ভারতের ‘এলা এখন’ ঢাকার মঞ্চে

রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : গঙ্গা-যমুনা উৎসবের নবম দিনে ভারতের বেলঘরিয়া রূপতাপস এর ‘এলা এখন’ মঞ্চে প্রদর্শিত হলো। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে এ মঞ্চায়ন হলো। এর নাট্যভাবনা ও নির্দেশনায় ছিলেন কৌশিক ঘোষ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এলাকে এখনকার প্রেক্ষাপটে এনে বর্তমান সময়ের আতশকাচের তলায় বিছিয়ে বিশ্লেষণ এবং আপাদমস্তক একটি রাজনৈতিক ভাষ্যরচনা। দেখা যায়, গণআন্দোলনের প্রহরীরাও বেশিরভাগ সময়ে স্বৈরাচারী হয়ে যান। মানবতা শব্দটা হারিয়ে যায় তখন। রবীন্দ্রনাথ এরই বিরোধিতা করেছিলেন তার লেখায়। এলা নাটকে সেটিই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৩৪ সালে রবীন্দ্রনাথ চার অধ্যায় উপন্যাসে লিখেছেন- দেশের আত্মাকে মেরে দেশের প্রাণ বাঁচিয়ে তোলা যায়, এই ভয়ঙ্কর মিথ্যে কথা

পৃথিবীসুদ্ধ ন্যাশানালিস্ট আজকাল পাশব গর্জনে ঘোষণা করতে বসেছে। আজও এই সময়ে দাঁড়িয়ে সেই গর্জনের উন্মত্ততা উগ্র জাতীয়তাবাদ, সেই মৌলবাদের হিংসা আমাদের আতঙ্কিত করছে। মানুষের আত্মশক্তির উন্নতি না হলে দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। মানুষের স্বভাবকে মেরে তাকে পুতুল বানালে যে কোনো বিপ্লব পথ হারাবে এই সত্য ইতিহাসে বারবার দেখেছি। তাই চার অধ্যায় সমকালীন। রবীন্দ্রনাথ সমকালীন।

চার অধ্যায় উপন্যাসকে এই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে ‘এলা এখন’ নামে মঞ্চায়ন করল বেলঘরিয়া রূপতাপস। রবীন্দ্রনাথের সংলাপের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন অভিনেতা নবারুণ ভট্টাচার্য, মণিভূষণ, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিপুল চক্রবর্তীর কবিতা। অভিনয়ে ছিলেন গৌতম চক্রবর্তী, নীলাভ চট্টোপাধ্যায়, তথাগত চৌধুরী, শিপ্রা মুখার্জি। কোরাসে গলা মেলান অনির্বাণ, নানক, সুবীর, সুচরিতা। প্রযোজনা নিয়ন্ত্রণে তারাশঙ্কর চক্রবর্তী। পোশাক অলংকরণে হিরণ মিত্র, মঞ্চ নির্মাণে মদন হালদার, আবহ সংগীতে শুভেন্দু মাইতি, আবহ প্রক্ষেপণে রানা দাস, আলোক প্রক্ষেপণে ঠান্ডু রায়হান সুজিত ঘোষ, অলক দেবনাথ, প্রজেকশনে মহাদেব, নাট্যভাবনা ও নির্দেশনায় কৌশিক ঘোষ।

এ ছাড়া একই সময়ে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাট্যচক্রের নাটক ‘ভদ্দরনোক’। এর রচনা মলিয়ের, রূপান্তর ও নির্দেশনায় গোলাম সারোয়ার। স্টুডিও থিয়েটার হলে নাট্যম রেপার্টরীর নাটক ‘ডিয়ার লায়ার’। এর রচনা জেরমে কিলটি, অনুবাদ করেছেন আব্দুস সেলিম, নির্দেশনায় আইরিন পারভীন লোপা। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি মিলনায়তনে শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের নাটক ‘তৃতীয় একজন’ রচনা সমীর দাশগুপ্ত, নির্দেশনা দিয়েছেন অনন্ত হীরা।

শুরুতে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেলে। পথনাটক পরিবেশন করে বৃত্ত নাট্যদল, মুক্তমঞ্চ নাট্যদল। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে ঢাকা স্বরকল্পন। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে ওস্তাদ মোমতাজ আলী খান সঙ্গীত একাডেমি। দলীয় নৃত্য পরিবেশনায় ছিল স্বপ্ন বিকাশ কলাকেন্দ্র। শিশু-কিশোর পরিবেশনায় ছিল আমরা কুঁড়ি ও সন্ধান লিটল থিয়েটার।

নৃত্যকলা মিলনায়তনে সন্ধ্যায় দর্শনীর বিনিময় পরিবেশিত হয় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রযোজনা ভালোবাসা ও প্রশান্তির পৃথিবী, আবৃত্তি সংসদ কুমিল্লার আবৃত্তি প্রাকযুগে পুরোভাগে, কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের আবৃত্তি তথাগত।

তিন যুগপূর্তিতে মহাকালের ‘বাংলা নাট্যোৎসব’ কাল

কাগজ প্রতিবেদক : দেশের স্বনামধন্য নাট্যদল মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠার তিন যুগপূর্তির স্মৃতিকে স্মরণীয় রাখতে বছরব্যাপী নানা আয়োজনের শেষ প্রয়াস ‘বাংলা নাট্যোৎসব ২০১৯’। এতে ভারত ও বাংলাদেশের নাট্যদলের ৩১টি নাটক নিয়ে আগামীকাল সোমবার থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সরব হয়ে উঠবে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি থেকে বেইলী রোডের মহিলা সমিতি প্রাঙ্গণ।

এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন হয় শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে শনিবার দুপুরে। এতে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতি মীর জাহিদ হাসান ও সাবেক সভাপতি এডভোকেট আফজাল হোসেন, উৎসব পরিষদের আহ্বায়ক কবির আহমেদ, নাট্যজন তপন হাফিজ, আখতারুজ্জামান, শাহ নেওয়াজ, চঞ্চল সৈকত, কানাই চক্রবর্তী প্রমুখ।

এতে জানানো হয়, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় দশ দিনব্যাপী এ নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করবেন যৌথভাবে ত্রিপুরার চিফ হুইফ কল্যাণী রায়, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার ও মঞ্চসারথি আতাউর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে. এম. খালিদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক ড. নিপা চৌধুরী ও নাট্যজন কামাল বায়েজীদ। সভাপতিত্ব করবেন দলের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আফজাল হোসেন। মীর জাহিদ হাসানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হবে অনুষ্ঠান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন উৎসব পরিষদের আহ্বায়ক কবির আহামেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করবেন মীর নাহিদ আহসান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর একাডেমির প্রধান মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হবে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় প্রযোজনা ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’, পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাট্যচক্র প্রযোজনা ‘একা এক নারী’ এবং মহিলা সমিতি মঞ্চে ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠী প্রযোজনা ‘তক্ষক’।

একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে ২৫ অক্টোবর সকাল ১১টায় ‘আমাদের সংস্কৃতি আমাদের নাটক’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রবন্ধকার আবু সাঈদ তুলু।

উৎসবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী দল হচ্ছে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়, দেশনাটক, প্রাচ্যনাট, থিয়েটার আর্ট ইউনিট, নাট্যচক্র, বুনন থিয়েটার, শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র, আরণ্যক নাট্যদল, থিয়েটার সার্কেল, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা থিয়েটার, ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠী, নাট্যতীর্থ, নাট্যম রেপার্টরী, লোক নাট্যদল (বনানী), সময়, নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বল, বটতলা, অনুরাগ থিয়েটার, চন্দ্রকলা থিয়েটার, নবনাট, পদাতিক নাট্য সংসদ (টিএসসি), বাংলাদেশের পুতুলনাট্য গবেষণা কেন্দ্র, কথক, নাট্যযোদ্ধা ও বাঙলা নাট্যদল। ভারতের আসাম রাজ্য থেকে ভাবিকাল থিয়েটার, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে এবং আমরা থিয়েটার ও রঘুনাথগঞ্জ থিয়েটার গ্রুপ এবং ত্রিপুরা রাজ্য থেকে শুভম নাট্যচক্র ও লারনার্স থিয়েটার অংশগ্রহণ করবে। মঞ্চনাটক প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে। মঞ্চনাটকের অগ্রিম টিকেট কাউন্টারে বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। উৎসব সহযোগিতায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও সবুজছায়া।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj