তামান্নার ‘অচিন’

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

নাসিমূল আহসান

তামান্না ইসলাম অলি। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হবে। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখে হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার্সও করেছিলেন। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি। হয়েছেন নারী উদ্যোক্তা। গড়ে তুলেছেন বুটিক হাউস ‘অচিন’। ঢাকাই জামদানি, কাতান শাড়ি আর দেশি পণ্যকে দুনিয়ার সামনে হাজির করতে ২০১১ সাল থেকে ‘অচিন’ নিয়ে পথচলা।

জন্ম ১৯৮০ সালে। রাজবাড়ী জেলার রাজপুর গ্রামে। পড়াশুনা করতে ২০০৪ সালে প্রথম ঢাকায় আসেন। হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করার পর ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ে হাউস টিউটর হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। এরপর ২০০৯ সাল। বিয়ের পিঁড়িতে বসা। সংসারের নানা জটিলতায় এ সময় চাকরিটা আর নিয়মিত করতে পারলেন না। ব্র্যাকের চাকরি ছেড়ে শুরু করলেন সাংবাদিকতা। এ সময় মা হলেন তামান্না। নাম রাখলেন ‘অচিন’। ঢাকার একক পরিবারে সন্তানকে দেখাশুনা সব ছেড়েছুড়ে দিলেন। কিন্তু নিজের কিছু একটা করবার আগুন কিছুতেই নিভছিল না বুকের ভেতর! মনোস্থির করলেন ব্যবসা করবেন, কিন্তু সেটাতে বাদসাধলেন অনেকেই। কিন্তু দমার পাত্র নন তামান্না। ছেলের নামে নিজের প্রতিষ্ঠানের নাম রাখলেন। শুরু হলো নারী উদ্যোক্তা হিসেবে টিকে থাকার লড়াই। প্রথমে পাটপণ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন। এরপর প্রেমে পড়েন ঢাকাই জামদানির। এখন পাটপণ্য, দেশীয় জামদানি, কাতান শাড়ি প্রভৃতি দেশি পণ্য নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা মেলায় অংশগ্রহণ করছেন। উদ্যোক্তারা যাতে তাদের পণ্যকে বিক্রি করতে পারে, সে জন্য ‘সাতকাহন ইভেন্টস’ নামের আরো একটি উদ্যোগ দীর্ঘদিন পরিচালনা করে আসছেন অলি, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন জায়গায় দেশিপণ্য ও হস্তশিল্পের মেলা আয়োজন করেন তিনি।

তামান্না জানান, মেয়েরা ব্যবসা করবে, এটা এখনো আমাদের সমাজ খুব সহজে দেখে না। যেখানে পুরুষদের ব্যবসাকে ফুলটাইম কাজ হিসেবে দেখা হয়, সেখানে মেয়েরা ব্যবসা করতে গেলে সেটাকে পার্টটাইম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঘর-সংসার সামলে তাকে ব্যবসা করতে হয়। নিজের প্রতিষ্ঠান ‘অচিন’ নিয়ে তামান্নার অনেক স্বপ্ন। তিনি ‘অচিন’কে একটি দেশি পণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান, যেখানে দেশি জামদানি, কাতানের পসরা থাকবে। মানুষ মুগ্ধ হয়ে দেশি পণ্য দেখবে। কিনবে। এ ছাড়া বাংলাদেশি পণ্যকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টাটাও জারি রেখেছেন এই উদ্যোক্তা। তামান্না বলেন, দেশের বাইরে বাংলাদেশি পণ্যকে পৌঁছে দিতে চাই। বিশেষ করে ঢাকাই জামদানি নিয়ে বহির্বিশে^ কাজ করতে চাই।

সমাজ, সংসার সামলে নারী উদ্যোক্তাদের নানা প্রতিক‚লতা ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। এই এগিয়ে যাওটাই এখন তামান্নার প্রতিদিনকার স্বপ্ন। চেষ্টা। নিজের সন্তানের নামে তৈরি প্রতিষ্ঠান ‘অচিন’কে সন্তানের মতো পেলে-পুষে বাড়িয়ে চলছেন ব্যবসার পরিসর। স্বপ্ন দেখার জানালা।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj