মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন : উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে

শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন তথা তেজস্ক্রিয়তা কতটা উচ্চপর্যায়ের এবং তা আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার শেষ নেই। গত বৃহস্পতিবার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাসহ সব স্পর্শকাতর জায়গা থেকে মোবাইল টাওয়ার দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন উচ্চ আদালত। রায়ে স্পর্শকাতর জায়গা বলতে ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা ছাড়াও হাসপাতাল, স্কুল ও কলেজকে বোঝানো হয়েছে। উচ্চ আদালতের এই নির্দেশনাকে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ এমন একটি বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের গাফিলতি কোনোভাবে মেনে নেয়া যাবে না। এর আগে ২০১২ সালে একুশে টেলিভিশনে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এরপর এ ধরনের প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর বিকিরণের (রেডিয়েশন) বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর সেই রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২৫ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রায়ে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর বিকিরণের বিষয়ে সমীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। বিষয়গুলো অপারেটর কোম্পানিগুলো আমলে নিয়েছে বলে মনে হয় না। স্পর্শকাতর কোনো জায়গা থেকে কোনো টাওয়ার সরিয়ে নিয়েছে বলে এমন কোনো নজিরও নেই। এ দেশে মোবাইল ফোনের যাত্রা শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। কিন্তু অপারেটরদের যত্রতত্র টাওয়ার স্থাপন নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না। ফলে যেখানে-সেখানে বাসাবাড়ির ছাদেও টাওয়ার স্থাপন করা হয়। শহর থেকে গ্রামাগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে আছে পাঁচটি মোবাইল অপারেটরের প্রায় চল্লিশ হাজার টাওয়ার। মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে কয়েক বছর আগে আদালতে রিট করেছিলেন একজন আইনজীবী। তখন আদালত মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের দিয়ে কমিটি করে মন্ত্রণালয় এবং সে কমিটি ঢাকার কিছু মোবাইল টাওয়ার থেকে উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রিয়তার প্রমাণ পায়। এরপর আর কোনো উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়েনি। নতুন করে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে বিষয়টি আবারো সবার নজরে এসেছে। রেডিয়েশনের মাত্রা যে কত ক্ষতিকর তা আমাদের ভাবনার বাইরে। চিকিৎসকরা বলছেন, মানুষের শরীরে সেলগুলো একে অন্যের সঙ্গে যেভাবে যোগাযোগ করে তাকে বাধাগ্রস্ত করে এক্সটারনাল রেডিয়েশন। আর এর পরিণতিতে ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকিও তৈরি হয়। তবে শিশুদের শরীরে ফ্লুইড বেশি থাকার কারণে তারা বেশি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশুদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও এ রেডিয়েশন দায়ী। এমন ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক থাকা সত্ত্বেও দেশের বেশিরভাগ মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে নজর দেয়ার মতো যেন কেউ নেই। স্বাস্থ্যকর, সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এখনই আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj