অধিনায়কত্ব নিতে প্রস্তুত মাহমুদউল্লাহ

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম টেস্টে সফরকারী আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২২৪ রানের লজ্জাজনক ব্যবধানে হারার পর বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে অবাক হওয়ার মতো কিছু কথা বলেছিলেন। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সেদিন এমন কিছু কথা বলেছিলেন সাকিব যাতে ছিল অধিনায়কত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত। এর পরদিন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন, অধিনায়কত্ব নেয়া তো দূরের কথা, সাকিবের নাকি টেস্ট ক্রিকেট খেলার ব্যাপারেই কোনো আগ্রহ নেই। তারপর থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটপাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় কে হচ্ছেন সাদা পোশাকের ক্রিকেটে টাইগারদের পরবর্তী অধিনায়ক। এ তালিকায় বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। যাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমের কথা। অবশ্য সাকিব নেতৃত্ব ছাড়লে এই ৩ জনের মধ্যে যে কোনো একজনকেই দায়িত্ব নিতে হবে। কেননা, অভিজ্ঞতা ও পারফরমেন্সের বিচারে তামিম, মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকই কেবল অধিনায়কত্ব হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে ইনজুরি কিংবা অন্য কোনো কারণে সাকিব দলের বাইরে থাকলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই টাইগারদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই সাকিবের পরিবর্তে বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে তাকেই এগিয়ে রেখেছেন অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা। এবার বিষয়টি নিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার নিজেই কথা বলেছেন। জানিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে অধিনায়কত্ব নিতে প্রস্তুত তিনি।

তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজুর রহমানরা দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলে খেলেছেন। এদের মধ্যে সৌম্য-মিরাজের পারফরমেন্স সন্তোষজনক নয়। দলে জায়গা পাওয়াটাই যাদের জন্য কঠিন তাদের কাঁধে নিশ্চয়ই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মোস্তাফিজকে বেশ বুঝেশুনেই মাঠে নামায় টিম ম্যানেজমেন্ট। তাকেও যে নেতৃত্বের কঠিন দায়িত্ব দেয়া হবে না সেটা নিশ্চিত।

সে ক্ষেত্রে সাকিব নেতৃত্ব ছাড়লে সিনিয়র কাউকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে। আর এ প্রসঙ্গে বলতে হয় মাশরাফি বিন মুর্তজা টেস্ট খেলেন না। টি-টোয়েন্টি থেকেও অবসর নিয়েছেন। খুব শিগগিরই ওয়ানডে ক্রিকেটকেও বিদায় বলবেন তিনি। তাহলে বাকি থাকেন কেবল তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সর্বোচ্চ ৩৪টি টেস্টে টাইগারদের নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে মুশফিকের। তবে ২০১৭ সালের অক্টোবরের পর থেকে দলকে নেতৃত্ব দেননি তিনি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অধিনায়কত্বের ব্যাপারে অনাগ্রহের কথাও জানিয়েছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। অপরদিকে তামিম মাত্র একটি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর ওই ম্যাচটি টাইগাররা হেরেছে। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে তার নেতৃত্ব শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ দল। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেয়ার আগে নিশ্চয়ই এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে বিসিবি, যা টেস্ট ক্যাপ্টেন হওয়ার দৌড়ে তামিমকে অন্যদের তুলনায় ব্যাকপুটে ফেলে দেবে।

তাহলে বাকি থাকেন কেবল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। গত মঙ্গলবার রাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন সাইলেন্ট কিলার হিসেবে খ্যাত ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। এ সময় জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিলে নেবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদউল্লাহ বলেন, আমাকে দায়িত্ব দিলে আমি তা পালনের চেষ্টা করব। আমাকে বিবেচনায় আনা হলে সেটা পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আমি। এরপর তিনি যোগ করেন, এটা আসলে অনেক বড় একটা দায়িত্ব। আমি কারো ব্যক্তিগত ইচ্ছে-অনিচ্ছা নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে ভবিষ্যতে যদি আমাকে এ ধরনের দায়িত্ব দেয়া হয় তবে কেন নয়? আমি অধিনায়কত্বের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।

এ পর্যন্ত ৫টি টেস্টে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা আছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। তবে জয়ের চেয়ে হারের পাল্লাটা অনেক ভারী। তার নেতৃত্বে খেলা ৫ ম্যাচের মধ্যে কেবল ১টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ দল। তাও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। মাহমুদউল্লাহর টেস্ট অভিষেক হয় ২০০৯ সালের ৯ জুলাই। এখন পর্যন্ত ৪৬টি টেস্ট খেলে ৪ সেঞ্চুরি ও ১৬ হাফসেঞ্চুরিতে ২৬৬৯ রান করেছেন তিনি। পাশাপাশি বল হাতে পেয়েছেন ৪৩ উইকেট।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj