গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব : শেষ দিনটি ছিল প্রাণবন্ত জমেছিল শিল্পীদের আড্ডা

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ও ভারতের মৈত্রী এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন আরো দৃঢ় করার প্রত্যয়ে ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিল অষ্টমবারের মতো গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব-২০১৯। ৮ দিন শিল্পকলার একাডেমি থেকে বেইলী রোডের নাটক স্মরণি ছিল শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের পদচারণায় মুখর। গতকাল শেষ দিনটি ছিল আরো প্রাণবন্ত। এপার বাংলা ওপার বাংলার শিল্পীদের মধ্যে আড্ডা জমেছিল বেশ। শিল্পকলার চেনা পরিবেশ অনেকটা অচেনাই ঠেকছিল। সন্ধ্যার আঁধার যতই ঘনিয়ে আসছিল, মিলন মেলার মুখরতা ধীরে ধীরে ¤øান হয়ে আসতে থাকে।

ভারতের ৫টি, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ৩৬টি নাট্যদলসহ আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, পথনাটকের ১২১টি সংগঠন এই আট দিনব্যাপী মাতিয়ে রাখে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সাম্মানিত সভাপতি রামেন্দু মজুমদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন কেরামত মওলা, নাট্যজন দেবপ্রসাদ দেবনাথ, নাট্যজন ঝুনা চৌধুরী, নৃত্যশিল্পী মিনু হক, নাট্যজন আহাম্মেদ গিয়াস। ধন্যবাদ দেন গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব পর্ষদের সদস্য সচিব নাট্যজন আকতারুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ।

উৎসবের সমাপনী দিনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সন্ধ্যায় ‘ভাগের মানুষ’ নাটকটির প্রদর্শনী হয়। পাকিস্তানের বিখ্যাত লেখক সাদত হাসান মান্টোর ছোট গল্প ‘টোবাটেক সিং’ অবলম্বনে এর নাট্যরূপ দিয়েছেন মান্নান হীরা এবং নির্দেশনা দিয়েছেন আলী যাকের।

ভাগের মানুষ নাটকে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের কয়েক বছর পরের ঘটনাকে তুলে ধরা হয়েছে। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তেজনা যেমন কমেনি, তেমনি সা¤প্রদায়িক বিষবাষ্পের তেজও নিভে যায়নি। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতায় মানুষকে বেঁধে ফেলে এক ধরনের নাগরিক স্বস্তি দেয়ার প্রয়াস শুরু হয়েছে মাত্র, অথচ হতাশা, ক্ষোভ, যন্ত্রণা, প্রিয়জন হারানোর বেদনা তখনো জ্বলজ্বল করছে মানুষের বুকে। মানুষের ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, প্রেমকে দ্বিখণ্ডিত করে উপমহাদেশের এই মাটিতে রচিত হয় পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি রাষ্ট্র। অথচ দেশভাগ মানেই তো মানুষের ভাগ, মানচিত্রের ভাগ, ভূগোলের ভাগ।

ভাগের মানুষ নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে ছিলেন পাভেল ইসলাম, রিয়াজ মাহমুদ জুয়েল, আকতারুজ্জামান, রেজাউর রহমান, ফখরুল ইসলাম, মানসুরা রশীদ, তোফায়েল সরকার, সুনীতা বড়ুয়া, মাকসুদুল বারী, আনোয়ার, মাসুম, দাউদ, রিংকু, মৌসুমী, সোনিয়া প্রমুখ।

জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় আরণ্যক নাট্যদলের প্রযোজনা ‘ময়ূর সিংহাসন’। স্টুডিও থিয়েটার হলে থিয়েটার ৫২-এর প্রযোজনা ‘নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে’। এ ছাড়া জাতীয় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যায় এবং মুক্তমঞ্চের অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেলে।

উৎসবটিতে সহযোগিতা করে সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj