শিশুশিল্পী থেকে তারকা

শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯


অনেক তারকাই শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। তাদের সংখ্যা নেহাতই কম না। অনেকেই সে সময়ই পেয়েছিলেন পুরস্কার। বড় হয়েও তারা সে সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। তাদের মধ্য থেকে পাঁচ তারকাকে নিয়ে মেলার এই বিশেষ আয়োজন। গ্রন্থনা করেছেন : ফাতেহা বালাদ

মেহের আফরোজ শাওন

বিটিভির ‘এসো গান শিখি’ অনুষ্ঠানটি দিয়ে তার পথচলা শুরু। ছোটবেলা থেকে নাচ, গান দুটোতেই পারদর্শী। ১৯৮৯ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে তুরস্কে গিয়ে রেডিওতে গান করেন তিনি। নব্বই দশকে ক্যারিয়ার শুরু করা অন্য তারকাদের মতো তিনিও নতুন কুঁড়ি বিজয়ী। তার প্রথম টিভি নাটক ‘জননী’। এরপর একে একে অভিনয় করেন নক্ষত্রের রাত, পুষ্পহার, সবুজ সাথী, আজ রবিবার, উড়ে যায় বকপক্ষী, কালা কইতর, সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড, হাবলঙ্গের বাজারে, রূপালী রাত্রি, সে দিন চৈত্রমাস, চৈত্র দিনের গান, বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল ইত্যাদিসহ অসংখ্য দর্শকনন্দিত নাটকে। শাওন প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেন ‘শ্রাবণ মেঘের দিনে’-এ। তার অভিনীত ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’ ও ‘আমার আছে জল’ ছবিগুলো বেশ দর্শক নন্দিত। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তিনি তার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেন ‘কৃষ্ণপক্ষ’। তার ‘নক্ষত্রের রাত’ অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিলেও তার শুটিং এখনো শুরু করতে পারেননি। বর্তমানে অভিনয় কমিয়ে দিলেও নিয়মিতই হুমায়ূন আহমেদের গল্পে নাটক নির্মাণ করছেন।

নুসরাত ইমরোজ তিশা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী এ অভিনেত্রীর শুরুটা বিটিভির ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা দিয়ে। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। চার বন্ধু মিলে গঠন করেছিলেন গানের দল ‘অ্যাঞ্জেল ফোর’। যদিও একটা সময় গিয়ে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। শিশুশিল্পী হিসেবে ‘সাত প্রহরের কাব্য’ নাটকে অভিনয় করেন ১৯৯৮ সালে। তখন বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। নাটকটি রচনা করেন অনন্ত হীরা এবং পরিচালনা করেন আহসান হাবীব। তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ২০০৩ সালে প্রচারিত আরসি কোলার বিজ্ঞাপন। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্যারাম ১ম পত্র, ৬৯ নাটকগুলো দিয়ে আলোচনায় আসেন। শেষ প্রান্তে, ক্যারাম ২য় পত্র, প্রভাতী সবুজ সংঘ, ওয়েটিং রুম, কাননে কুসুম কলি, ইট খাটের খাঁচা, ঊনমানুষ, লাটাই, গ্র্যাজুয়েট, মুনিরা মফস্বলে, ৪২০সহ অংসখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে একসময় নিজেকে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেন ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’-এ। ‘হালদা’, ‘টেলিভিশন’, ‘অস্তিত্ব’, ‘ডুব’ সিনেমাগুলোতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। ২০১৬ সালে ‘অস্তিত্ব’ সিনেমার জন্য ‘সেরা অভিনেত্রী’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেন। সংসারে সময় বেশি দিলেও এর মাঝেও নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন।

আঁখি আলমগীর

সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতি হলেও তার শুরুটা হয়েছিল চলচ্চিত্র দিয়ে। আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘ভাত দে’-তে তিনি নায়িকার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটির জন্য ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’-এ ‘সেরা শিশুশিল্পী’র পুরস্কার পেয়েছিলেন। আঁখি আলমগীর যখন পুরস্কার পান তখন তিনি মাত্র চতুর্থ শ্রেণিতে পড়েন। অথচ তার বাবা নায়ক আলমগীরের ক্যারিয়ারের তখন ষোল বছর পার হয়েছে, কিন্তু তিনি তখনো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি। তিন বছর বয়স থেকে গান শিখতে শুরু করেন আঁখি। গান শিখেছেন সৈয়দ শামসুল হক, ওস্তাদ আখতার সাদমানী এবং সঞ্জীব দে’র কাছ থেকে। কলেজে পড়ার সময় প্রথম প্লে-ব্যাক করেন দেলোয়ার ঝন্টুর ‘বিদ্রোহী বধূ’ ছবিতে। তারপর থেকে বহু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বিটিভি আর বাংলাদেশ বেতারেও নিয়মিত গান করেছেন। ১৯৯৭ সালের ৭ জানুয়ারি তার একক গানের প্রথম অ্যালবাম ‘কলি’ বাজারে আসে। ব্যাপক আকারে পরিচিতি শুরু হয় ‘বিষের কাঁটা’ অ্যালবাম দিয়ে। এর ‘বন্ধু আমার রসিয়া’, ‘পিরিতি বিষের কাঁটা’ সেই সময়ে অনেক শ্রোতাপ্রিয় হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তার ২০টির অধিক একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।

পূজা চেরী

মা ঝর্ণা রায়ের ইচ্ছে ছিল মেয়েকে আইনজীবী বানাবেন। একটি ঘটনায় তিনি সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। ঘটনাটা প্রথম শ্রেণিতে পড়াকালীন। পাশের বাসার এক আন্টির মাধ্যমে বুটিক হাউসের মডেল হন পূজা। ওই বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ের সময় তার মায়ের সঙ্গে পরিচালক শাহ আলম মণ্ডলের পরিচয় হয়। তার মাধ্যমে জাকির হোসেন রাজুর ‘মনের ঘরে বসত করে’ তে শাকিব খানের ছোট বোনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান।

চার-পাঁচ দিন শুটিংও করেন। কিন্তু মুক্তির পর পুরো ছবির কোথাও মেয়ের কোনো অস্তিত্ব পাননি মা। রাজধানীর বিডিআর সিনেমা হলে বিশ জনকে নিয়ে মেয়ের ছবি দেখতে গিয়েছিলেন। সবার সামনে লজ্জা পেলেন। জেদ চেপে যায় মায়ের। সে জেদের ফল আজকের পূজা চেরি। শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন ভালোবাসার রঙ, তবুও ভালোবাসি, অগ্নি, ভালোবাসতে মন লাগে, কৃষ্ণপক্ষ, বাদশা-দ্য ডন-এ। ‘অগ্নি’তে তার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। এ ছাড়া তার আলোচিত বিজ্ঞাপন ‘হুইল পাওয়ার হোয়াইট’। নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় ‘নূর জাহান’ দিয়ে। এ ছাড়া পূজা অভিনীত ‘পোড়ামন ২’, ‘দহন’ ও ‘প্রেম আমার টু’ ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছে।

তাসকিন রহমান

‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর ভিলেন হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি হলেও তার শুরুটা কিন্তু বিটিভি দিয়ে। তিনি বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী। ১৯৯০ সালে ‘শীতের পাখি’ নাটকে হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে অভিনয় করেন। অনেকগুলো প্যাকেজ নাটকেও তাকে শিশুশিল্পী হিসেবে দেখা গেছে। ‘নতুন কুঁড়ি’র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে দীলিপ সোমের ‘হৃদয় আমার’-এ অভিনয় করেন। সেখানে অবশ্য তার নাম দেয়া হয়েছিল অঞ্জন। ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ অভিনয়ের আগে অভিনয় তারই বড় ভাই তানিম রহমান অংশুর ‘আদি’তে। কিন্তু ছবিটি এখনো মুক্তি পায়নি। ভিলেন হিসেবে সবার মাঝে পরিচিতি পেলেও নায়ক হিসেবে দেখা গেছে ‘বয়ফ্রেন্ড’ সিনেমায়। আরো মুক্তি পেয়েছে ‘যদি একদিন’ ও ‘সুলতান’। সামনে মুক্তির কাতারে আছে ‘শান’, ‘মিশন এক্সট্রিম’ ও ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ছবিগুলো।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj