চট্টগ্রামের দুটি মার্কেটে আগুন : ছাই হওয়া কাপড় নিয়ে বিলাপ হকারদের

রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

চট্টগ্রাম অফিস : ‘শীত মৌসুমকে সামনে রেখে কম্বল ও লেপসহ বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক মজুদ করেছিলাম। একটু ভালো থাকা ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করার আশায়। গ্রামের বাড়ির কিছু জমি বিক্রি করে এসব পোশাক তুলেছিলাম দোকানে। আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে। এখন আমার কী হবে?’ এসব কথা বলছিলেন জহুর হকার্স মার্কেটের পুড়ে যাওয়া একটি দোকানের মালিক ইসমাইল হোসেন। একই অবস্থা পুড়ে যাওয়া জহুর হকার্স মার্কেটের ৪৫৫নং দোকানের মালিক মো. আজিমেরও। তিনি বলেন, ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে কাপড় তুলেছিলাম। আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। একই পরিণতি জালালাবাদ মার্কেটের পুড়ে যাওয়া ব্যবসায়ীদের। সব হারিয়ে পোড়া কাপড়ের স্ত‚পে বসে গতকাল নীরবে কাঁদতে থাকেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ভোরে ভয়াবহ আগুনে এই দুটি মার্কেটের ১৩২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যাওয়া এসব দোকানে শীতের মৌসুমকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ পোশাক মজুদ ছিল। আগুনে কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যায়। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম এসব ব্যবসায়ীদের। গতকাল শনিবার বিকেলে উদ্বোধন হওয়া শেখ কামাল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য আড়াই হাজার গেঞ্জি স্ক্রিন প্রিন্ট করেছিলেন মো. ইয়াসিন। আগুনে সব পুড়ে ছাই। তিনি বলেন, ভোর সাড়ে ৪টায় এসে দেখি সব শেষ। গতকাল শনিবার গেঞ্জিগুলো ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল। দোকানের ক্যাশে ছিল আড়াই লাখ টাকা। তাও পুড়ে ছাই।

মধ্যবিত্তদের ঐতিহ্যবাহী জহুর হকার্স মার্কেট চট্টগ্রাম নগরের সবচেয়ে বড় হকার্স মার্কেট। প্রায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এ মার্কেটে কয়েক হাজার কাপড়ের দোকান ও টেইলার্স রয়েছে। কম দামে পোশাক পাওয়া যাওয়ায় মার্কেটটি বন্দরনগরীর জমজমাট বিপণি কেন্দ্র। নগরের নি¤œ ও মধ্যবিত্তের কেনাকাটার অন্যতম পছন্দের স্থান এ জহুর হকার্স মার্কেট। এই মার্কেটের পাশাপাশি জালালাবাদ মার্কেটের ছোট ছোট দোকানগুলোতে তৈরি পোশাক বিক্রি হতো। ছোট ছোট টেইলারিং কারখানায় পোশাক তৈরি হতো এ মার্কেটে। এসব দোকানের ক্ষুদে ব্যবসায়ীরাও নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে বিনিয়োগ করেছিল। কেউ কেউ শীতের মৌসুমকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ পণ্য মজুদ করেছিল। ঋণ করে কিংবা গ্রামের বাড়ির জমি-জমা বিক্রি করে বিনিয়োগ করেছিল এসব দোকানে।

জালালাবাদ মার্কেটের পুড়ে যাওয়া হাজি এম হোসেন নামে দোকানের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আমার ৩০ লাখ টাকার বেডশিট, দরজার পর্দা, লেপ তোশকের কাপড় পুড়ে গেছে। আগুন আমার সর্বনাশ করেছে। পুড়ে যাওয়া ব্লু বার্ডের মালিক আইয়ুব-উজ জামান বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর এসে দেখি সব পুড়ে ছাই।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj