মেয়েকে বিয়ের আগে ধর্ষণ বিচ্ছেদের পরও আরেকবার : বাবা কারাগারে, ভিকটিম হাসপাতালে

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : ঝালকাঠিতে বাবার বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় লম্পট বাবাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে এবং ভিকটিমকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ধর্ষক লম্পট লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৪ বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে রিয়াজুল হাওলাদার (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ঝালকাঠি : জেলায় বাবার বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন বাবা বাবুল ফকিরকে। এই অভিযোগে ঝালকাঠি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার পুলিশ ভিকটিমকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে এবং লম্পট বাবাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের দশনাকান্দা গ্রামের বাবুল ফকিরের মেয়ে ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাজারে নিয়ে আসার পথে রাতে একটি সেতুর ওপর ধর্ষণ করে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে বাবুল ফকিরকে তার শ্যালকরা মারধর করেন। ঘটনার পর সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিছু দিন ঢাকায় অবস্থান করার পরে সে আবার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে। ২০১৮ সালে সে তার মেয়েকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের একটি ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়। বিয়ের এক মাস পরে স্বামীর

কাছ থেকে বাবুল ফকির মেয়েকে নিয়ে আসে এবং তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ৮০ হাজার টাকা খোরপোশ নিয়ে ফের এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয়। সম্প্রতি বাড়িতে এসে গত ১০ সেপ্টেম্বর তাকে আরেকবার ধর্ষণ করে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে মা ও প্রতিবেশীরা এসে ঘটনা দেখতে পান। এ ঘটনার পর থেকে বাবুল ফকির ঝালকাঠি শহরে এসে আশ্রয় নেয়। মেয়েটি ঝালকাঠি জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে উপপরিচালক মো. আলতাফ হোসেনের কাছে অভিযোগ করেন। আলতাফ হেসেন কৌশলে মেয়েটির বাবাকে তার অফিসে ডেকে আনেন। সে অফিসে এলে ওই কর্মকর্তা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ভিকটিম প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের অফিসে তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এবং নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করে। তার আবেদন পেয়ে কৌশলে বাবুলকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। এ ঘটনায় থানায় মেয়েটি বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।

ঝালকাঠি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু তাহের বলেন, বাবার বিরুদ্ধে মেয়েটি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ বাবাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : উপজেলার আড়িয়াবো এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে (১০) চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ধর্ষক লম্পট লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা। গতকাল বুধবার ভোরে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানাধীন কদমতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। লিটন মিয়া উপজেলার শান্তিনগর এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

র‌্যাব-১১ এর উপপরিচালক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, উপজেলার কর্ণগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশুটি। ওই শিশু পরিবার নিয়ে আড়িয়াবো এলাকার বাবুল মাস্টারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল। গত রবিবার দুপুরে ভাড়াটিয়া বাড়িসংলগ্ন মাঠে খেলাধুলা করার সময় আড়িয়াবো এলাকায় লম্পট লিটন মিয়া চকোলেট খাওয়ার প্রলোভন দেখায় ওই শিশুকে। পরে লিটন তার ঘরে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে। এ ব্যাপারে কাউকে বললে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয় শিশুটিকে। পরে লম্পট লিটন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে শিশুটির চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে পুরো ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে শিশুর মা বাদী হয়ে ওই লম্পটকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানাধীন কদমতলী এলাকা থেকে লিটনকে গ্রেপ্তার করে।

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) : উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের পরমেশ্বর্দী গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ওই ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে ধর্ষকসহ ২ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের পরমেশ্বর্দী গ্রামের কাউছার মোল্যার ছেলে পরমেশ্বর্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মাহির হাসান বরকত (২৪) গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই ছাত্রীকে বাড়িতে একা পেয়ে ফুসলিয়ে পাশে চুন্নু কাজীর লিচুবাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। বাদী ঘটনাটি রাতে বাড়িতে এসে জানতে পেরে থানায় মামলা করতে চাইলে স্থানীয় মাতুব্বর আইয়ুব খন্দকার ও আক্তার হাফেজ ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গ্রাম্য সালিশের কথা বলে কালক্ষেপণ করেন। অবশেষে বিচার না পেয়ে ওই দুই মাতুব্বরসহ ধর্ষককে আসামি করে মামলা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে ফরিদপুর ৭নং আমলি আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

বোয়ালমারী থানার ওসি আমিনুর রহমান বলেন, থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চলছে।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : উপজেলার কলেজপাড়া এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়–য়া এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যৌন নির্যাতনকারী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের রণজিৎ দাসের ছেলে মিন্টু কুমার দাস। মিন্টু শহরের মুরগিহাটার কসমেটিক্সের ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সকালে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মেয়েটি কালীগঞ্জের সলিমুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

নির্যাতনের শিকার মেয়েটি জানায়, মঙ্গলবার স্কুল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এক বান্ধবীর সঙ্গে বাসায় ফিরে ঘরের ভেতর গল্প করছিলাম। হঠাৎ মিন্টু আমাদের বাসায় আসে। আমাকে বলে ওই মেয়েটা কে। ওই মেয়েকে এখনই চলে যেতে বল, না হলে সমস্যা আছে। আমার বান্ধবী চলে যায়। এরপর আমাকে জড়িয়ে ধরে এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এরপর মিন্টু আমাকে ২০ টাকা দিয়ে বলে, কাউকে কিছু বলবি না।

ভিকটিমের মা বলেন, আমার দুই মেয়ে স্কুল থেকে এসে বাড়িতেই থাকে। আমি বাইরে কাজ করতে যাই। আমি ফেরার পর মেয়ে সব খুলে বলে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. ইউনুচ আলী বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। যৌন নির্যাতনকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) : উপজেলায় ৪ বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে রিয়াজুল হাওলাদার (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের খাউলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজুল হাওলাদার পার্শ্ববর্তী গাবতলা গ্রামের মান্নান হাওলাদারের ছেলে। গতকাল বুধবার সকালে আসামি রিয়াজুল ও নির্যাতিতা শিশুটিকে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভন দিয়ে খাউলিয়া গ্রামের ওই শিশু মেয়েকে বাড়ির পাশে একটি মৎস্য ঘেরে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে বখাটে যুবক রিয়াজুল। একপর্যায়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj