ঘুমন্ত শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা : এমন নিষ্ঠুরতা আর দেখতে চাই না

বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

দিন দিন শিশুদের প্রতি ভয়াবহতা ও নৃশংসতা বেড়ে চলছে। সর্বশেষ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে তুহিন মিয়া নামে ৫ বছরের এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। গলা কেটে হত্যা করা হয় শিশুটিকে; ছুরিকাঘাত করা হয় পেটে; কেটে নেয়া হয় একটি কান ও লিঙ্গ। এরপর ঝুলিয়ে রাখা হয় বাড়ির পাশের সড়কের একটি গাছে। গত রবিবার রাতে দিরাইয়ের রাজানগর ইউনিয়নে ঘটে বীভৎস এ ঘটনা। এ ধরনের শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে খবর হয়ে আসছে, যা খুবই উদ্বেগের। শিশুর প্রতি এই নিষ্ঠুরতা নৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ব্যাপক অবনতিরই পরিচয় দেয়। এর আগে নারায়ণগঞ্জের সাগর বর্মণ (১০), সিলেটের রাজন (১৪), খুলনার রাকিব হত্যা- পরপর এই তিনটি নির্মম শিশু হত্যার ঘটনা সমাজকে নাড়া দিয়েছিল। তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল দেশব্যাপী। রাজন হত্যা মামলার রায়ে চারজনকে ফাঁসি ও সাতজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং খুলনায় শিশু রাকিব হত্যা মামলার রায়ে দুজনকে ফাঁসির আদেশ প্রদান করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার জনমনে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছিল। আমরা আশা করছিলাম এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি দেখতে হবে না। কিন্তু তা হচ্ছে না। শিশু নির্যাতন, শিশু হত্যার নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। শিশু অধিকার ফোরামের মতে, অপহরণের পর হত্যা, পিটিয়ে হত্যা, রাজনৈতিক বা পারিবারিক দ্ব›দ্ব, খেলা নিয়ে সংঘর্ষ, জমিজমা বা অন্যান্য বিরোধের জের ও যৌতুকের কারণসহ বিভিন্ন কারণে শিশুরা খুন হচ্ছে। শিশু অধিকার ফোরামের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলছে, গত বছর হত্যার শিকার হয়েছে ২৯২ শিশু। নিজের মা-বাবার হাতেই ৪০-এর অধিক শিশুর প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে। এভাবে শিশু নির্যাতনের হার বেড়ে যাওয়া যে কোনো সুস্থ সমাজের জন্য অশনি সংকেত। একটি সভ্য সমাজ এভাবে চলতে পারে না। সুনামগঞ্জের নিহত তুহিন ওই গ্রামের কৃষক আবদুল বাছিরের ছেলে। গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দ্রুত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখতে চাই। দেশে শিশু নির্যাতনবিরোধী কঠোর আইন থাকলেও সমস্যা রয়েছে এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে। অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় সঠিক ধারায় মামলা করা হয় না, আবার অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের সহযোগিতা করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অপরাধী যথাযথ শাস্তি পায় না। শিশু হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। আবার নির্যাতকের মৃত্যুদণ্ডের দৃষ্টান্ত থাকার পরও একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে দেখছি আমরা। সমাজ থেকে এই অপরাধপ্রবণতা দূর করতে আইনের কঠোর প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে সমাজে শিশুর প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিও খুবই জরুরি। শিশুদের নিরাপত্তা ও বিকাশ নিশ্চিত করার দায় সমাজের সবার। শিশুদের প্রতি নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে রাষ্ট্রকে আরো তৎপর হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj