ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০; মৃত্যু ২৯ জুলাই ১৮৯১) সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচ বছর বয়সে ঈশ্বরচন্দ্রকে গ্রামের পাঠশালায় পাঠানো হয়। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র এবং ১৮৩৯ সালের মধ্যেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। তিনি ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলঙ্কার, বেদান্ত, ন্যায়, তর্ক, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন এবং ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি কলেজের অনেক সংস্কার করেন। এর আগে এ কলেজে পড়ার অধিকার ছিল কেবল ব্রাহ্মণ এবং বৈদ্য ছাত্রদের, কিন্তু তিনি সব শ্রেণির হিন্দুদের জন্য কলেজের দ্বার উন্মুক্ত করেন। তিনি কলেজে পড়ার জন্য নামমাত্র বেতন চালু করেন। কিন্তু তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনেন কলেজের পাঠ্যক্রমে। পূর্বে ব্যাকরণ এবং বীজগণিত ও গণিত শেখানো হতো সংস্কৃতে, কিন্তু তিনি সংস্কৃতের বদলে ব্যাকরণ বাংলার মাধ্যমে এবং গণিত ইংরেজির মাধ্যমে পড়ানোর নিয়ম চালু করেন। ইংরেজি ভাষা শেখাকে তিনি বাধ্যতামূলক করেন এবং ইংরেজি বিভাগকে উন্নত করেন। বাংলা শিক্ষার ওপরও তিনি জোর দেন। তিনি নিজ গ্রামে নিজ খরচে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যাসাগর ছিলেন স্ত্রীশিক্ষার বিশেষ সমর্থক। তিনি বালিকা বিদ্যালয় খোলার বিষয়ে স্থানীয় লোকদের সমর্থনে বর্ধমানে একটি স্কুল স্থাপন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো পাঠ্যপুস্তক রচনা ও প্রকাশ করা। ‘বর্ণপরিচয়’ প্রকাশের আগ পর্যন্ত প্রথম শিক্ষার্থীদের জন্য এ রকমের কোনো আদর্শ পাঠ্যপুস্তক ছিল না। এ ছাড়া তাঁর রচিত গ্রন্থ বোধোদয়, কথামালা, চরিতাবলী এবং জীবনচরিত। ১৮৪৭ সালে ‘বেতালপঞ্চবিংশতি’ প্রকাশের মাধ্যমে বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে মাধুর্যদান করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক মনোভাবাপন্ন। তিনি উপলব্ধি করেছেন, পুরনো মূল্যবোধ এবং পরিবারের ভেতর থেকে পরিবর্তন আনতে না পারলে সমাজ এবং দেশের কখনো প্রকৃত উন্নতি হবে না। এ জন্য তিনি বিধবা বিবাহ চালু করা, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের জন্য আন্দোলন আরম্ভ করেছিলেন। বিদ্যাসাগর নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিয়ে দেন।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj