সেরাদের তালিকায় যাওয়ার প্রত্যয়

বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯

** সাক্ষাতকার > মো. এহসান খসরু : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পদ্মা ব্যাংক **

‘নতুন ব্যবস্থাপনা’, ‘নতুন উদ্যম’, ‘নতুন নতুন লক্ষ্য আর নতুন নাম’- সব নতুনকে সঙ্গে নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বদনাম ঘোচানোর কাজ শুরু করেছে বেসরকারি ব্যাংক ‘দি পদ্মা ব্যাংক’। ব্যাংকটির যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে নতুন ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে পদ্মা ব্যাংক। আগামী বছরে ব্যাংটির ¯েøাগান থাকবে- ‘ডিজিটালভাবে সেরাদের তালিকায় যাওয়ার প্রত্যয়’। পদ্মা ব্যাংকসহ সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে ভোরের কাগজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহসান খসরু দেশের বিনিয়োগ, ব্যাংক খাত, খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মরিয়ম সেঁজুতি।

ভোরের কাগজ : সংকট থেকে তুলে এনে সেরাদের কাতারে পৌঁছানোর পথপরিক্রমা সম্পর্কে কিছু বলুন?

এহসান খসরু : ব্যাংকিং খাতে সংকট আমাদের শুরু থেকেই ছিল। ব্যাংকিং শুরুর সময় যে খেলাপি ছিল, তা এখনো রিকভার করা যায়নি। এর ফলে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছে আমাদের। পরবর্তী সময়ে আমাদের আর্থিক কাঠামো যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, বিনিয়োগের পরিমাণও বেড়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগের ব্যাংকের যত ধরনের সম্পদ এবং ঋণের সমস্যা ছিল সেগুলো আমরা বুক ক্লিনিং প্রসেসে সব হাইলাইট করে ফেলছি। সে সময়ে খেলাপি অনেক বেশি ছিল, ৬০ শতাংশের উপরে। সেটাকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে আমরা একচুয়েল সিচুয়েশনকে সারফেস করলাম বুক ক্লিনিং প্রসেসের মাধ্যমে। ভালো ঋণগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। বাকি যেগুলো মন্দ ঋণ, সেগুলোকে আমরা আলাদাভাবে তদারকি করছি। লুকিয়ে রাখার কোনো অবকাশ রাখিনি। যার কারণে আমরা নতুন ঋণ না দিলেও খেলাপি ঋণ বাড়তি হচ্ছে। আমরা মূলত সত্যিটাকে সামনে নিয়ে এসেছি এবং এখান থেকে উত্তরণের জন্য এখন আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ফারমার্স ব্যাংকের বুকস থেকে এই ব্যাড লোনগুলো যেটা আমরা দেখছি ২০০০ কোটি টাকা প্লাস আমরা সরিয়ে নেব। বেসিক্যালি এই খেলাপি ঋণ রেশিওটা সিগনিফিক্যান্ডলি আমরা কমিয়ে আনব।

ভোরের কাগজ : পদ্মা ব্যাংক সেরাদের তালিকায় পৌঁছাতে কত সময় লাগবে?

এহসান খসরু : পদ্মা ব্যাংক একেবারেই নতুন ব্যাংক। ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে এটার লাইসেন্স হয়। আগের ব্যাংক যেটা কিনে নেয়া হয়েছে, সেখানে যেসব কালিমা ছিল সেগুলো আমরা সরিয়ে নিচ্ছি। পুরনো খেলাপি ঋণগুলো একটি এসেট কোম্পানিকে দিয়ে দেয়ার চিন্তা করছি। এসবের দায়িত্ব পদ্মা ব্যাংক পুরোপুরি নিতে পারবে না। অথবা রাইট অফ করে দিতে হবে। এরপরই আমরা শুরু করব। তাতে ব্যাংকের ক্ষতি হয়তো বাড়বে কিন্তু প্রফিট শুরু হলে লস কাভার করতে সময় লাগবে না। টোটাল রিকনস্ট্রাকশন সময়টা তিন থেকে ৫ বছর লাগবে। অর্থাৎ প্রায় ২০২৫ সালে পদ্মা ব্যাংক হবে অন্যতম সেরা ব্যাংক।

ভোরের কাগজ : আগামী দুমাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ কীভাবে অর্ধেকে নামিয়ে আনবেন?

এহসান খসরু : প্রথমেই বাছাই করব। যে টাকা একেবারেই আসবে না অর্থাৎ যেগুলোর মামলা হয়ে গেছে, সেগুলোকে আমরা রাইট অফ করার চেষ্টা করছি। কারেকশন প্রসেস চলবে। রিকভারি প্রসেস চলবে। কিন্তু বুক থেকে আমরা একেবারেই সরিয়ে দেব। কারণ পুরনো মন্দঋণ টেনে ব্যালেন্সশিট নষ্ট করার কোনো মানে নেই।

আমাদের ব্যাংকের লস সিচুয়েশনটাকে ইমপ্রæভ করতে হবে। আমাদের এডি রেশিওকে ৯০-এর নিচে নিয়ে আসতে হবে। কিছু কন্ডিশন আছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। সিআরআর মেনইটেন করতে হবে। আমরা ৯ মাস ধরে সিআরআর মেনইটেন করছি।

ভোরের কাগজ : গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ কীভাবে করছেন?

এহসান খসরু : পাওনাদারদের সব ধরনের টাকা দিয়ে দিচ্ছি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার মতো পরিশোধ করেছি। এ টাকার একটা অংশ এসেছে আমাদের নতুন ইনভেস্টরদের কাছ থেকে। তারা বন্ড এবং শেয়ার মিলে এক হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ২ হাজার কোটি টাকা আমাদের ডিপোজিট থেকে এসেছে। অর্থাৎ ব্যাংকে নতুন নতুন ডিপোজিট আসছে। বর্তমানে ডিপোজিট আছে ৪ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। সুতরাং ব্যাংক যে দাঁড়াতে পারছে না এ কথা ঠিক না।

ভোরের কাগজ : রিসিডিউলের যে সুবিধা দেয়া হচ্ছে তাতে সাড়া কেমন?

এহসান খসরু : ২ শতাংশ রিসিডিউলে অনেক এপ্লিকেশন জমা পড়ছে। কিন্তু ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টও দিতে চায় না। সেন্ট্রাল ব্যাংক তো সেটা গ্রহণ করবে না। যারা ইচ্ছাকৃত অনিয়ম করেছে তাদের সংখ্যা অনেক বেশি। দেশের প্রায় সব ব্যাংকেই। এদের যত সুযোগই দেন না কেন এরা টাকা দেবে না। এরপর তো ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে লোন নেয়ার বিষয় আছেই।

ভোরের কাগজ : ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ গলার কাঁটা, আপনার মন্তব্য-

এহসান খসরু : মুখে বলে বা সার্কুলার দিয়ে খেলাপি বন্ধ করা যাবে না। খেলাপি বন্ধ করতে হলে আবহাওয়ার মতো আগাম খেলাপির সতর্কবার্তা লাগবে। একটি ইন্টেলিজেন্স বডি লাগবে। যারা বিভিন্ন ব্যাংকে তথ্য এলসি, ঋণ প্রদান বিষয়ে তদারকি করতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য একটি পুলিসি ইন্টেলিজেন্স তৈরি করতে হবে। যারা সৎ হবে।

ভোরের কাগজ : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-

এহসান খসরু : আমি মনে করি, প্রথম সারির ১০ ব্যাংকের ক্যাপিটাল এডুকোয়েসিতে আমরা আছি। ডিপোজিট গ্রোথ রেটে আমরা উঠে আসছি। আমরা বুঝেশুনে ঋণ দেয়া শুরু করব। আমার রিটেইল ব্যাংকিংয়ে নজর দেব। সীমিত আকারে এসএমই ঋণ দেব। এসএমই লোন দিতে ম্যানেজমেন্ট কস্ট অনেক হাই। এ জন্য এ খাতে অনীহা। আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিংকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে ইনসেনটিভ অনেক বেশি থাকবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj