পারিবারিক হত্যাকাণ্ড বাড়ছে : মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে নিতে হবে পদক্ষেপ

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে পারিবারিক হত্যাকাণ্ড। বাবা-মায়ের হাতে সন্তান হত্যার ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি সন্তানের হাতে জন্মদাতা বাবা-মায়ের প্রাণহানিও ঘটছে। পরকীয়ার কারণে স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন হওয়ার ঘটনাও কম নয়। গত দুুদিনে গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, আড়াই বছরের ঘুমন্ত শিশু রহমতকে তুলে নিয়ে ধানক্ষেতে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার একটি গ্রামে শুক্রবার রাতে নির্মম এ ঘটনাটি ঘটে। সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড বলে দাবি পরিবারের। অন্যদিকে মা সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে স্বীকৃত অথচ সেই মা নিজের নবজাতক শিশুকন্যাকে হত্যা করে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঠাকুরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া পারিবারিক কলহের জের ধরে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর এলাকায় স্বামী ও সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। এমন পারিবারিক ও সামাজিক হত্যাকাণ্ড প্রায়ই গণমাধ্যমে খবর হয়ে আসছে। একটি ঘটনার নৃশংসতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আরেকটিকে। এসব কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতির দৃষ্টান্তই নয়, সামাজিক অসুস্থতারও লক্ষণ। এসব ঘটনা বলে দেয় মানুষের নৈতিক স্খলন, লোভ ও হিংস্রতার ভয়াল রূপের কাছে টিকতে পারছে না সামাজিক কিংবা পারিবারিক বন্ধন। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক বন্ধনে চিড় ধরা, অস্থিরতা ও পারিবারিক দ্ব›দ্ব-টানাপড়েনে আপনজনকে খুনের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে এর পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে হতাশা, পরকীয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়া, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি। নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে পারিবারিক বন্ধন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে সমাজে বেড়ে চলেছে অপরাধও। এই অপরাধ এখন পরিবারে ঢুকে পড়েছে। অন্যদিকে সমাজে ভোগবাদী প্রবণতা বাড়াও এর একটি কারণ। সমাজের একাংশ এতটাই ভোগবিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, এই সমাজে পারিবারিক কাঠামো থাকলেও তা নামমাত্র। কোনো ধরনের স্বাভাবিক বোঝাপড়া তাদের মধ্যে নেই। ফলে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা-সন্তানের মধ্যেও স্নেহের বন্ধন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারিবারিক বন্ধন জোরদার করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। চাহিদা এবং প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান কমাতে হবে। সমাজের বিদগ্ধজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। পারিবারিক, সামাজিক অস্থিরতা দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য যেমন অশনি সংকেত হয়ে দেখা দিচ্ছে তেমনি অবক্ষয়ের চরম অবস্থার জানান দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj