আরো দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প : যাতায়াতে স্বস্তি বয়ে আনবে

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

রাজধানীতে আরো দুটি রুটে মেট্রোরেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একটির রুট হবে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে নতুনবাজার, বাড্ডা হয়ে কমলাপুর রেলস্টেশন। এটির দৈর্ঘ্য হবে ৩১ কিলোমিটার। অন্যটি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার, গাবতলী, মিরপুর-১, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২, নতুনবাজার হয়ে ভাটারা পর্যন্ত। এটির দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। ৯৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা। এ ছাড়া মেট্রোরেল লাইন-৬ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুতবেগে এগিয়ে চলছে। আগামী ডিসেম্বরেই ঘুরবে মেট্রোরেলের চাকা। পুরো প্রকল্প এখন দৃশ্যমান। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে স্বল্প সময়ে মতিঝিলে পৌঁছা যাবে। রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনগণের অভিযোগের শেষ নেই। দুর্ভোগ ঢাকা মহানগরীর মানুষের নিত্যসঙ্গী। আশা করা হচ্ছে, ঢাকা মহানগরীর জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পসহ মোট ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন হয়। এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩০ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। জাইকা এবং এডিবির ঋণ ৬৯ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। বাকি অর্থ বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব। দুই কোটির বেশি মানুষের শহর রাজধানী ঢাকা। কিন্তু সেই তুলনায় নাগরিক সুবিধা বিশেষত স্বাচ্ছন্দ্যে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্যত্র ভ্রমণের সুবিধা এখনো খুবই সীমিত। যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভোগান্তির শেষ নেই এই মেগা সিটির নাগরিকদের। নগরবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তি কমিয়ে আনা এবং সময় বাঁচাতে সরকার রাজধানী ঢাকাকে মেট্রোরেলের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়। বলা হচ্ছে, ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে মেট্রোরেল ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে ঢাকার বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামলাতে মেট্রোরেলের মতো গণপরিবহনই হতে পারে একটি কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা। মেট্রোরেল প্রতি ঘণ্টায় ৮০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ফলে মেট্রোরেল স্থাপিত হলে রাস্তায় যাত্রী এবং পরিবহন উভয়ের ওপরই চাপ কমবে। এর ফলে সড়ক পথে যানবাহন চলাচল কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে। মেট্রোরেলে বিভিন্ন রুটে সাশ্রয়ী খরচে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হলে প্রাইভেটকার এবং অন্যান্য যানবাহনে করে চলাচল করার প্রবণতা হ্রাস পাবে। মেট্রোরেল, পাতালরেলসহ আরো ফ্লাইওভার নির্মিত হতে যাচ্ছে রাজধানীতে। তবে যেন সময়ের কাজ যথাসময়ে শেষ হয়।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj