রাজশাহীর কলেজছাত্রীকে নাটোরে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ : সাভারে ফুপার ধর্ষণের শিকার পোশাক কর্মী

রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাটোরের সরকুতিয়া দক্ষিণপাড়ার একটি আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে। সাভারে ১৫ বছরের এক পোশাক কর্মীকে ধর্ষণ করেছে ফুপা। এ ঘটনার পর থেকে ধর্ষক ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছয় বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ৬৫ বছরের বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে প্রেমিক ও তার এক বন্ধু। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হবিগঞ্জের মাধবপুরে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রী তৃষা হত্যার দায়ে যাবজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী : জেলার বাগমারা উপজেলার তামান্না আক্তার টিয়া (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে নাটোরের সরকুতিয়া দক্ষিণপাড়ার একটি আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে। তামান্না রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সমষপাড়া গ্রামে আব্দুর রশিদের মেয়ে। সে সাধনপুর স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত টিয়ার বাড়ির থেকে ৫০০ গজ দূরে নলডাঙ্গা উপজেলার সরকুতিয়া দক্ষিণপাড়ার একটি আমবাগানে তামান্নার লাশ ঝুলছিল। পরে সকালে লাশ দেখে স্থানীয় লোকজন নলডাঙ্গা থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত তামান্নার বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নাটোরের নলডাঙ্গার সাধনপুরের খিদিরপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শান্ত ইসলাম (২১) বাড়িতে এসে তার মেয়েকে হুমকির মুখে তুলে নিয়ে যায়। সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় টিয়ার লাশ ঝুলতে দেখে

স্থানীয়রা তার বাড়িতে খবর দেন। বিষয়টি শোনার পর এলাকার লোকজন টিয়াকে দেখতে ভিড় জমান।

মেয়ের মা নিলুফা সাংবাদিকদের বলেন, টিয়া ও শান্ত একই কলেজে পড়ত। কলেজে গেলে শান্ত মাঝেমাধ্যে টিয়াকে ইভটিজিং করত। এ ঘটনায় নলডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের বরাত দিয়ে নলডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ঝুলন্ত অবস্থায় লাশের পা সম্পূর্ণ মাটিতে ছিল এবং লাশ নামানোর সময় সাহায্যকারী স্থানীয় মহিলারা নিহতের যৌনাঙ্গে বেশ আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে আমাদের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাভার : সাভারে ১৫ বছরের এক পোশাক কর্মীকে ধর্ষণ করেছে ফুপা। এ ঘটনার পর থেকে ধর্ষক তারা মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে নিয়ে ধর্ষিতাকে পাগল আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল আমীন রানা। গত শুক্রবার রাতে সাভার সদর ইউনিয়নের চাঁপাইন তালতলা মহল্লার জামালের ভাড়া নেয়া বাড়িতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা গতকাল শনিবার সকালে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানালে এলাকাবাসী সাভার মডেল থানায় খবর দেন। ধর্ষক তারা মিয়া (৫০) চাঁপাইন এলাকার রজব উদ্দিনের ছেলে। সে সাভার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নূরুল আমীন রানার সহযোগী বলে জানান এলাকাবাসী। এ ছাড়া ধর্ষক তারা মিয়ার সঙ্গে ধর্ষিতার মা মঞ্জুয়ারার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়।

ধর্ষিতা জানায়, রাত ৮টার দিকে আমি বাজার করতে যাই, এসে দেখি ফুপা আমার বিছানায় শুয়ে আছে। পরে বিষয়টি আমার মাকে ফোনে জানালে উনি বলেন থাক আজকের রাতটা ওখানেই ঘুমাক। পরে আমি বিছানার ওপাশে গিয়ে শুয়ে পড়ি। আমি ঘুমানো অবস্থায় গভীর রাতে ফুপা আমাকে জাপটে ধরে। তখন আমি নিজেকে ছাড়ানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকি। এ সময় ফুপা আমার মুখ চেপে ধরে আমাকে নষ্ট করে। সকালে আমি প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানাই। আমি এর বিচার চাই।

এদিকে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর চাচা জানান, ভাবির সঙ্গে তারা মিয়ার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে অনেক দিন ধরেই। এ বিষয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। এলাকার সবাই বিষয়টি জানেন। অবৈধ সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ায় গত এক মাস আগে ভাই আহালু মণ্ডল ভাবিকে ডিভোর্স দেন। তাদের ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর প্রায় সময় ভাবি তারা মিয়ার সঙ্গেই রাত কাটায়। ব্যক্তিগত কাজে ভাবি দেশের বাড়ি জামালপুরে গেছে। এ সুযোগে আমার মামাতো বোনর স্বামী তারা মিয়া আমার ছোট ভাইয়ের মেয়েকে নষ্ট করে। বিষয়টি বাড়ির মালিক জামালকে জানালে উনি চুপচাপ থাকতে বলেন। কাউকে যেন বিষয়টি না জানানো হয়। জানালে পুলিশ আসবে উল্টাপাল্টা কথা বলবে। মামলা দিতে বলবে। নানা রকম ভয়ভীতি দেখান।

এলাকাবাসী জানান, খবর পেয়ে সকালে সাভার সদর ইউনিয়ন সভাপতি নূরুল আমীন রানা ধর্ষিতার পরিবারকে ডেকে নিয়ে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিটিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। ধর্ষিতার পরিবার সঠিক বিচার চাইলে তিনি তাদের ওপর চড়াও হন। যাতে ধর্ষিতার পরিবার থানায় না জানায়। হুমকি-ধমকি দেন এবং কিশোরীকে পাগল বলে আখ্যায়িত করেন। ধর্ষক তারা মিয়া আওয়ামী লীগ কর্মী এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নূরুল আমীন রানার অনুসারী।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ধর্ষক তারা মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল আমীন রানা বলেন, আমি শুনে তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা বলছে, মামলা করবে তাই আমি আর কিছু বলিনি। তবে তাদের হুমকি ও ধর্ষিতাকে পাগল বলার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জাকারিয়া হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলার প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে মেয়েটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : ছয় বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ৬৫ বছর বয়স্ক আব্দুল মালেককে স্থানীয়দের সহায়তায় গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে কলাপাড়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের শিকদার বাড়ি সড়কের দারুল এহসান মডেল মাদ্রাসার কাছে মুছা ভ্যারাইটিস স্টোরের মালিক আব্দুল মালেক দোকানের মধ্যে বসেই চকোলেট, চিপসসহ বিভিন্ন খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। সর্বশেষে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিমবাদুরতলী গ্রামের প্রথম শ্রেণির ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে চকোলেট ও চিপসের প্রলোভন দেখিয়ে দোকানের মধ্যে বসে শিশুটির বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে নির্যাতন চালায়। একপর্যায় শিশুটির সঙ্গে যৌন লালসা মেটায়। বিষয়টি নিয়ে ওই মাদ্রাসার নির্যাতিত একাধিক শিক্ষার্থী আলোচনার সময় অভিভাবকরা অবহিত হন। এরপর স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃদ্ধকে আটক করে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নির্যাতিত শিশুর বাবা বাদী হয়ে একটি এজাহার দাখিল করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিপ্লব মিস্ত্রি জানান, অভিযুক্ত আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার ৮ থেকে ১০ শিক্ষার্থীকে চকোলেট, চিপস এবং বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়। তার বিরুদ্ধে থানায় নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে মামলা দায়ের করেন।

সাতক্ষীরা : জেলার শ্যামনগর উপজেলার এক সন্তানের জনক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক গৃহবধূর। প্রেমিক সাইফুলকে বিয়ে করার আশায় ওই গৃহবধূ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলাবাড়ী এলাকা থেকে চলে আসে শ্যামনগর উপজেলায়। এখানে আসার পর তাকে ধর্ষণ করে সাইফুল ও তার এক বন্ধু। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে অচেতন অবস্থায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাইফুল ইসলাম (২৪) শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের ছোট ভেটখালী গ্রামের বক্কার চৌকিদারের ছেলে। গৃহবধূ (২৪) বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নে।

জানা গেছে, মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সাইফুল ও ওই গৃহবধূর। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই গৃহবধূকে গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় শ্যামনগরে নিয়ে আসে সাইফুল ইসলাম। পরে তার এক বন্ধুর বাড়িতে রাখে। সেখানে দুদিন ধর্ষণ করে সাইফুল ও তার বন্ধু মেহেদী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর সরদার মোবাইলে কথা বলেন ওই গৃহবধূর পরিবারের সঙ্গে। এ সময় গৃহবধূর স্বামী জানান, আমার স্ত্রীকে খুঁজে পাচ্ছি না। শিশু সন্তানটি তার মাকে না পেয়ে কান্নাকাটি করছে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর সরদার জানান, গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা না এলে এর থেকে বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না।

অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নারী ইউপি সদস্য সেলিনা সাঈদ বলেন, অচেতন অবস্থায় গৃহবধূকে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্যামনগর আসবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, প্রতারক প্রেমিক সাইফুল ইসলাম জানায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গৃহবধূকে শ্যামনগরে ডেকেছিলাম। তাকে নিয়ে আমার এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে রাতযাপন করেছি। এটুকু বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় শ্যামনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এখনো কেউ অভিযোগ জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) : উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে জাকির মিয়া (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে তেলিয়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের ফেদু মিয়ার ছেলে। ধর্ষণের শিকার হওয়া গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ধর্ষণের পর ধর্ষক ও তার সহযোগীদের ভয়ে ধর্ষিতার পরিবার তেলিয়াপাড়া এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। ঘটনার ৯ দিন পর ধর্ষিতা মাধবপুর থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার একটি পরিবার তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশনের একটি জায়গায় বসবাস করত। তার স্বামী নোয়াপাড়া বাজারে একটি কম্পিউটার দোকানে কাজ করেন। গত ১০ অক্টোবর দুপুরে ওই পরিবারের গৃহবধূ তেলিয়াপাড়ার এলাকায় অবস্থিত সেলামী শাহ মাজারে জিয়ারত করার জন্য বাসা থেকে বের হলে বখাটেরা জোর করে অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে সুরমা চা বাগানের ১০নং সেকশনে নিয়ে গিয়ে জাকির হোসেন ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। এ সময় অন্য ২ সহযোগী পাহারা দিচ্ছিল। ঘটনার পর ভয়ে গৃহবধূ ও তার পরিবার তেলিয়াপাড়া ছেড়ে মিরসরাই চলে যান। ঘটনার ১২ দিন পর ধর্ষিতা মাধবপুর থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।

তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাকিবুল ইসলাম তেলিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের জাকির মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন।

মাধবপুর থানার ওসি কে এম আজমিরুজ্জামান জানান, ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) : উপজেলার পৌরসভাধীন চিথলিয়াপাড়া গ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নির্যাতিতার বাবা বাদী হয়ে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

হরিণাকুণ্ডু থানার এসআই আব্দুল জলিল জানান, দীর্ঘ ২ বছর ধরে শিশুকলি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে শিলু হাসান। প্রেমের সুবাদে স্কুলছাত্রীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে পার্বতীপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শিলু হাসান। সর্বশেষ চিথলিয়াপাড়ার বাচ্চুর বাড়িতে নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে। মেয়েটি বাড়ি এসে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। এরপর মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে রাতে হরিণাকুণ্ডু থানায় ধর্ষক শিলু হাসানকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ধর্ষক শিলুকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। গতকাল শনিবার মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গাইবান্ধা : স্কুলছাত্রী তৃষা হত্যার দায়ে যাবজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মেহেদী হাসান মডার্ন জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের প্রতিবাদে ও ধর্ষক মডার্নের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে সচেতন এলাকাবাসীর উদ্যোগে শহরের রেলগেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন- নারী মুক্তি কেন্দ্রের জেলা সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, সাংবাদিক আফরুজা লুনা, এডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম লিওন, কাজী আবু রায়হান শফিউল্লাহসহ ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj