বায়ুদূষণ নীরবে কেড়ে নেয় প্রাণ

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

বিশ^ব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে নানা বিরূপ প্রভাবসহ মানবসৃষ্ট পরিবেশ দূষণের কবলে পড়ে ক্রমশ হুমকির মুখে এগিয়ে চলছে জনজীবন। অপরিকল্পিত নগরায়ন, ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও দ্রুত শিল্পায়নের এই অশুভ প্রতিযোগিতার করাল গ্রাসে পড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে, লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে দূষণ। আমাদের দেশও দূষণে আক্রান্ত, জনমানবের বসবাসের অযোগ্য বলে বিবেচিত। এক জরিপে বিশে^র দ্বিতীয় দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে ঢাকার নাম উঠে এসেছে। গ্রিনপিস ও এয়ারভিজ্যুয়ালের গবেষণা মতে, বায়ুদূষণজনিত রোগের কারণে প্রতি ঘণ্টায় ৮শ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং একই কারণে বছরে বিশে^ ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে। মানুষের জীবন সংহার ছাড়াও বায়ুদূষণের ফলে বিশ^ব্যাপী চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ২২৫ বিলিয়ন ডলার।

ঢাকার বাতাসে সাদা চোখে যে ধুলা দেখা যায় তা শুধুমাত্র মাটির ক্ষুদ্র কণা নয়। এর মাঝে মিশ্রিত আছে নানা ধরনের সূ² রাসায়নিক বস্তুকণা। এসব ক্ষতিকর উপাদানগুলোর ব্যাপকহারে নিঃসরণ শহরে বসবাসকারী বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। এতে ফুসফুসের ক্যান্সার থেকে শুরু করে স্ট্রোক, হৃদযন্ত্র ও অ্যাজমাসহ শ^াসতন্ত্রের মারাত্মক ব্যাধির কারণ হতে পারে। ঢাকার বাতাসে সিসাজনিত দূষণ জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে কমপক্ষে হাজারগুণ। ব্যাপক সিসাদূষণের ফলে শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত ও ¯œায়বিক ক্ষতি হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযানের অনিয়ন্ত্রিত কালো ধোঁয়া বাতাসে সবচেয়ে বেশি কার্বন-মনোক্সাইডের বিস্তার ঘটায়। এসব উৎস থেকে সৃষ্ট মিথেন, ইথেলিন বাতাসে মিশ্রিত হয়ে প্রাণীদেহে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

বাতাসকে দূষণমুক্ত রেখে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য জরুরি নির্মাণাধীন নতুন ভবন ও রাস্তাঘাট থেকে উৎপন্ন ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ করা। শিল্প-কলকারখানাকে শহর থেকে দূরে স্থাপন, কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণসহ শিল্পবর্জ্যরে নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাসহ যানবাহনে সিসামুক্ত জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। ইটের ভাটা স্থাপন এবং ভাটায় চিমনি ব্যবহারের মাধ্যমে কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে যথাযথ নিয়ম মেনে চলার নিশ্চয়তা বিধান অত্যাবশ্যক। জীবাশ্ম জ¦ালানির বদলে নবায়নযোগ্য জ¦ালানি ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তার পাশে উন্মুক্ত ডাস্টবিন স্থাপন বন্ধ করতে হবে। নদীর পানিতে বর্জ্যরে মিশ্রণ রোধ করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। বায়ুদূষণ রোধ তথা পরিবেশ সংরক্ষণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশনসহ বেসরকারি সেবাদানকারী সংস্থাসমূহকে সম্পৃক্ত করে আপামর জনগণকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

প্রকৌশলী, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

দিল্লিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

একজন সৃজনশীল সুভাষ দত্ত

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

ফাহিম ইবনে সারওয়ার

গভীর সংকটে জাবি

Bhorerkagoj