ক্যান্সার রোগীদের ভরসা আস্থা প্রকল্প

শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

তানজিলা রেজা

দুই সন্তানের জননী রাবেয়া আক্তার (ছদ্মনাম) হঠাৎ করেই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এই আকস্মিক সংবাদে পরিবারের সবাই হতবিহŸল হয়ে পড়ে। প্রাণোচ্ছল এক পরিবারে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। বিশেষ করে রাবেয়া আক্তারের দীর্ঘ সংসার জীবনে ছন্দপতন ঘটায় বিষণœতা যেন গ্রাস করে নেয় তাকে। বড় মেয়ে মাইশা (ছদ্মনাম) তার মায়ের মাঝে অনেক পরিবর্তন লক্ষ করে। একটু ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করতেই জেনে যায় যে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসা হলে এই রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই, কিন্তু তার এই আশার বাণী তার মাকে ঠিক ভরসা দিতে পারছিল না। সঠিক চিকিৎসা নিয়েও যেন পুরো পরিবার নিশ্চিন্ত হতে পারছিল না, খুব অল্পদিনেই একটা সাজানো গোছানো সংসার এলোমেলো হয়ে যায়।

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ৯০ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করে। প্রতিটি ক্যান্সারের ঘটনাই রাবেয়া আক্তারের মতো দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব ফেলে। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর কারণে দারিদ্র্য সীমার নিচে অবস্থান করে অধিকাংশ রোগী যার আর্থ-সামাজিক প্রভাব বেশ প্রকট। এই আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট পেরিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বেশিরভাগ সময়েই মনোযোগ দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না রোগী কিংবা তার সেবাদাতার, ফলে রোগীর রোগমুক্তির দীর্ঘ সময়কাল বিষণœতা নিয়ে পার করতে হয় যা বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থাকে। অথচ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে কোনো চিকিৎসাতেই রোগীর আত্মবিশ্বাস চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব রাখে এবং এটি অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘আস্থা’ নামক প্রকল্প যা ক্যান্সার রোগীদের কাউন্সেলিং, প্রশ্নোত্তর, ওষুধ সরবরাহ এবং ফলোআপের সেবা প্রদান করছে। প্রাথমিকভাবে রোশ-এর আওতাভুক্ত রোগীদের এ সেবা দেয়া হচ্ছে। রোশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ আফরোজ জলিল বলেন, ক্যান্সার রোগীদের বিষণœতায় ভোগা একটি পরিচিত ঘটনা এবং সেবাদাতারও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ে অথচ এর কোনো সমাধান আমাদের দেশে এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। রোগের চিকিৎসা উদ্ভাবনের বিষয়ে রোশ যেমন সচেষ্ট ঠিক তেমনি রোগীর সার্বিক প্রয়োজনের ব্যাপারেও আমরা সচেষ্ট। শুধু কাউন্সেলিং-ই নয় বরং আমরা রোগীর ক্যান্সার চিকিৎসা গ্রহণের সব বাধা সহজীকরণে নিবেদিতভাবে কাজ করে থাকি। ‘আস্থা’ উদ্যোগটি সে চেষ্টারই একটি অংশ।

আস্থা উদ্যোগ থেকে সেবা পেয়ে রোগীরা উপকৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, তিনি বলেন, অনেক সময় চাইলেও আমরা রোগীদের পরিপূর্ণ সেবা দিতে পারি না, সে ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য উপক্ষিতই থেকে যায়, এ ক্ষেত্রে আস্থা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং আমি বিশ্বাস করি এ থেকে অনেক রোগী ও তাদের পরিবার উপকৃত হবে।

মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj