দ্বিতীয় হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল শুরু বুধবার

মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দেশে দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী তাঁতপণ্যের মেলা ‘হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল-২০১৯’। গুলশানের গার্ডেনিয়া গ্রান্ড হলে আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলা শেষ হবে আগামী ২৬ অক্টোবর। এসএমই ফাউন্ডেশন ও এসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশ (এএফডিবি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করছে।

তাঁতপণ্যের ব্যবহার, প্রচার, প্রসার, বাজারজাতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রস্তুতকারক, ডিজাইনার, ক্রেতাদের মধ্যে মেলবন্ধন স্থাপন ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য বিলুপ্তিরোধ- এ মেলার মূল উদ্দেশ্য। রাজধানীর গুলশানের খাজানা গার্ডেনিয়া গ্রান্ড হলে আগামী বুধবার বিকেল ৫টায় এই ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বিশেষ অতিথি শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কে এম হাবিব উল্লাহ। চার দিনব্যাপী এ ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় দিন ২৪ অক্টোবর শুধুমাত্র বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে যেখানে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও কর্মকর্তাসহ বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দিনটিকে ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ডে হিসেবে অবহিত করা হয়েছে। এ দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এ ছাড়া ২৬ অক্টোবর বিকেল ফেস্টিভ্যালটির সমাপনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার খাজানা গার্ডেনিয়া গ্র্যান্ড হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর বিস্তারিত তুলে ধরেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম ও এসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশের সভাপতি মানতাশা আহমেদ।

অনুষ্ঠানে ডিজাইনারদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন- কুহু প্লামোন্দন, কণকচাঁপা চাকমা, বিপ্লব সাহা, শামীম আখতার, নুজহাত ইউসুফ বারী, চন্দ্র শেখর সাহা ও শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক কায়কোবাদ রানা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের উৎসবে মোট ৪৫টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা, বেনারসি শাড়ি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, জামদানি শাড়ি, সিরাজগঞ্জের শাড়ি-লুঙ্গি-গামছা, মণিপুরী কাপড়, রাঙ্গামাটির চাকমাসহ অন্যান্য কাপড়, খাদি, রাজশাহী সিল্ক, পাটজাত পণ্য, শতরঞ্জি পণ্য, বাঁশ-বেত পণ্য, পটচিত্র প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। ফেস্টিভ্যালে তাঁতিদের উৎপাদিত পণ্যের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় চিত্রশিল্পী ও ডিজাইনারদের তৈরি আকর্ষণীয় দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য বুননের প্রক্রিয়াও প্রদর্শন করা হবে। এ ছাড়াও লোকজ শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, সেমিনার, ক্রেতা-বিক্রেতা ও ম্যাচমেকিংয়ের ওপর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই প্রদর্শনী।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁতশিল্পের ব্যবহার আমাদের ব্যবহারিক জীবন থেকে হারিয়ে গেলে আমাদের জীবনে স?াংস্কৃতিক শূন্যতা দেখা দেবে। আমাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্রে যে সংস্কৃতির সঙ্গ আছে, তা তুলে ধরা হবে এই উৎসবের মাধ্যমে। যাতে এসব পণ্য বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। ব্যবসা-বাণিজ্যকে সংস্কৃতিবান্ধব করা আমাদের উদ্দেশ্য। এসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশের সভাপতি মানতাশা আহমেদ বলেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্যগুলোর প্রসারে যা যা করা দরকার সেগুলো করে যাচ্ছি। এরই আলোকে আজকের এই উৎসব। দেশের তাঁতশিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে আমাদের এই আয়োজন।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj