বাড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মরিয়ম সেঁজুতি : দিন দিন বাড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন। দেশীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপন দিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতি বছর ফেসবুক, ইউটিউব এবং গুগল বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় করে। যার বেশিরভাগ অংশই ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়াই বাইরে চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়ম অনুসারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এখান থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং অগ্রিম আয়করের ৪ শতাংশ পাওয়ার কথা। কিন্তু সরকার এর কিছুই পায় না।

জানা গেছে, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার তিন মাস পরেও সরকার কর নেটওয়ার্কের আওতায় ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে শুধু ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ফাঁকিই নয় এই ডিজিটাল মার্কেটিং সেবার বিপরীতে সরকারকে সারচার্জও দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। যদিও ইতোমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অর্থ আইন, ২০১৭-এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫৬ (সংশোধন) অনুযায়ী ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা নিলে ভোক্তাকে বিজ্ঞাপন বা প্রচারণার খরচের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে আয়করের এই পরিপত্র জারি হলেও, তা মানছে না- ইমামি, কোকাকোলা বাংলাদেশ, টিভিএসে’র মতো ভোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ভোরের কাগজকে বলেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এতদিন কোনো ট্যাক্স দিত না। তবে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ট্যাক্স দিয়ে দেবে। কুপারসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করেছে। গুগলের প্রতিনিধিসহ আমরা শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। ট্যাক্স সংগ্রহের জন্য কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ভ্যাট সংগ্রহের জন্য বৈধ এজেন্ট প্রয়োজন। যারা বিদেশে ব্যবসা পরিচালনা করলেও দেশে বসবাস করছে- তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের জন্য সেই রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। অচিরেই এ সমস্যা সমাধান হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুক, গুগল বা ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দিতে মূল খরচের সঙ্গে যেমন ভ্যাট দিতে হয়, তেমনি সারচার্জও দিতে হয়। তবে এসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের নামে এই অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। সিআইডির তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা- বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানের জানা যায়, ফেসবুক ও গুগল মিলিয়ে ইমামি বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন দেয়। যা থেকে সারচার্জ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে একটি টাকাও আয়কর কর্তন বা সারচার্জ হিসেবে দেয়া হয়নি। কোকাকোলা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমাণ আরো বেশি। সূত্র জানিয়েছে, কোকাকোলা বাংলাদেশ প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সারচার্জ দেয়া থেকে বিরত রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক ক্যাম্পেইন ও বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছে ফেসবুক ও গুগলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইউইর ওই কর্মকর্তা বলেন, মাসেই প্রায় কয়েক কোটি টাকার সারচার্জ ফাঁকি দিয়ে ফেসবুক ও গুগলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। যা শুধু আয়কর আইনের লঙ্ঘনই নয়, অর্থ পাচারের অপরাধও।

সারচার্র্জ ফাঁকির বিষয়ে কোকাকোলা ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজ প্রাইভেট লিমিটেড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কান্ট্রি ম্যানেজার তাপস মণ্ডল জানান, সারচার্জ নিয়ে বলতে পারব না। কারণ বিষয়টি আমি দেখি না। তাই আমার জানা নেই।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj