শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য!

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মানুষ গড়ার কারিগর যদি হয় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, সেখানে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন কীভাবে সম্ভব? একজন শিক্ষক যদি একটু সচ্ছলভাবে চলতে না পারেন, তিনি কীভাবে মানসম্মত শিক্ষা দেবেন? জাতি হিসেবে বাংলাদেশ তো পিছিয়ে নেই। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ সব পর্যায়ে বিশ্বের বুকে সুপরিচিত নাম বাংলাদেশ। একটি জাতির উন্নতি নির্ভর করে সে দেশের উন্নত শিক্ষার ওপর। আর প্রতিটি মানুষের শিক্ষা শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে। অথচ এ দেশের প্রাথমিক শিক্ষক আজো অবহেলিত। কেন তাদের প্রতি এত বৈষম্য?

একটি শিশুকে পাঁচ বছর বয়স থেকেই প্রাথমিক শিক্ষকরা অতি যতেœ শিক্ষাদান করেন। এত অভিযোগ, চেঁচামেচির মধ্যেও একজন শিক্ষক কখনো মনোক্ষুণœ হন না, বরং অতি যতেœর সঙ্গে শিখিয়ে শিশুদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। একজন প্রাথমিক শিক্ষককে হতে হয় একজন কারিগর। প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক। অথচ প্রধান শিক্ষকরা বেতন পান ১২তম গ্রেডে। যেখানে একজন ডিপ্লোমাধারী নার্স বেতন পায় ১০ম গ্রেডে সেখানে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষককে অনেক নিচে রাখা হয়েছে। এটা কেমন বৈষম্য? একজন কম্পিউটার অপারেটর বেতন পায় ১০ম গ্রেডে, একজন কৃষি ডিপ্লোমাধারী বেতন পায় ১০ম গ্রেডে অথচ অবহেলিত প্রধান শিক্ষক পান ১২তম গ্রেড। এ লজ্জা কি সেই শিক্ষকের নাকি এ জাতির?

একজন সহকারী শিক্ষককে বেতন দেয়া হয় ১৫তম গ্রেডে, যা তৃতীয় শ্রেণির নিম্ন পর্যায়ে। অনেক কম বুদ্ধিমান শিক্ষিত লোক মনে করেন প্রাথমিক শিক্ষকরা তো এসএসসি বা এইচএসসি পাস, তাদের বেতন বাড়ানোর দরকার নেই। আপনারা কি এটা জানেন না যে তাদের দেড় বছর মেয়াদি ডিপিএড করতে হয়? তাহলে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম এবং সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দিতে বাধা কোথায়?

বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ধরা হয়েছে স্নাতক পাস। এখন প্রতিটি নিয়োগে অনার্স-মাস্টার্স মেধাবীরা নিয়োগ পাচ্ছেন। তাই বেতন বৈষম্যের অবসান জরুরি। এ ছাড়া শিক্ষাবান্ধব বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বেতন বৈষম্যের অবসানের কথা বলেছে। প্রতিটি শিক্ষক মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন তাদের কষ্ট দূর হবে। বেতন বৃদ্ধির জন্য শিক্ষকদের আন্দোলনে যেতে হয়, এটা জাতির জন্য লজ্জার। তাই আন্দোলনে যাওয়ার আগেই যেন প্রধান শিক্ষকদের ১০ম ও সহকারী শিক্ষকের ১১তম গ্রেড প্রদানের গেজেট প্রকাশ হয়। জাতি গড়ার কারিগরদের যেন আন্দোলনে নামতে না হয়। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মুন্নাফ হোসেন

সহকারী শিক্ষক, মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মো. বিল্লাল হোসেন

পথ চলতে ফোন নয়

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

অর্থনৈতিক মুক্তির পথে বাংলাদেশ

কামাল লোহানী

বিষম দইরার ঢেউ

সুধীর বরণ মাঝি

আমি ব্যথিত আপনি?

Bhorerkagoj