের সম্মানিত করতে টিএম ফিল্মস নিবেদিত ‘ভারত বাংলাদেশ ফিল্ম এওয়ার্ডস ২০১৯’ (বিবিএফএ) প্রদানের মধ্য দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মুভি ওয়ার্ল্ডের তারকারা হাজির হলো এক মঞ্চে। দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের একমঞ্চে সম্মানিত করার এমন আয়োজন বাংলাদেশে এই প্রথম। রাজধানীর বসুন্ধরার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি নবরাত্রি হল-৪ এ অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ওপার বাংলার রঞ্জিত মল্লিক ও প্রসেনজিৎ থেকে শুরু করে হালের ক্রেজ জিৎ, আবীর চ্যাটার্জি, পরমব্রত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পাওলি দাম, নিকিতা গান্ধী, অনির্বাণ, কৌশিক গাঙ্গুলি, দেবজ্যোতি মিশ্র, ইন্দ্রজিৎ সেনগুপ্তসহ এপার বাংলার জয়া আহসান, পরীমনি, পূজা চেরি, নুসরাত ফারিয়া, বিদ্যা সিনহা মীম, মৌসুমী, ওমর সানী, ইমন, নীরব প্রমুখের উপস্থিতি শিল্পের রসে ভিজিয়েছে সমগ্র আয়োজনকে। দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়েই আসরের পর্দা উঠে। এরপর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রজেক্টরে প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জুরিবোর্ডের সদস্য বাংলাদেশের আলমগীর, কবরী, ইমদাদুল হক মিলন, খোরশেদ আলম খসরু ও হাসিবুর রেজা কল্লোল ও অন্যদিকে, ভারতের গৌতম ঘোষ, ব্রাত্য বসু, গৌতম ভট্টাচার্য, অঞ্জন বোস ও তনুশ্রী চক্রবর্তীর হাতে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট প্রদান করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও উত্তরীয় পরিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। আলোচনা পরবর্তী সময়ে শুরু হয় পুরস্কার প্রদান পর্ব। এ পর্বের শুরুতেই চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম ও ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন গৌতম ঘোষ ও প্রসেনজিৎ।

আজীবন সম্মাননায় ভূষিত আনোয়ারা বেগম বলেন, এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ। দুই বাংলা মিলিয়ে এত এত তারকা থাকতে আমাকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে এটা আমি কখনো ভাবিনি। সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। রঞ্জিত মল্লিক বলেন, বাইশ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। তাদেরই এ আয়োজন প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ আয়োজন যেন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। যৌথভাবে সিনেমা নির্মাণের যে প্রয়াস চলছে, তা যেন আরো বেগবান হয়। আরেকটা কথা না বললেই নয়, আমি পৃথিবীর বহু দেশে ঘুরেছি, কিন্তু বাংলাদেশে আসলে যে আতিথেয়তা পাই তা পৃথিবীর আর কোথাও পাই না। অনুষ্ঠানে এ ছাড়াও স্ক্রিপ্ট রাইটার পুরস্কারে ভূষিত হন বাংলাদেশের ফেরারী ফরহাদ ও ভারতের পক্ষে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফারে পুরস্কার পান বাংলাদেশের কামরুল হাসান খসরু ও ভারতের সৃজিত মুখার্জি। ভিডিও এডিটর হিসেবে বাংলাদেশের তৌহিদ হোসেন চৌধুরী ও ভারতের সংলাপ ভৌমিক। বেস্ট মিউজিক ডিরেক্টর বাংলাদেশের হৃদয় খান ও ভারতের বিক্রম ঘোষ। বেস্ট প্লে-ব্যাক সিঙ্গার (পুরুষ) ইমরান ও ভারতের অনির্বাণ ভট্টাচার্য। বেস্ট প্লে-ব্যাক সিঙ্গার (নারী) বাংলাদেশের পক্ষে যৌথভাবে সোমনুর মনির কোনাল ও ফাতেমাতুজ জোহরা ঐশী ও ভারতের নিকিতা নন্দী। বেস্ট পার্শ্বচরিত্রাভিনেতা বাংলাদেশের ইমন ও ভারতের অর্জুন চক্রবর্তী। বেস্ট পার্শ্বচরিত্রাভিনেত্রী বাংলাদেশের জাকিয়া বারী মম ও ভারতে সুদীপ্তা চক্রবর্তী। বিশেষ জুরি এওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশের তাসকিন রহমান ও বিদ্যা সিনহা মীম এবং ভারতের রুদ্র নীল রায় ঘোষ ও আবীর চ্যাটার্জি ও নবনী। শ্রেষ্ঠ পরিচালক বাংলাদেশের নাসির উদ্দিন ইউসুফ ও ভারতের সৃজিত মুখার্জি। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বাংলাদেশের ‘পাসওয়ার্ড’ ও ভারতের ‘ব্যোমকেশ গোত্র’। বছরের জনপ্রিয় নায়িকা বিভাগে পুরস্কার পান ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও পরিমণী। চিত্রগুহণে পুরস্কার পান বাংলাদেশের কামরুল হাসান খসরু ও ভারতের গৈরিক সরকার। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বাংলাদেশের ‘পাসওয়ার্ড’ ও ভারতের ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’।

পুরস্কার প্রদানের ফাঁকে ফাঁকে নাচ, গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ ও ভারতের জনপ্রিয় শিল্পীরা। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ভারতের জি-বাংলা ও বাংলাদেশের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে এটিএন বাংলা ও গানবাংলা টেলিভিশন। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে আছে ওয়ান মোর জিরো। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন কলকাতার মীর আফসার আলী ও গার্গি রায় চৌধুরী।

বিনোদন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj