রোমান সানা তীর-ধনুকে সেরা

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীর-ধনুক হাতে একের পর এক সাফল্য অর্জন করছেন বাংলাদেশের রোমান সানা। কয়েক দিন আগে ফিলিপাইনে এশিয়া কাপ আর্চারির রিকার্ভ এককে স্বর্ণ জিতেছেন তিনি। এর আগে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব আর্চার চ্যাম্পিয়নশিপের রিকার্ভ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জয় করেছেন দেশসেরা এই আর্চার। সেইসঙ্গে প্রথম আর্চার হিসেবে নিজ যোগ্যতায় ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিকে জায়গা করে নিয়েছেন রোমান সানা। শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনেই নয়, ঘরোয়া প্রতিযোগিতায়ও মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

গত শুক্রবার টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মধুমতি কাপ বাংলাদেশ আর্চারিতে ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টে বাংলাদেশ আনসারের হয়ে স্বর্ণ জিতেছেন রোমান সানা। তাই বলা যায় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের আকাশে নতুন তারকা এখন তিনি।

মাঠের বাইরে একজন ক্রীড়াবিদ কেমন, তা হয়তো সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ থাকে না। তাই রোমানের নীরব পথচলার গল্পটাও অনেকেরই অজানা। দেশ সেরা এই আর্চার ১৯৯৫ সালে ৮ জুন খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. আব্দুল গফুর সানা, মায়ের নাম বিউটি বেগম। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রোমান সবার ছোট। বড় ভাই বিপ্লব সানা, মেজ বোন লুবনা আক্তার ঝর্ণা।

রোমানের বাবা গফুর ও বড় ভাই বিপ্লব খুলনার পূর্ব রূপসার রাজু ফিস ট্রেডার্সে কর্মরত। জীবনে কঠিন সময় পার করেছেন রোমান ও তার পরিবার। ২০০৭ সালের আইলার সময় জলোচ্ছ¡াসে বিলীন হয়ে যায় তাদের ঘড়বাড়ি। দেড় মাস পর পরিবার নিয়ে রোমান চলে আসেন খুলনায়। টুটপাড়ার একটি ঝুপড়ি ঘরে পরিবার নিয়ে ওঠেন। খুলনার শিশু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় তীরন্দাজ হিসেবে রোমানের যাত্রাটা শুরু হয়। তখন আর্চার ফেডারেশনের একটি টিম খুলনায় এসে তীরন্দাজ বাছাইয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। ওই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে সফলতার সঙ্গে তালিকাভুক্ত হন রোমান। তারপর থেকে তীরন্দাজ হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয়। ২০১০ সালে তীর-ধনুক হাতে রোমানের অভিষেক হয়। একই বছর তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে ২০১২ সালে একটি দুর্ঘটনায় রোমানের পা ভেঙে গেলে তীরন্দাজ হওয়ার স্বপ্নটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অর্চার ফেডারেশনের সহায়তা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন। ওই বছরই বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে ভাঙা পায়ে স্বর্ণ জিতে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে।

২০১৪ সালে প্রথম এশিয়ান আর্চারি গ্রাঁ প্রি এবং ২০১৭ সালে কিরগিজস্তানে আন্তর্জাতিক আর্চারি টুর্নামেন্টে তিনি স্বর্ণ পদক জিতেন। এমনকি তার ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ।

:: কামরুজ্জামান ইমন

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj