গুরুদাসপুরে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন

মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯

মো. মাজেম আলী মলিন, গুরুদাসপুর (নাটোর) থেকে : উপজেলার সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২-৪ জন গর্ভবতী মায়ের সফল সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতক ভূমিষ্ঠ হলেও রোগীর স্বজনদের কোনো টাকা-পয়সা খরচ করতে হচ্ছে না। এমন দাবি গুরুদাসপুর উপজেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. রবিউল করিম শান্তর।

তিনি জানান, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্রের প্রায় শতভাগই হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। সরেজমিন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে আলাপকালে দাবির শতভাগ না হলেও বেশির ভাগই সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

রোগীর স্বজনরা জানান, স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ খুবই স্বল্প মূল্যের জরুরি কিছু ওষুধ ছাড়াও উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ হাসপাতাল থেকেই নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। এত সস্তায় সফল সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার উপজেলার আর কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতালেই হয় না বলে জানান তারা।

জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ছোট-বড় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন গর্ভবতী নারীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হলে হাসপাতালে দুই থেকে তিন দিন থাকা, খাওয়া-দাওয়াসহ সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২০ হাজারের বেশি টাকা বিল পরিশোধ করতে হয়। খরচ বেশি হওয়ায় অপেক্ষাকৃত দরিদ্র রোগীদের সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়।

হাসপাতালটির সিজারিয়ান কার্যক্রম শুরু হয় ২০০১ সালে। ১৩৫টি সিজারিয়ান অপারেশনের পর ভালো ডাক্তারের অভাব এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০১০ সালে ওই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি এলাকার অসহায় হতদরিদ্র পরিবারগুলোর কথা বিবেচনা করে গত ৫ জুলাই থেকে স্থানীয় সাংসদ নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের হস্তক্ষেপে এই কার্যক্রম আবারো শুরু হয়। ৫ জুলাই থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ মাসে ১৮টি সিজারিয়ান অপারেশান, ফিসটুলা অ্যাপেনডিক্স ১২টিসহ মোট ৩০টি সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইনি ইমার্জেন্সি অপারেশন থিয়েটারে ৪টি অপারেশন হয়েছে। থিয়েটারসংলগ্ন পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে আলাপকালে উপজেলার ধারাবারিষা গ্রামের মো. মাসুদুর রহমান জানান, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও টুকটাক ওষুধপত্র ছাড়া তাদের কোনো প্রকার টাকা-পয়সা খরচ করতে হয়নি। তবে যমজ দুটি পুত্র সন্তান জন্ম হওয়ার খুশিতে আয়া, নার্স ও হাসপাতালে আগত লোকজনের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন তিনি। উপজেলা সদরের খামার নাচকৈড় মহল্লার রিকশাচালক মো. মিন্টু হোসেনের স্ত্রী রুমা খাতুন গাইনি বিভাগে ভর্তি হন একই দিনে। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের কোলজুড়ে ছেলে শিশুর জন্ম হয়। সর্বসাকুল্যে তার ১ হাজার ৫০ টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে।

গুরুদাসপুর হাসপাতালের টিএইচও ডা. মো. মোজাহিদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গরিব রোগীদের কথা চিন্তা করে আবার অপারেশন শুরু হয়েছে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj