৩১১ বন্ড লাইসেন্স স্থগিত ৮ মাসে

বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করায় বা রাজস্ব ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত ৮ মাসে ৩১১টি প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স স্থগিত ও ৯টি প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করেছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের অধীনে মোট সক্রিয় লাইসেন্স ৩ হাজার ৮৩০টি। নিষ্ক্রিয় লাইসেন্স রয়েছে ২ হাজার ৯৮৩টি আর মোট বন্ড লাইসেন্স রয়েছে ৬ হাজার ৮১৩টি। বিভিন্ন সময়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অভিযান, প্রিভেনটিভ অভিযান ও নিরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বন্ড অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটিত হয়। সে মোতাবেক অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ড লাইসেন্স সাসপেন্ড ও বিন লক করে দেয় ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। ফলে এসব লাইসেন্স ব্যবহার করে আর কেউ বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানি রপ্তানি করতে পারে না। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিস, শুনানি গ্রহণ ইত্যাদি আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে লাইসেন্স চূড়ান্ত বাতিল করা হয়।

সূত্রে আরো জানা গেছে, যাদের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে তারা ফেব্রিক্স, কাগজ, বিওপিপি ফিল্ম, পিপি দানা, ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্টকার্ড ও সুতা বন্ড সুবিধায় আমদানির পর তা খোলাবাজারে অবৈধভাবে বিক্রি করেছেন। আর সেই অপরাধে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কতিপয় দুষ্টু ব্যবসায়ী বন্ড সুবিধার আওতায় পণ্য তৈরি ও রপ্তানি পরিবর্তে কাঁচামাল এনে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়। এতে করে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃত শুল্ককর পরিশোধ করে যেসব ব্যবসায়ী বাণিজ্যিকভাবে পণ্য আমদানি করে তারা বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ঝরে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, কাস্টমস কর্মকর্তাদের দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে আগে নিষ্ক্রিয় ছিল ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। গত ৮ মাসে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ১৫৯টি অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। অভিযানে ৭১টি যানবাহন আটক, ছয়টি গুদাম সিল, ১১২টি বিভাগীয় মামলা করেছে। আর এ মামলায় জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ২০১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আর আদায়কৃত রাজস্বের পরিমাণ ১৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। এ ছাড়া সরকারি কাজে বাধাদান ও জালিয়াতি করায় দুটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। আর বিভিন্ন অভিযোগে ২৮টি বিন লক করেছে। এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এক কর্মকর্তা বলেন, বন্ডের অপব্যবহার রোধে বিজিএমইএ ও এক্সেসরিজ এসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এসব সংগঠনের কিছু ফাঁকিবাজ প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, যদি বন্ডের লাইসেন্স নিয়ে তার অপব্যবহার করে কেউ তাহলে সৎ ব্যবসায়ীরা উৎসাহ হারায়। বন্ডের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলা উচিত। এ জন্য এনবিআরকে আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমরা যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে সরকার বন্ড লাইসেন্সধারীদের সুবিধা দিয়ে থাকে।

কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সেই সুবিধার অপব্যবহার করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। যারা অনিয়ম করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর সেই নির্দেশনা কমিশনারেটগুলোকে দেয়া হয়েছে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj