ঢাকায় সিএনজি অটোরিকশা চলছে সার্জেন্টদের নামে : একই নম্বরের একাধিক গাড়ি

রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

আসলাম রহমান : রাজধানীতে অনুমোদনহীন, বাতিল ও একই নম্বরের একাধিক সিএনজি অটোরিকশা চলছে খোদ কতিপয় ট্রাফিক সার্জেন্টের নামে। প্রতি গাড়িতে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক দাবি করা সার্জেন্টের মোবাইল নম্বরও রয়েছে। রাজধানীর ৪টি বিভাগে ৫০০ টাকা করে ২ হাজার টাকা দিয়ে দিনভর চলছে এসব গাড়ি। অজ্ঞাত কারণে এসব সিএনজির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এতে সাধারণ সিএনজি ব্যবসায়ীরা চালক হারাচ্ছেন, পাশাপাশি তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সূত্র জানায়, রাজধানীতে একেকজন ট্রাফিক সার্জেন্টের নামে ১০/১২টা করে সিএনজি অটোরিকশা চলে। এগুলোর মধ্যে একটির মালিক হয়তো তিনি। আর বাকিগুলো রাজধানীর বাইরের, চোরাই, স্ক্র্যাব (বাতিল) করা ও একই নম্বরের। আবার কখনো নিজেদের ইচ্ছেমতো নম্বর লাগিয়েও এসব গাড়ি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গাড়ির ডিজিটাল নম্বর প্লেট নকল করে একই নম্বরের গাড়ি বিভিন্ন রুটে চালানো হচ্ছে।

নকল নম্বর প্লেট ও অটোরিকশা তৈরিরও একটি সিন্ডিকেট রয়েছে রাজধানীতে। তারা হলেন- মোহাম্মদপুরের সেলিম, কাশেম, নাছিম, সাকিল, শাহীন, কালু ও কালু ফাতরা। এ ছাড়া মিরপুর কালশী রোডের জনি ও রেজোয়ান। মাজার রোডে রানা, হারুন ও ফরিদ। মগবাজার এলাকায় ইমরান খন্দকার ও নান্টু। যাত্রাবাড়ীর জুরাইন এলাকায় আলামিন ও শাহীন।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী ঢাকা-দ এবং ঢাকা-থ সিরিয়ালের যেসব নম্বর প্লেট রয়েছে তা ঢাকা মহানগরীতে চলাচলের অনুমতি নেই। ঢাকা মেট্রো-থ এর নম্বরগুলো বেশি নকল করা হচ্ছে। এই নম্বরের গাড়িগুলো ২০১৮ সালে প্রতিস্থাপন করা হয়। ঢাকা-দ প্রাইভেট সিএনজি। এগুলো রাজধানীর আশপাশের এলাকায় চলাচলের অনুমতি থাকলেও হরহামেশা ঢাকা মহানগরীতে চলাচল করতে দেখা যায় ট্রাফিক সার্জেন্ট, টিআইদের নামে। রাজধানীতে চারটি রুটে চলছে এসব অটোরিকশা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-দ ১১-২৪০৮ নম্বরের অটোরিকশাটি ভাড়ায় চালাচ্ছেন চালক রিপন মিয়া। তিনি জানান, ঢাকায় এ গাড়িটি ট্রাফিক সার্জেন্ট জনির নামে চলে। চালক ওই সার্জেন্টের ফোন নম্বরও দেন। ওই নম্বর ফোন করলে সার্জেন্ট জনি জানান, তার নামে কোনো সিএনজি অটোরিকশা নেই। চালক মিথ্যা বলছে। চালক আপনার ফোন নম্বর কোথায় পেল? জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। ঢাকা-দ ১৪-০৪৩১ নম্বরের অটোরিকশাটি চালক বাছির জানান, এই গাড়িটির মালিক সার্জেন্ট আসাদ। চালকের থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে সার্জেন্ট আসাদকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমার পরিচিত এক লোকের গাড়ি এটা, এ জন্যই আমার নাম বলেছে। একই সঙ্গে ঢাকা-দ ১৪-০৫৪২ নম্বরের অটোরিকশা চালক আতিয়ার জানান, এ গাড়িটি টিএসআই খায়রুলের, ঢাকা-দ ১১-১৭৮২ নম্বরের অটোরিকশাটির চালক রতন জানান, এ গাড়িটি সার্জেন্ট ফেরদৌসের, ১১-২০৫৭ অটোরিকশার চালক রফিক জানান, এ গাড়িটির মালিক সার্জেন্ট তুহিন। তবে এসব গাড়ির মালিকদের মোবাইল নম্বরের ফোন করে পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রো-দ সিরিয়ালের যেসব নম্বর প্লেট ব্যবহার করে প্রাইভেট হিসেবে রাস্তায় চলছে এগুলোর মধ্যে ১১-০২১০, ১১-০১৫০, ১১-০২৩৯, ১১-০১৮৬, ১১-০১১২, ১১-০৪০১, ১১-০৪০২ থেকে ৬ পর্যন্ত সিরিয়ালের কোনো অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নেই। এরপরও সার্জেন্টদের নামে চালানো হচ্ছে।

এদিকে একাধিক অটোরিকশা চালক জানান, সাধারণত তারা রাস্তায় অটোরিকশা বের করলে নানা অজুহাতে মামলা জরিমানা দিয়ে সার্জেন্টরা নাজেহাল করেন। একপর্যায়ে তারা অটোরিকশা চালাতে অনীহা প্রকাশ করেন। আর এ সুযোগে সার্জেন্টরাই ওই চালককে প্রস্তাব দেন তাদের গাড়ি চালাতে। এতে কোনো মামলা বা জরিমানার ভয় নেই। বাধ্য হয়ে রাজধানীর অনেক চালক সার্জেন্টদের গাড়ি চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ট্রাফিক উত্তর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সুবীর কুমার ভোরের কাগজকে বলেন, আমার ডিভিশনে কড়া নির্দেশ দেয়া আছে মালিক যেই হোক কোনো অবৈধ গাড়ি পাওয়া গেলে পরিপূর্ণ আইনগত ব্যবস্থা নিতে। কাউকে ছাড় দেয়া হয় না।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj