নদীও ফিরে পেতে চায় জীবন-যৌবন

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ নদী দিবস পালন করে আসছে। এ বছর নদী দিবস উপলক্ষে ‘নদী একটি জীবন সত্তা, এর আইনি অধিকার নিশ্চিত করি’- ¯েøাগানকে সামনে রেখে বিশ^ নদী দিবস পালিত হয়েছে। যে নদীর জন্য এই নদী দিবসের এত আয়োজন সেই নদীই আজ দখলে-দূষণে ভারাক্রান্ত, জরাজীর্ণ। দেড় হাজার নদীর মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশে বছরজুড়ে নাব্যসম্পন্ন নদীর অস্তিত্ব রয়েছে মাত্র ২৩০টির। হাজার বছরের পথপরিক্রমায় আজ প্রতীয়মান বাংলাদেশের বেশির ভাগ নদীই হয়ে পড়েছে বিপন্ন, অস্তিত্বহীন। বাংলাদেশের নগর-সভ্যতার বিকাশে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও উজান থেকে নেমে আসা পানি সংকট নদ-নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় নেতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে। নিয়ন্ত্রণহীন দখল-দূষণে পিষ্ট হয়ে মরে গেছে অধিকাংশ নদ-নদী, খাল-বিল। রাজধানী ঢাকার পাশ ঘেঁষে বহমান ঐতিহ্যবাহী বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় দখলের ফলে পানি ধারণক্ষমতা ক্রমশ কমে গেছে। মাত্রাতিরিক্ত দূষণ বুড়িগঙ্গার পানির স্বাভাবিক রং পর্যন্ত বদলে দিয়েছে। বৃষ্টির পানির মিশ্রণও দূর করতে পারছে না দূষণের মাত্রা। মৃতপ্রায় বুড়িগঙ্গায় এখন কোনো জলজ প্রাণী ও মাছ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই। আজ প্রায় দুই কোটি জনঅধ্যুষিত ঢাকা শহরের সব কঠিন ও তরল বর্জ্যরে অপসারণ ক্ষেত্র হচ্ছে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ। রাজধানী ঢাকার এককালের জলধারায় কুলকুল ধ্বনিতোলা ২৭টি খালও আজ চলে গেছে দখলদারের হাতে। মাটি, বালু ফেলে অনবরত ভরাট করে ফেলা হচ্ছে নদীপাড়, কালক্রমে পুরো নদীই। আজ তাই বেশির ভাগ নদী মৃত। ভরাট জমিতে নদীর পাড়জুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ দালানকোঠা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান। নদীর পাড় দখল করে দেদার চলছে বালু, কাঠ বিক্রির রমরমা ব্যবসা। এমনকি সরকারি ভূমিতে প্লট তৈরি করে গড়ে উঠছে হাউজিংয়ের ব্যবসা। দেশের বিভিন্ন নদীর তীরে রয়েছে হাজারো রকমের জাহাজ ভাঙা ও লঞ্চ-স্টিমার মেরামত শিল্প। জলযানের ভাঙা অংশ, তেল, মবিল, তৈলজাত সামগ্রী সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে দেশে শিল্পজনিত নদী দূষণের মাত্রা বেড়ে গেছে।

নদীকে ঘিরেই চলছে সভ্যতার ক্রমবিকাশ। তাই নদীর পানিপ্রবাহ সচল রাখতে, নদীদূষণ রোধ করতে প্রয়োজন ব্যক্তিগত, প্রযুক্তিগত এবং আইনগত নিয়ন্ত্রণ। নদী আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন হলে তা নিশ্চিত করতে হবে। জীবন্তসত্তা নদীর আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সরকারকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। নদ-নদীর অফুরান জলধারাকে নিজের মতো বাঁচতে দিতে হবে।

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

প্রকৌশলী, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

ফাহিম ইবনে সারওয়ার

গভীর সংকটে জাবি

মাহফুজা অনন্যা

আবারো আবরারের অপমৃত্যু!

Bhorerkagoj