প্রকল্প সম্প্রসারিত হচ্ছে : ছিটমহলের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পাওয়া দেশের ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এসব ছিটমহল এলাকায় পিছিয়ে পড়া অবকাঠামো উন্নয়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ‘পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার (বিলুপ্ত ছিটমহল) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প। বর্তমানে প্রকল্পটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

সূত্রে জানা যায়, ‘পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার (বিলুপ্ত ছিটমহল) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পটি ১৮০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুনে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। পরে ব্যয় একই থাকলেও চলতি বছরের জুনে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ২০১৮ সালের ১৯ জুন প্রকল্পটি অনুমোদন করেন। এর মধ্যেও বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় এখন আবারো সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছিটমহল এলাকার মানুষ প্রায় ৪৪ বছর বিভিন্ন নাগরিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সুবিধাবঞ্চিত ছিল। ছিটমহল এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এবং প্রকল্প এলাকাগুলো সীমান্তবর্তী ও দুর্গম হওয়ার কারণে ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত সব কাজ এখনো পর্যন্ত শেষ করা সম্ভব হয়নি। ছিটমহল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো উন্নয়নের জন্য মূল ডিপিপি ও প্রথম সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ণের সময় ছিটমহলগুলোর সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রস্তাব করা হলেও ছিটমহলগুলোর এলাকায় পূর্ণাঙ্গ রোড নেটওয়ার্ক তৈরি হয়নি। এসব কারণে রোড নেটওয়ার্ক শেষ করার জন্য কয়েকটি সড়ক ও সেই সঙ্গে আরো কয়েকটি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রকল্পভুক্ত অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য মোট ২২৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি দ্বিতীয়বার সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়, এই প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ২১০ দশমিক ৩৩১ কিলোমিটার সড়ক, ৭২৫ দশমিক ৬৩ মিটার ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ, ছয়টি কমিউনিটি সেন্টার, ছয়টি মন্দির, ছয়টি ঘাট নির্মাণ, তিন কিলোমিটার খাল খনন, পুনঃখনন, তিনটি শ্মশানঘাট, দুটি কবরস্থানের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। মূল ভূখণ্ড থেকে ছিটমহল অধিবাসীরা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে প্রাথমিকভাবে কেবল গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর নির্বাচন করায় ছিটমহল এলাকায় সড়কগুলোর একটি যথাযথ নেটওয়ার্ক তৈরি হয়নি। অসম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো তৈরির মাধ্যমে ছিটমহলের সড়কগুলোর সঙ্গে অন্য সড়কগুলোর নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য কিছু রাস্তার সংযোজন প্রয়োজন।

এ ছাড়া ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত ১৫টি মসজিদের মধ্যে ১৩টি মসজিদের কাজ শেষ হয়েছে ও দুটির কাজ চলমান রয়েছে। ছয়টি মন্দিরের মধ্যে পাঁচটি মন্দিরের কাজ শেষ হয়েছে, বাকি একটির কাজ চলমান রয়েছে। ছিটমহল এলাকার যেসব গ্রামে মসজিদ, মন্দির, শ্মশান, কবরস্থান ইত্যাদি সামাজিক অবকাঠামো প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ছিল না, সেসব এলাকার ৯টি মসজিদ, তিনটি মন্দির, দুটি কবরস্থান ও একটি শ্মশান প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj