তুমি যদি পথিক হও…

বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

যে কোনো স্থানে যেতে হলে পথ লাগবেই। তুমি যদি পথিক হও, তাহলে পথের খোঁজ-খবরও রাখতে হবে। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে আধুনিক পৃথিবীতে লাখ লাখ কিলোমিটারজুড়ে রয়েছে সড়কপথ। শুধু আমেরিকাতেই আছে ৬৪৩০৩৬৬ কিলোমিটার সড়কপথ। পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকারী। এর পরেই আছে ভারত ও চীনের অবস্থান।

সন্দেহ নেই সড়কপথ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অনেক উন্নত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যন্ত্রযানের আবিষ্কারের পর জাহাজ ও রেলপথের চেয়ে সড়কপথই অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর সূচনা কোথায়?

প্রাচীনকালে পশুরা পানি, খাদ্য ও লবণের সন্ধানে চলাচল করে পথরেখার সৃষ্টি করেছিল। শুরুর দিকে সেসব পথকেই মানুষ একটু বাড়িয়ে, ঝোপঝাড় কেটে, খানাখন্দ ভরে নিয়ে ভাল মতো চলাচলের উপযোগী করে নিয়েছিল। সবচেয়ে পুরনো আর জনপ্রিয় একটি পথের নাম ‘সিল্করোড’। ৫ হাজার বছর আগে এই পথে চলাচল করত বণিকরা। সিল্করোড বা রেশম সড়ক ছিল মূলত অনেকগুলো রাস্তার সমষ্টি। রাস্তাটি চীন থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তখনকার দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে পথটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরেকটি সমৃদ্ধ পথরাশি সৃষ্টি করেছিল প্রাচীন ইনকা জাতির মানুষরা। দক্ষিণ আমেরিকায় তারা প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছিল।

তবে রাস্তা নির্মাণে সবচেয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিল প্রাচীন রোমানরা। যদিও ওদের রাস্তা তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল সেনাবাহিনীর চলাচলে সুবিধা প্রদান করা। কিন্তু সেসব পথ শেষ পর্যন্ত সবার উপকারেই আসে। সবমিলিয়ে রোমান সাম্রাজ্যে ৮০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক ছিল। ওদের তৈরি করা পথগুলোর একটা মজার বৈশিষ্ট্য হলো এগুলোর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকত রাস্তার মাঝখানে। রোমানরা যেসব রাস্তা তৈরি করেছিল সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাতটি হচ্ছে ‘আপ্পিয়ান ওয়ে’।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি একটি বিচিত্র পদ্ধতিতে তৈরি করা পথ বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর নাম ‘প্ল্যাঙ্ক রোড’। গাছের তক্তা একটির সঙ্গে অন্যটিকে জোড়া দিয়ে এই পথ তৈরি কার হয়েছিল বলে এর নাম হয়ে যায় প্ল্যাঙ্করোড বা ‘তক্তাসড়ক’। রাস্তা নির্মাণে নানারকম উপকরণ ব্যবহার হয়। যেমন পাথর, ইটের খোয়া, সুড়কি, পিচ ইত্যাদি। উনিশ শতকের শুরুর দিকে পথ তৈরি করার জন্য প্রথম অ্যাসফল্ট ব্যবহার করা নিউইয়র্ক, প্যারিস আর ওয়াশিংটন ডিসিতে। ত্রিশের দশকে জার্মানিতে অটোবন হাইওয়ে পদ্ধতির নির্মাণকাজ শুরু হয়। অটোবন ছিল সে সময়ের সবচেয়ে উন্নত সড়কব্যবস্থা।

আর এখন তো আমাদের দেশেও পা বাড়ালেই সড়কের দেখা পাওয়া যায়! য় অনন্ত আহমেদ

ইষ্টিকুটুম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj