বুয়েটে শিক্ষার পরিবেশ ফিরুক

বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

গুম, হত্যা, অপহরণ, পিটিয়ে হত্যা- কোনোটাই প্রত্যাশিত নয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ সতীর্থদের মাধ্যমে যে নির্মম হত্যার শিকার হলো তাতে গোটা অভিভাবক সমাজ উদ্বিগ্ন। শুধু এ হত্যাকাণ্ড নয়, এ জাতীয় কাপুরুষোচিত সব ধরনের গুম, হত্যা, অপহরণ কোনোটাই সভ্য সমাজের চরিত্র হতে পারে না। তিলে তিলে গড়ে তোলা একজন ছেলে যখন একটা পর্যায়ে গিয়ে এভাবে নির্মম নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে হত্যার শিকার হয়, তখন কোনো অবস্থায় তার পরিবার সেটা মেনে নিতে পারে না। এত বড় বড় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব কি আচার-আচরণ দেখছে সমাজ। এসব প্রতিষ্ঠান একদিনের বা এক যুগের প্রতিষ্ঠান নয়। এখান থেকে দুই যুগ আগেও নামি-দামি দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ বের হয়েছে। তখনো ক্যাম্পাসে কমবেশি রাজনীতি চর্চা ছিল। তখনো ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল বলা যায়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্ম হয়েছে। তখনকার সময়ে আজকের মতো এত নির্মম আচার ব্যবহার ও কার্যক্রম ছিল না।

নিজস্ব দল মত চর্চা সবাই করেছিল। কিন্তু সে পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতি থেকে ছাত্ররাজনীতি আর ক্যাম্পাস পর্যন্ত গড়াচ্ছে। তাহলে আমরা কোথায় যাচ্ছি। রাজনীতির মারপ্যাঁচে ছাত্রসমাজ আজ তাদের ন্যূনতম আদর্শ পর্যন্ত হারাতে বসছে, হারিয়ে ফেলছে। এসব ছাত্র সংগঠনের পৈশাচিক কর্মকাণ্ড একদিনের নয়। তাদের পেছনে যাদের খবরদারি তাদের উদ্দেশ্যেই অভিভাবকদের ক্ষোভ। কেন তারা কোমলমতি এসব ছাত্র যুবকদের হীন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে? অভিভাবকরা তথাকথিত রাজনীতি, টেন্ডারবাজি, ক্যাম্পাস দখল করার জন্য তাদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি। নিষ্পাপ এসব সন্তানের কেন রাজনীতির নামে বিপথগামী করছে তাদের ওপরে অভিভাবকদের যত ক্ষোভ। এ চরিত্র, কালচার অবশ্যই শোধরাতে হবে। কেন ছাত্র যুবকদের হাতে অস্ত্র, মদ, গাঁজা আর নেশা। এসব তাদের কারা দেয়, তাদের শাস্তি হওয়া দরকার। সংশোধন হতে হবে ওদের। তারাই ক্যাম্পাস ও ছাত্রদের নষ্ট করছে। সহজে হাত বাড়ালে এসব অবৈধ পণ্য ছাত্ররা পাওয়ার কথা না। শিক্ষা আর অনৈতিক চরিত্রে যারা তাদের এ পথে আসতে বাধ্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে অভিভাবক ও সমাজকে কঠোর হতে হবে। ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নজরদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকেই রাখতে হবে। কেন তারা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখেনি, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

মনে হয় দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্তরালে অদৃশ্য শক্তি নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি তাই হয়, তাহলে সেখানে কি হচ্ছে, কি হবে আমার সন্তানদের ওপর সেটা আমি বলতে পারব না। বলতে না পারার মধ্য দিয়ে সেখান থেকে লাশ হয়ে ফেরত আসছে আমাদের সন্তানরা। কোনোভাবেই অভিভাবকমণ্ডলী এভাবে তাদের সন্তানদের ছেড়ে দিতে পারে না। আজকে সময় হয়েছে উচ্চশিক্ষা আর সন্তানের জীবনের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম সংস্কার করতে হবে। যেখানে প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের শাসন থাকার কথা, সেখানে একটি ক্যাডার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠান চলে, সে জায়গায় নিরীহ ছাত্ররা কীভাবে তাদের নিরাপদ ভাববে সেটাই এখন মুখ্য কথা।

আবরার ফাহাদ নির্মমভাবে হত্যার কারণে আজ দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে এ হত্যার কঠোর নিন্দা ও সমালোচনা হচ্ছে। দেশে অতীতে আরো অনেক নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সবসময় এসব ঘটনার পর গোটা জাতি আলোচনা-সমালোচনায় হইচই করে। কিছুদিন পর আবার গোটা দেশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। ভুলে যায় সেসব ঘটনা। অপরাধীরা আইনের মারপ্যাঁচে পার পেয়ে যায়। আবার তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে আবরারের হত্যার ন্যায়বিচার যদি হয় তাহলে অন্ততপক্ষে নতুন করে এ ধরনের নির্মম ঘটনার সূত্রপাত আর হবে না। যে বা যারা এসব ঘটনার কলকাঠি নাড়ছে তারা সতর্ক হবে, জাতি বারবার নৃশংস এসব হত্যাকাণ্ড থেকে নিস্তার পাবে। যে কোনো মূল্যে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষার পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সব দলমতের সহাবস্থান নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

মাহমুদুল হক আনসারী

লেখক, চট্টগ্রাম।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

একজন সৃজনশীল সুভাষ দত্ত

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

ফাহিম ইবনে সারওয়ার

গভীর সংকটে জাবি

মাহফুজা অনন্যা

আবারো আবরারের অপমৃত্যু!

Bhorerkagoj