মানসিক সুস্থতার প্রয়োজনীয়তা

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

সিয়াম আহমেদ

শারীরিক সুস্থতার উপসর্গগুলো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অধিকতর স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হওয়ায় এ ব্যাপারে আমাদের একটি সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। আমরা আমাদের শারীরিক সুস্থতার ব্যাপারে যতটা যতœবান, আমাদের মানসিক সুস্থতার ব্যাপারে ততটাই অমনোযোগী। কারণ মানসিক রোগের উপসর্গগুলো অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের বোধগম্য নয়। অথবা সম্পূর্ণ ব্যাপারটিকে আমরা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে থাকি। কেননা অধিকাংশ মানুষই মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অজ্ঞ।

আমাদের সবার জীবনেই কোনো না কোনো সময়ে আমরা সাময়িকভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হই। আমাদের ব্যক্তিগত বা কর্মজীবনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে গিয়ে অনেক সময়ই আমরা মানসিক অবসাদগ্রস্ততা বা বিষণœতা অনুভব করি। এক পর্যায়ে যখন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মগুলো বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই আমাদের মানসিক অসুস্থতার প্রশ্নটি আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে সুস্থতা হলো মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক এই তিনটি অবস্থার প্রেক্ষাপটে একটি ভারসাম্যপূরণ ও স্বাস্থ্যকর সমন্বয়।

সহজ কথায়, সুস্থতা হলো শারীরিক বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি হতাশা, বিষণœতা, অবসাদ, মানসিক চাপ ইত্যাদি মানসিক সমস্যা থেকে মনকে মুক্ত রেখে সমাজে কোনো প্রকার সমস্যার সম্মুখীন না হয়ে বসবাস করতে পারা। অনেক সময় মানসিক অসুস্থতা শারীরিক সুস্থতার ওপর প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব ফেলে। ফলে মনের পাশাপাশি আমাদের শরীরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে অসুখটা যে শারীরিক না মানসিক তা অনেক সময়ই আমরা বুঝতে পারি না। মানসিক সুস্থতা হলো এমন একটি ইতিবাচক মানসিক অবস্থা, যে অবস্থায় একজন মানুষ তার নিজের সক্ষমতা বুঝতে পারে, জীবনের স্বাভাবিক চাপগুলোর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে এবং উৎপাদনশীল কর্মের মাধ্যমে নিজ সম্প্রদায়ে অবদান রাখতে পারে। মানসিক সুস্থতার দরুন আমরা আমাদের জীবনের নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সক্ষমতা অর্জন করি।

দেশের রাজধানী ও জেলা শহর পর্যায়ের কয়েকটি সরকারি মানসিক হাসপাতালসহ বেশকিছু বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট দেশব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। কাজেই যখন আমরা অথবা আমাদের পরিবারের কোনো সদস্য, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিত কেউ মানসিকভাবে অসুস্থ বা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে তখন কোনো প্রকার কুসংস্কার বা অবহেলার বশবর্তী না হয়ে সঠিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

:: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
ফাহিম ইবনে সারওয়ার

গভীর সংকটে জাবি

মাহফুজা অনন্যা

আবারো আবরারের অপমৃত্যু!

Bhorerkagoj