প্রশাসনেরও আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের সেবা করা। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পরোয়া না করে দিন-রাত পরিশ্রমের মাধ্যমে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ দলের কিছু অসাধু কর্মী দলকে ব্যবসা-বাণিজ্যের আখড়া বানিয়েছে। পূর্বে রাজনীতিবিদদের ত্যাগ-তিতিক্ষা দেশের জন্য নিবেদিত ছিল। বর্তমানের রাজনীতি জনগণের সেবা নয়, যেন নিজের পকেটের সেবা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলাকে সুন্দরভাবে সাজাতে গিয়ে ঘাতক কর্তৃক নিহত হন। ঘাতকরা মোশতাক রূপে বঙ্গবন্ধুর আশপাশে ছিল। দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করার মাসুল বঙ্গবন্ধুকে গুনতে হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে যাতে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। যুদ্ধ-পরবর্তী রক্ষী বাহিনী ও বিপদগ্রস্ত দলীয় কর্মীদের কারণে বঙ্গবন্ধুর সুনাম ক্ষুণœ হয়েছিল। এসব অনিয়ম বঙ্গবন্ধুকে অন্যভাবে দৃষ্টিপাত করা হয়েছিল। যার কারণে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। ঠিক বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচরে অনেক অনিয়ম আনা হয় না। দৃষ্টিগোচর হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। নিজ দলের শুদ্ধি অভিযান জনগণের দীর্ঘদিনের আকাক্সক্ষা ছিল।

পুঞ্জীভূত অপরাধপ্রবণতা মানুষকে হিংস্র জানোয়ার হায়েনার দলে পরিণত করে। বর্তমানে রাজধানীর ক্যাসিনোগুলো হচ্ছে অন্যায় ও অসামাজিক কার্যকলাপের দুর্গস্থান। আর এগুলো পরিচালিত হচ্ছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় কাজগুলো বছরের পর বছর চলে আসছে। ঢাকার দক্ষিণের যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদকে আটকের পর সব তথ্য বেরিয়ে আসে। এই খালেদ এক সময় ফ্রিডম পার্টি এবং ছাত্রদল সর্বশেষ যুবলীগে যোগ দিয়েছেন। দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ তাদের বঞ্চিত করে দলছুট অন্য দলের কর্মীকে দলে স্থান দেয়া মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল। তার সহযোগী এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীমকে দেহরক্ষীসহ কোটি টাকা ও কোটি টাকার এফডিআর, গোলাবারুদ ও বিদেশি মদসহ আটক করা হয়। তথ্য উঠে আসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের টেন্ডারবাজি এদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এটা শুধু রাজধানীর চিত্র, এভাবে সারাদেশ বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোভন ও রাব্বানীকে পদ থেকে প্রধানমন্ত্রী বহিষ্কৃত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ছাত্রলীগকে ধরেছি এখন যুবলীগকে। এই অভিযানগুলো শুধু ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, সারাদেশে চালাতে হবে। অভিযান চালাতে হবে দুর্নীতিবাজ আমলাদের বিরুদ্ধে যাদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। অভিযান চালাতে হবে আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধেও, কারণ যত অপরাধ সংঘটিত হয় তারা জানেন এবং কেন তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তার জবাবদিহিতা অবশ্যই প্রয়োজন। আইনের কাঠগড়ায় সবাই সমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে কঠোরভাবে নির্মূল করতে পারেন, তাহলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পর বাংলার জনগণের মণিকোঠায় চিরদিনের মতো জায়গা করে নেবেন।

শ্রীধর দত্ত

চট্টগ্রাম।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

রাষ্ট্রের স্বভাব ও চরিত্র

মাহফুজা অনন্যা

পেঁয়াজ সংকট কোন পথে?

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

দিল্লিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

একজন সৃজনশীল সুভাষ দত্ত

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

Bhorerkagoj