মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ১০ বছরেও পায়নি খাসজমি বরাদ্দ

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গৌতম সরকার, কাউনিয়া (রংপুর) থেকে : কাউনিয়ার ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বাড়ির জন্য এক টুকরো খাস জমির জন্য ১০ বছর আগে আবেদন করে আজো বরাদ্দ পায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস ও ভূমি অফিসে ঘুরে জমি না পাওয়ায় দুঃখ-ক্ষোভ আর হতাশায় দিন কাটছে এই মুক্তিযোদ্ধার।

দেশের সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি বাড়ি ভিটার জন্য হারাগাছ ইউনিয়নের ধুমগাড়া গ্রামে বাঁধের রাস্তা সংলগ্ন স্থানে ২৫ শতক জমির জন্য প্রায় ১০ বছর আগে উপজেলা ভূমি অফিসে নিয়ম মেনে আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় একযুগ কেটে গেলেও জমি বরাদ্দ না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে তার। ইউএনও, এসিল্যান্ড, সার্ভেয়ার, এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে একটুকরা জমির জন্য ঘুরতে ঘুরতে তিনি এখন ক্লান্ত। বাবা মৃত আব্দুল হকের কাছ থেকে ১০ শতক জমি পেয়েছিল যা সংসারের অভাবের কারণে বিক্রি করেছেন অনেক আগেই। সেই থেকে তিনি ভূমিহীন। এরপর খাস জমির জন্য প্রায় ১০/১১ বছর আগে একবার আবেদন করেছেন। সর্বশেষ আবার আবেদন করেন ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম নাজিয়া সুলতানা জেলা প্রশাসক রংপুর বরাবরে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো লাভ হয়নি। ক্যাপ্টেন ইকবালের অধীনে তিনি যুদ্ধ করেছিলেন। জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়াই করা এই মুক্তিযোদ্ধার আজ মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নেই।

তিনি আরো জানান ধুমগাড়া গ্রামে যে জমির দাগ খতিয়ান উল্লেখ করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে তার এক কোনায় টিনের ঘর তুলে বসবাস করছেন তিনি। বাকি জমি প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে দখল করে আছে। মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। স্বামীর ভাতাটুকু ছাড়া আর কোনো রোজগার নেই। উনি বর্তমানে শ্বাস কষ্টসহ জটিল নানা রোগে ভুগছেন। প্রতিদিন তাকে ওষুধ খেতে হয়। ছোট ছেলে জামিল মিয়া পড়ালেখা বাদ দিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চলছে। এ ব্যাপারে নির্বাহী অফিসার মোছা. উলফৎ আরা বেগম বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তার আবেদন আমি ফটোকপি করে নিয়েছি। জেলায় মিটিং এ বিষয়টি উপস্থাপন করবো। আশা করছি সমস্যার সমাধান হবে। মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর চাওয়া তার জীবদ্দশায় সরকারি বরাদ্দকৃত জমিতেই যেন তার বাড়ি ভিটা হয়।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj