অভিশংসনের মুখোমুখি ট্রাম্প

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে ডেমোক্রেটরা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষতি করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প।

তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন করে এ জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ খবর ফাঁস করার পরে চারদিকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ জন্য প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে বলে শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্রেট ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি মন্তব্য করেছেন। খবর বিবিসির।

তবে কোনো অনুচিত কাজ করেননি বলে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প ডেমোক্রেটদের অভিশংসন প্রচেষ্টাকে ‘জাদুবিদ্যার আবর্জনা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। অভিশংসন প্রক্রিয়ায় ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে জোরালো সমর্থন থাকলেও তা খুব বেশি দূর অগ্রসর হতে পারবে বলে মনে হয় না।

কারণ কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রিপাবলিকানদের হাতে। সেখানে এ প্রক্রিয়া বা প্রস্তাব পাস নাও হতে পারে।

ভোলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন করে ট্রাম্প আসলে কি বলেছিলেন তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ডেমোক্রেটরা অভিযোগ করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য ইউক্রেনকে চাপ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তারা যাতে এই তদন্তে বাধ্য হয় এ জন্য তিনি তাদের দেয়া সামরিক সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন। এ নিয়ে যখন মার্কিন মুলুকে তোলপাড় চলছে তখন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে জো বাইডেন ইস্যুতে আলোচনার কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প যা-ই বলুন না কেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইন লঙ্ঘন করেছেন। তিনি সাংবিধানিক যে দায়িত্বের মধ্যে রয়েছেন তা লঙ্ঘন করেছেন। প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে আহ্বান করেছিলেন পদক্ষেপ নিতে, যাতে তিনি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারেন। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জবাবদিহিতার আওতায় আসতেই হবে।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হিসেবে সবচেয়ে সিনিয়র ডেমোক্রেট হলেন ন্যান্সি পেলোসি। এতদিন রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। কারণ তিনি মনে করতেন এমন প্রচেষ্টায় উল্টো ফল হতে পারে। তাতে বেড়ে যেতে পারে ট্রাম্পের সমর্থন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj