বিশ্বনাথ : খালে মাছ ধরতে প্রভাবশালীদের বাধা

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি : বিশ্বনাথ উপজেলার গুনিয়া খাল উন্মুক্ত থাকলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকের বাধার কারণে মৎস্যজীবীরা খালে মাছ ধরতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে উপজেলার প্রতাবপুর ও মাখরগাঁও গ্রামের লোকজনের সঙ্গে আমতৈল গ্রামের মৎস্যজীবীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, উপজেলার মদনপুর মৌজায় অবস্থিত লামাকাজী ইউনিয়নের মাখরগাঁও ও খাজাঞ্চী ইউনিয়নের প্রতাবপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুনিয়া খাল। খালের দুপাশে রয়েছে দুটি হাওর।

স্থানীয় জনসাধারণের পানি নিষ্কাশন ও পার্শ্ববর্তী হাওরের কৃষি কাজের প্রয়োজন থাকায় খালটি বড় হলেও বন্দোবস্তের বহির্ভূত হিসেবে রেকর্ড রয়েছে। ফলে এই খাল কখনো জলমহালের তালিকাভুক্ত হয়নি। খালটি উন্মুক্ত থাকলেও মাখরগাঁও ও প্রতাবপুর গ্রামের লোকজনের বাধার কারণে পার্শ্ববর্তী আমতৈল গ্রামের প্রকৃত মৎস্যজীবীরা খালে মাছ ধরতে পারেন না। এ ব্যাপারে গত ৩ জুলাই প্রতাবপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সহিদ মিয়া, মাখরগাঁও গ্রামের দুদু মিয়া, রইছ আলী ও সৈয়দ আলীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন মৎস্যজীবীরা। তবে অভিযুক্তরা জানান, মাখরগাঁও ও প্রতাবপুরসহ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য গ্রামের লোকজন হাওরে কৃষি কাজের জন্য শুকনো মৌসুমে খালে বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে সেচ কাজে ব্যবহার করেন। বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় মৎস্যজীবীর কাছে তারা ভেড়জাল বিক্রি করেন এবং বিক্রির টাকা খালে বাঁধ নির্মাণের কাজে ব্যয় করেন।

এদিকে মৎস্যজীবীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরেজমিন খালটি পরিদর্শন করেন প্রয়াগমহল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) আবদুস শুকুর। এ সময় খালের ওপর একটি ভেড়জাল এবং পানিতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে রাখা অবস্থায় দেখতে পান বলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে গুনিয়া খালে মাছ ধরতে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে এবং খালে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বাঁধ নির্মাণ না করতে আদেশ দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা-তুজ-জোহরা। পরদিনই সকালে আমতৈল গ্রামের শতাধিক মৎস্যজীবী মাছ ধরতে নামলে তাদের বাধা দেন মাখরগাঁও ও প্রতাবপুর গ্রামের লোকজন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, গুনিয়া খালে সবার জন্য মাছ ধরা উন্মুক্ত। সেখানে বাঁধ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ করলে অথবা মাছ ধরতে কাউকে বাধা দেয়ার অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj