জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে এনএসডিএ : উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে দক্ষতার ঘাটতি কমানো প্রয়োজন

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দক্ষতার ঘাটতি বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের জন্য একটি বড় বিষয়। যদিও প্রতিবছর ২ দশমিক ২ মিলিয়ন যুবক চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। তাদের বেশিরভাগ বেকার থাকেন বা উপযুক্ত দক্ষতার অভাবে দেশে-বিদেশে স্বল্পআয়ের চাকরিতে নিযুক্ত হন। কারণ তারা চাকরির বাজারের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হন। তাই শুধু দক্ষ জনবল তৈরি করলেই হবে না, বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন কাজের সুষ্ঠু সমন্বয়।

গতকাল রবিবার ‘দক্ষতা বিকাশের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা বিশেষজ্ঞর পাশাপাশি উচ্চ সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারিী খাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগীরা কর্মশালায় অংশ নেন এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে সুপারিশ করেন। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) সোনারগাঁও হোটেলে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) মো. ফারুক হোসেন।

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান জানান, দেশের তৈরি পোশাক খাতে মধ্যম পর্যায়ে অনেক বিদেশি কর্মরত, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক। কিভাবে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করে দেশি শিল্পে নিয়োজিত করা যায় সেই কৌশল ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু বিদেশের বাজারের জন্য দক্ষতা নয়, দেশি শিল্প উপযুক্ত শ্রমিক তৈরি করতেও কর্মপন্থা হাতে নেয়া জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে জনবল পাঠাতে যে দক্ষকর্মী তৈরি করা হয়, সমন্বয়ের অভাবে শতভাগ পাঠানো যায়নি বলে মনে করেন সালমান এফ রহমান। কর্মশালায় বলা হয়, প্রতি বছর চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে ২২ লাখ নতুন মুখ। কিন্তু বেশিরভাগই বেকার থাকেন দক্ষতার অভাবে। কর্মদক্ষতা না থাকায় বিদেশেও স্বল্পআয়ের চাকরিতে যোগ দেন, কারণ চাকরি বাজারের চাহিদা পূরণে তারা ব্যর্থ হন। তাই আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জোর দিতে হবে। বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষতার ঘাটতি আছে। এটি উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ হওয়ার পথে একটি বড় অন্তরায়। ২০২০ সালের মধ্যে দেশীয় দক্ষ শ্রম চাহিদা ৭২.৪১ মিলিয়ন হবে। এর মধ্যে কৃষিতে ২.৯ মিলিয়ন, নির্মাণ খাতে ৪.৪২ মিলিয়ন এবং তৈরি পোশাক খাতে ৫.৯৮ মিলিয়ন। পোশাক খাতের পর কৃষি খাতে দক্ষতার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। সূচনা বক্তব্যে মো. ফারুক হোসেন বলেন, সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের দেয়া জাতীয় দক্ষতা প্রশিক্ষণ গুলিতে কমপ্ল্যায়েন্স নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দক্ষতা বিকাশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৯-এর আওতাধীন এনএসডিএ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারের চাহিদা মেটাতে উপযুক্তভাবে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের জন্য জাতীয় দক্ষতার একটি অ্যাকশন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে চলেছে তিনি যোগ করেন।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj