কৃষি ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত পেঁয়াজে লাভবান কৃষকরা

বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯

আওয়াল হোসেন, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে : দেশে শুষ্ক মৌসুমে পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট গ্রীষ্মকালীন বারি-৫ পেঁয়াজ উদ্ভাবন করেছে। দেশে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়। তাই এ অবস্থা মোকাবেলা করতে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট বারি-৫ পেঁয়াজ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। এ পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

জানা যায়, ওয়েভ ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ২০১৭ সালের ৮ মার্চ থেকে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে এ পেঁয়াজ চাষ শুরু করে। এ বছর কৃষকরা বারি পেঁয়াজ-৫ এবং শুকসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় খুশি। আগামীতে বারি-৫ জাতের পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা বেশি যুক্ত হবেন বলে আশা করছে মুজিবনগর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

মুজবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুরজ্জামান খান জানান, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক সহায়তায় এবং বেসরকারি সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন ভ্যালু চেইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। এর আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত কৃষকদের দুদিনের উন্নত ব্যবস্থাপনায় বছরব্যাপী পেঁয়াজ চাষবিষয়ক ১ হাজার ৫০০ কৃষককে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এতে কৃষকরা পেঁয়াজ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানতে পারেন।

মুজিবনগর সোনাপুর গ্রামের মৃত ফরমান মণ্ডলের ছেলে মো. আল আমিন জানান, ৪ বছর ধরে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গ্রীষ্মকালীন বারি-৫ জাতের পেঁয়াজের চাষ করে কাঠাপ্রতি সাত মণ হারে উৎপাদন পেয়েছি। গত বছর বারি-৫ পেঁয়াজ চাষ করে এলাকার কৃষকরা বেশ লাভবান হওয়ায় তাদের মধ্যে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের কৃষক আলামিন বলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রীষ্মকালীন বারি পেঁয়াজ-৫ চাষ করে ১০ কাঠা জমিতে গ্রীষ্মকালীন ১৬ হাজার টাকা লাভ করেছি। ইতোমধ্যে দেড় হাজার কৃষক এ পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

কৃষিবিদ নাসীর উদ্দিন জানান, বাংলাদেশে এখন সারা বছর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ করা সম্ভব। আগাম চাষের জন্য মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্য জুন পর্যন্ত বীজতলায় বীজ বপন করতে হয়। নাবি চাষের জন্য জুলাই থেকে আগস্ট মাসে বীজতলায় বীজ বপন করতে হয়। ৩৫-৪০ দিনের চারা মূল জমিতে রোপণ করতে হয়। ৭৫০-১০০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয় এমন স্থানে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ভালো হয়। সব রকম মাটিতেই পেঁয়াজের চাষ হতে দেখা যায়। তবে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত বেলে দোঁআশ বা পলিযুক্ত মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উত্তম। মৌসুম অনুযায়ী পেঁয়াজ চাষ করলে ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে এবং নাবি চাষের ক্ষেত্রে ৯৫-১১০ দিন সময়ের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। সময় মতো সেচ ও সার প্রয়োগ করলে হেক্টরপ্রতি ২০-২৫ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় বলে নাসীর উদ্দিন জানান। উপজেলা কৃষি অফিস (মুজিবনগর মেহেরপুর) সূত্র অনুযায়ী- বর্তমানে বাংলাদেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। এ ক্ষেত্রে বারি-৫ জাতের পেঁয়াজ চাষ করা গেলে সমপরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে মুজিবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান খান জানান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক পরামর্শ ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের পেইস প্রকল্পের আওতায় বছরব্যাপী পেঁয়াজ উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের মাধ্যমে কৃষকরা পেঁয়াজের ভালো ফলন ও দাম বেশি পাচ্ছেন। এ প্রকল্প চালু থাকলে পরবর্তী সময়ে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরো বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj