ইপিবির প্রতিবেদন : অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে টি-শার্ট রপ্তানি কমেছে

বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ টি-শার্ট রপ্তানি থেকে আসলেও অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে টি-শার্টের রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) টি-শার্ট রপ্তানি হয়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ শতাংশ কম। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্যজানা গেছে।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে টি-শার্ট রপ্তানি হয়েছে ১৩৪ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ১৪৪ কোটি ৯৬ লাখ ১৯ হাজার ডলারের। ইপিবির দেশভিত্তিক রপ্তানির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যের শীর্ষ দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। দুটি দেশেই বাংলাদেশের তৈরি টি-শার্ট রপ্তানি কমেছে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে। জার্মানিতে কমেছে ২১ ও যুক্তরাষ্ট্রে ৪ শতাংশ।

ইপিবির গত ৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের রপ্তানির তথ্য মতে, গত তিন অর্থবছর ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল টি-শার্ট রপ্তানি। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে টি-শার্ট রপ্তানি হয় ১১৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের। এরপর ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ দুই অর্থবছরেই টি-শার্ট রপ্তানি বেড়েছে। ওই দুই অর্থবছরে টি-শার্ট রপ্তানি হয় যথাক্রমে ১২৭ কোটি ৮০ লাখ ও ১৪৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের। চলতি অর্থবছরে টি-শার্ট রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ডলারের।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে টি-শার্ট মূলত একটি মৌলিক পণ্য। বছরজুড়েই পণ্যটির চাহিদা প্রায় একই রকম থাকে। বছরের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত পণ্যটির ক্রয়াদেশ কিছুটা কম থাকে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশে নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, টি-শার্ট একটি মৌলিক পণ্য, যার চাহিদা সারা বছরই দেখা যায় পশ্চিমা দেশগুলোতে। কিন্তু বর্তমানে টি-শার্টের রপ্তানি কমেছে মূলত প্রতিযোগী দেশে মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে।

নিট পণ্যের অধিকাংশ ক্রয়াদেশ পাকিস্তানে চলে গেছে। এদিকে ক্রয়াদেশ কমার ব্যাপারে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের আরেক সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাওয়া এক সপ্তাহের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বিক্রি করা পণ্য টি-শার্ট। এক সপ্তাহে মূল্য ও পরিমাণ দুই-ই কমেছে ১৭ শতাংশ।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj