মিশুক মুনীর

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মিশুক মুনীর, পুরো নাম আশফাক মুনীর চৌধুরী (জন্ম ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯; মৃত্যু ১৩ আগস্ট ২০১১) মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংবাদ পরিবেশন কুশলীদের অগ্রনায়ক। মিশুক মুনীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধরীর দ্বিতীয় সন্তান। ১৯৫৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ইউনিভার্সিটি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে তিনি এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮০ সালে একটি শিক্ষার্থী বিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি কানাডায় যান এবং নিউ ব্রান্সউইক ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে কাজ করেন। তিনি ছাত্র অবস্থাতেই বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অডিও ভিজ্যুয়াল বিভাগে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯০ সালে মিশুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৯ সালে মিশুক বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি টেরিস্ট্রিয়াল টেলিভিশন ‘একুশে টিভি’তে সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন এবং একুশে টিভিকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একজন অগ্রনায়ক হিসেবে কাজ করেন। ২০০১ সালে মিশুক কানাডায় গমন করেন। সেখানে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মিলে অনেকটা স্বউদ্যোগেই ইন্টারনেট মাধ্যমকে ব্যবহার করে ‘দি রিয়েল নিউজ নেটওয়ার্ক’ নামে একটি সংবাদ পরিবেশন চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেন। কানাডাতে তিনি ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফিও করতেন। সদাহাস্য মিশুক ছিলেন এমন একজন মানুষ যার ছিল কঠোর নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতা, প্রগাঢ় সমাজ-চেতনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য গভীর ভালোবাসা। ছাত্রজীবন থেকেই ফটোগ্রাফির প্রতি ছিল তার নেশা, আর তাই পরবর্তীকালে রূপান্তরিত হয়েছিল সিনেমাটোগ্রাফিতে (চলচ্চিত্র গ্রাহক)। পরে ডিজিটাল মিডিয়া ও ব্রডকাস্ট সাংবাদিকতার দিকে তিনি ঝুঁকে পড়েছিলেন। বাংলাদেশের বিকল্পধ ারার চলচ্চিত্রের অগ্রদূত তারেক মাসুদের সঙ্গে তার গড়ে উঠেছিল নিবিড় সখ্য এবং তারেকের প্রায় সব চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রাহক ছিলেন মিশুক। মিশুকের অন্যান্য প্রামাণ্য চিত্রের মধ্যে ঢাকা টোকাই ও রিটার্ন টু কান্দাহার আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে। মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj