সাবের হোসেন চৌধুরী : সবুজ কক্সবাজার গড়তে সরকার কাজ করছে

শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

সৈয়দুল কাদের, কক্সবাজার থেকে : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেছেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও তাদের কারণে কক্সবাজারের বনভূমি উজাড় হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। ঘটছে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়। তবে সবুজ কক্সবাজার গড়তে সরকার ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আচরণগত পরিবর্তন এবং কীভাবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তারই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পানি সরবরাহের সুপারিশ করবে স্থায়ী কমিটি।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এ টি এম জাফর আলম মিলনায়তনে জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির অষ্টম বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অংশগ্রহণ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন এমপি, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি, জাফর আলম এমপি, রেজাউল করিম বাবলু এমপি, খোদেজা নাসরিন আকতার এমপি।

সভায় ক্লিন এয়ার এন্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে কী অর্জিত হয়েছে এবং এর ফলে গুণগত কী প্রভাব পড়েছে তা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতি প্রতিরোধের সম্ভব্য উপায় বিশেষজ্ঞ কমিটি দ্বারা নির্ণয়ের সুপারিশ করবে সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। সভায় উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং তাদের কারণে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে সে সম্পর্কে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহম্মদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, পরিবেশ ও বন বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, রোহিঙ্গা বসতির কারণে গত এক বছর ৩ মাসে প্রায় ৬ হাজার একর বন ধ্বংস হয়ে গেছে। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ ৫৪৯ কোটি ৬০ লাখ।

বন অধিদপ্তর বলছে, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ দেয়া হলেও শুরুতে রান্নার জন্য জ্বালানির ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন তারা বনের গাছ কাটার পাশাপাশি শিকড়ও তুলে ফেলছে।

জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, আমরা শুধু আমাদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরতে পারি। এর বাইরে আমাদের এখন আর করার কিছু নেই। তবে পরিস্থিতিও এখন তেমনটি নেই।

বন অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ নিয়ন্ত্রণাধীন উখিয়া ও টেকনাফের ৫ হাজার ৮৩৫ একর বনভূমি ব্যবহৃত হচ্ছে, যার প্রায় পুরোটাই উজাড় হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৪ একর সৃজিত বন এবং ৩ হাজার ৮১১ একর প্রাকৃতিক বন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj