ওমর ফারুককে অব্যাহতি

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম জড়ানোর কারণে সমালোচিত যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আসন্ন সম্মেলনে প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে। আর সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে করা হয়েছে সদস্য সচিব। গতকাল রবিবার গণভবনে যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যুবলীগের বয়সসীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে ৫৫ বছর। নির্ধারিত সময় ২৩ নভেম্বরই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নেতৃত্বে কার্যনির্বাহী কমিটির সবাই সদস্য হিসেবে থাকবেন। যুবলীগ থেকে ওমর ফারুক চৌধুরী বহিষ্কার কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সম্মেলনের প্রস্তুতি নেবে। সন্ধ্যা থেকে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে ফজলে নূর তাপসের নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের জানান, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বা চেয়ারম্যান কাউকে করা হয়নি।

এর আগে বিকাল ৫টায় গণভবনে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী তুলে ধরে সবাইকে নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। মাগরিবের নামাজের সময় প্রধানমন্ত্রী নামাজ পড়ে আসার পর মূল বৈঠক শুরু হয়। যুবলীগের আসন্ন কাউন্সিলের পরিপ্রেক্ষিত ও মহানগর কমিটির কাউন্সিল নিয়ে কথা বলেন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বৈঠকে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবত। তাকে সমর্থন করে বক্তব্য দেন সুব্রত পাল, আমির হোসেন গাজী, নিলিখ রঞ্জন গুহ, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, বেলাল হোসেন, ফারুক হাসান তুহিন প্রমুখ। বৈঠকে শেখ হাসিনা যুবলীগের বয়স ৫৫ বছর নির্ধারণ করে দিলে প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান এবং ফারুক হোসেন বয়স বাড়ানোর কিছু যুক্তি তুলে ধরেন। তবে শেখ হাসিনা তা আমলে না নিয়ে সর্বোচ্চ বয়স ৫৫ বছর নির্ধারণ করে বলেন, যুবকরাই যুবলীগ করবে। কেন্দ্র থেকে জেলায় জেলায় আমরা তরুণ নেতৃত্ব চাই।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিতর্কিত ও অভিযুক্ত কেউ যেন কোনো পদে না থাকতে পারে। সম্মেলনের জন্য যেসব উপকমিটি করা হবে, তাতেও যেন এদের কেউ স্থান না পান। যুবলীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্যাসিনোর বিষয়ে তোমরা এত দিন আমাকে জানাওনি কেন? তোমরা তো আমার এখানে এসেছ, কথা হয়েছে। তোমরা না জানালেও এসব আমি জানতাম। আমার আত্মীয় হোক, পরিবারের লোক হোক আর দলের লোক হোক- এসব ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, কেউ ছাড় পাবে না। আমি এসব সহ্য করব না। যে অভিযান চলছে এটা চলমান থাকবে। দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে। এটাই আমার মিশন। সরকারের কোনো অর্জন আমি কারো অপকর্মে ¤øান হতে দেব না।

সূত্র জানায়, যারা দলীয় পদ ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যারা অপকর্ম করেছে, দুর্নীতি করেছে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত ছিল, তাদের ছাড়া হবে না। কারো কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে না। আমার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও আদর্শ কারো অপকর্মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেব না। অন্যায়-অপকর্ম করে গাড়ি-বাড়ি, পোশাক ব্যবহারের কোনো মূল্য নেই। কোনো অপরাজনীতি বরদাশত করব না। শেখ হাসিনা বলেন, আমি সবই জানি। কি হচ্ছে, কে কি করছে এটা আগে থেকেই জানি। জেনে-শুনেই ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভেবেচিন্তেই নিয়েছি। এগুলো নিয়ে আর কথা বলার দরকার নেই। বৈঠকে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবুল বাশার মহানগরের সম্মেলন নিয়ে কথা বললে শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় যুবলীগের সম্মেলনের পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনের নির্দেশনা দেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, সংগঠনের দুর্নীতি নিয়ে তোমাদের আগেই কথা বলা উচিত ছিল। তোমরা বলনি। এখন আর কাদা ছোড়াছুড়ি করে লাভ নেই। সংগঠনের স্বচ্ছতা বজায় রাখো। যুবসমাজের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন তোফায়েল আহমেদ।

গণভবনে যুবলীগের ৩২ নেতা : বৈঠকে যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ২১ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুইজন ও ৯ জন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ মোট ৩২ জন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ শামসুল আবেদীন, শহিদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, এডভোকেট বেলাল হোসাইন, আলতাব হোসেন বাচ্চু, চয়ন ইসলাম, ড. আহম্মেদ আল কবির, মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, আবুল বাশার, মোহাম্মদ আলী খোকন, অধ্যাপক এ বি এম আমজাদ হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নিখিল গুহ, শাহজাহান ভূঁইয়া মাখন, এডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ডা. মোখলেছুজ্জামান হিরু, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ, আমির হোসেন গাজী, বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, আবু আহম্মেদ নাসিম পাভেল, আসাদুল হক, ফারুক হাসান তুহিন, এমরান হোসেন খান ও আজহার উদ্দিন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj