ক্রমবিকাশতাত্তি¡ক শিক্ষা দর্শন

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আমেরিকার শিক্ষাব্যবস্থাকে সামনে রেখে কিছুদিন আগে এডুকেশন ইনস্টিটিউট বিশ্বের প্রথম সারির শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করেছিল। একটি অস্বাভাবিক উৎস ব্যবহার করে আমেরিকার শিক্ষাব্যবস্থার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে, কারণ সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিলিয়ন ডলার খরচ করার পরও উদ্যোক্তারা মনে করেন, আমেরিকার শিক্ষাব্যবস্থা ভালো নয়। সেই অস্বাভাবিক উৎসটি হলো- ডারউইনের ক্রমবিকাশতত্ত্ব। ওই তত্ত্বটির সাহায্যে মানুষের অবস্থা অনেকটা উন্নত করা গেছে। ওই তত্ত্বটির সাহায্যে তারা আমেরিকার শিক্ষা, বিশেষ করে শিশুশিক্ষার বিশ্লেষণ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্রমবিকাশতত্ত্ব বিশ্বাসী অনেকের সঙ্গে ডেভিড স্লোন উইলসন, যিনি সবকিছু ক্রমবিকাশতত্ত্বের সাহায্যে বিচার করেন। এই সেমিনারের কার্যবিবরণীর ওপর ভিত্তি করে লেখেন ‘খবৎহরহম ভৎড়স গড়ঃযবৎ ঘধঃঁৎব ধনড়ঁঃ ঞবধপযরহম ড়ঁৎ ঈযরষফৎবহ : ঞবহ ঝরসঢ়ষব ঞৎঁঃযং’ প্রবন্ধ। সেটি ‘দ্য এডুকেশন ইনস্টিটিউটের’ পত্রিকায় ছাপা হয়। ‘দ্য আমেরিকান রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন’ আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য ‘ঊাড়ষঁঃরড়হধৎু চবৎংঢ়রপঃরাব ড়হ ঊফঁপধঃরড়হধষ জবংবধৎপয, চড়ষরপু ধহফ চৎধপঃরপব’ সম্মেলন অনুষ্ঠানের যাবতীয় খরচ বহন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুরুতেই উদ্যোক্তারা শিশুশিক্ষার জন্য ক্রমবিকাশতত্ত্বের সাহায্যে ‘দশটি সহজ সত্যের’ কথা বলেছেন।

১. শিশুদের অনুপ্রাণিত করার জন্য শিক্ষা : শিকারি যুগেও অনেক ঐতিহ্যবাহী সমাজে শিক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি শিশুদের। সচেতনভাবে বড়রা শিশুদের শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করত না। শিশুরা যখন কোনো প্রশ্ন করত, তার উত্তর দিত এবং সাহায্য চাইলে সাহায্য করত। বড়রা শিশুদের দেখাশোনা করত কিন্তু তাদের শিক্ষাধারাকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করত না। শিশু-কিশোররা তাদের স্বতঃস্ফ‚র্ত খেলা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে শিক্ষা আত্মস্থ করত। বড়রা শিশু-কিশোরদের সেসব কার্যক্রমের জন্য যথেষ্ট সময় দিত।

২. বায়োলজিক্যালি শিশুরা শিখতে প্রস্তুত : মানবসন্তান বড় হতে দীর্ঘ সময় নেয়। সেই সময়ে ক্রমবিকাশের মাধ্যমে তারা অনেক কিছু উপযোগী করে গ্রহণ করতে পারে। উদ্যমশীলতা ও স্বাভাবিক প্রবণতা প্রাকৃতিক বাছাইয়ের মাধ্যমে এমনভাবে প্রস্তুত হয় যে, তা তাদের শৈশব অবস্থা অতিক্রম করে বড় হয়ে উঠতে সাহায্য করে। শিশুদের অসাধারণ কৌত‚হল, খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ, সামাজিকতা এবং যে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশে তারা বেড়ে ওঠে, সেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে তারা তাদের দক্ষতাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পায়। এগুলো শিক্ষার জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক। শিশুরা তাদের চারপাশের পরিবেশ পরিস্থিতি তীক্ষèভাবে লক্ষ করে এবং বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিবেশে তারা সেভাবে আত্মস্থ করতে পারে। যে সংস্কৃতির মধ্যে শিশুরা বড় হয়ে ওঠে, সেই সংস্কৃতির অনুষঙ্গগুলোই তারা গ্রহণ করে। শিকারি যুগের শিশুরা বড়দের কাজ দেখে তারাও শিকারে ও সংগ্রহে অংশগ্রহণ করত। বড়রা যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করত, শিশুরাও সেগুলো ব্যবহার করতে শেখে। এভাবে বড়দের দক্ষতা শিশুদের মধ্যে সম্প্রসারিত হয়। বড়দের কাছ থেকে শেখা গল্প তারা বিভিন্ন রিচুয়াল, নৃত্য, ছবি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকাশ করতে থাকে। নিজেদের উদ্যোগেই তারা এগুলো করতে আনন্দ পেত। এসব থেকে তাদের বিরত রাখা বেশ কষ্টসাধ্য।

৩. পুরো সম্প্রদায়ই তাদের ক্লাসরুম : শিকারি যুগে বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী সমাজে সবাইকে নিয়ে গড়ে উঠত একটি সম্প্রদায়। বেঁচে থাকার জন্য তারা একসঙ্গে লড়াই করত। শিশুরা বড়দের কাছে প্রাথমিক গল্প, তাদের কথাবার্তা ও যুক্তিগুলো শুনত। বড়দের সঙ্গে শিশুরাও নৃত্যে, শিকারে এবং উৎসব আয়োজনে যোগ দিত। তাদের সামনে সংস্কৃতির আকাশ উন্মুক্ত থাকতো। তারা সেসব কাজে এবং খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে পারত। এভাবে তাদের মনে নানা ধরনের মূল্যবোধ গড়ে উঠত। অন্যের সাফল্য বা ব্যর্থতা থেকে শিশুরা শিক্ষা গ্রহণ করত। এভাবে সামাজিক সাফল্য-ব্যর্থতাগুলো তাদের অভ্যাসের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারত। বড়দের সাফল্যগুলো অনুকরণ ও ব্যর্থতাগুলো পরিহার করতে শিখত।

৪. শিক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তি সঞ্চয় করবে : এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, শিক্ষার সুফল পেতে বেশ বিলম্ব হয়। এতে শিক্ষার্থী ভেঙে পড়তে পারে। মানুষসহ সব প্রজাতি অসম্ভব না হলেও এটা মনে করে যে, শিক্ষাগ্রহণ ও তার ফল পাওয়ার মধ্যে সময়ের পার্থক্য অনেক বেশি। আচরণবিদদের ভাষায় বলা যায় যে, শিক্ষার্থীরা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। আজ গণিতসহ অন্য বিষয়ে পাস করে ফল পেতে বিলম্ব হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই শিক্ষাই নিতে চায় যা সঙ্গে সঙ্গে সুযোগের সৃষ্টি করে। তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি আজ শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে।

৫. ছোট-বড়দের একসঙ্গে শিক্ষা : আজকের সিঁড়ি ভাঙা স্কুলের আগে বয়স্কদের সঙ্গে শিশুদের খুব কমই আলাদা করা হতো। শিকারি যুগেও ঐতিহ্যবাহী সমাজে শিক্ষাকে বয়স অনুযায়ী পার্থক্য করা হয়নি। বড়দের সঙ্গে ছোটরাও সব কাজ একসঙ্গে করত। ফলে বড়দের কাজ লক্ষ করে শিশুরাও ক্রমশ শিক্ষিত হয়ে উঠত। সমবয়সীদের চাইতে ছোট-বড় একসঙ্গে কাজ করার ফলে শিশুরা অনেক কিছুই শিখে ফেলত। কারণ তাদের দক্ষতা ও জ্ঞান ছোটদের আকর্ষণ করত। সেগুলো গ্রহণ করা সহজতর মনে হতো। কেবল সমবয়সীরা একসঙ্গে খেলা করতে গেলে প্রত্যেকের কাছে অনেক কিছুই কঠিন মনে হতো। কিন্তু বড়দের কাছে খেলাটি এত কঠিন মনে হতো না। এটাই শিক্ষার বিষয়। ছোটদের শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে বড়রা নিজেদের দক্ষতা যাচাই করতে পারত। শিক্ষকরা যখন শিশুদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন, তখন তারাই বুঝতে পারেন শিক্ষার মাধ্যমে তারা খুব কমই শিখতে পারে। বয়স্ক শিক্ষার্থীরা কম বয়সী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের জানার ভিত্তিটার পেছনে শক্তি জোগান দেয়।

৬. কার্যকরী শিক্ষার জন্য ব্যক্তিগত পার্থক্য অপরিহার্য : একই প্রজাতির প্রত্যেক সদস্যই একে অন্যের চেয়ে আলাদা এবং ভিন্ন ভিন্নভাবে সাফল্য অর্জন করে। দুটি কারণের জন্য এই পার্থক্য সূচিত হয়। একটি জেনেটিকস এবং দ্বিতীয়টি পরিবেশ বা সমাজ কাঠামো। জন্ম থেকে সে যে পরিবেশে বড় হয়, সেই পরিবেশ তাকে ভিন্ন সংস্কৃতির অধিকারী করে। সামাজিক-সংস্কৃতিক পার্থক্য নমনীয় হতে পারে, কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থায়ীরূপ গ্রহণ করে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে সারা জীবনই নমনীয় থাকতে পারে। মানুষের জন্য এটা বেশি সত্য। যেমন কোনো শিশু কঠিন অবস্থার সঙ্গে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে, আবার কেউ পারে না। বিরূপ পরিবেশে কেউ কষ্ট পায় কিন্তু মনের মতো পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ক্রমবিকাশতাত্তি¡ক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দুই ধরনের শিশু একই জনগোষ্ঠীতে বাস করে। কোনো শিশু শক্তিশালী, কেউবা যূথচর বা সঙ্গলিপ্সু। কেউ সহজেই যে কোনো কাজে নেমে যেতে চায়, কেউবা ভেবেচিন্তে নামতে চায়। সমগ্র সংস্কৃতির জন্য এই পার্থক্য মূল্যবান। আগ্রহ ও ক্ষমতার এই পার্থক্যে সমাজ লাভবান হয়। শিক্ষা যখন শিশুকেন্দ্রিক ও বিভিন্ন পছন্দের ভাণ্ডার তার সামনে খুলে রাখা হয়, তখন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ স্থানটি সবাই বেছে নিতে পারে।

৭. ভয় ও উদ্বেগ শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করে : কোনো প্রজাতির কোনো সদস্য যখন ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে তখন তারা আত্মরক্ষার জন্য সব মনোযোগ নিয়োগ করে। খোলাখুলি আলাপচারিতার জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজন। শিক্ষার পরিবেশ যদি বৈরী হয়। তাহলে শিশুদের মধ্যে পলায়নপর মনোভাবের সৃষ্টি হয়। ফলে শিক্ষা সংকুচিত হয়ে পড়ে। ভয় ও উদ্বেগের সাধারণ কয়টি কারণ হলো- অন্য ছাত্রদের পীড়নমূলক আচরণ, উপহাস উৎপত্তি, শিক্ষার্থীদের সব সময় অকর্মণ্য ভাবা, পরীক্ষার রেজাল্টের জন্য উৎকণ্ঠা এবং পরীক্ষার ফল ভালো না হলে ভর্ৎসনা ও হুমকি ইত্যাদি। এর ফল খুবই খারাপ, পুরো শিক্ষা প্রক্রিয়াকে অসাড় করে দেয়।

৮. পছন্দের বিষয় শিক্ষাকে আনন্দঘন করে এবং দমনমূলক ব্যবস্থা শিক্ষাকে ধ্বংস করে : সর্বত্র সব বয়সের মানুষ তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা উপভোগ করে। তারা তাদের পছন্দকে রূপদান করতে চায় এবং আনন্দের সঙ্গে তারা অন্যের নিয়ন্ত্রণ মানতে চায় না। সমগ্র ক্রমবিকাশতত্ত্বের ইতিহাসে অন্যের দ্বারা চাপানো সিদ্ধান্ত সব সময় নিয়ন্ত্রণকারীর সুবিধা বৃদ্ধি করে, নিয়ন্ত্রিতদের নয়। অন্যভাবে বলা যায় যে, আমাদের পূর্বপুরুষ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর চেয়ে এতটাই আলাদা ছিল যে, নিজেদের গ্রুপের মধ্যে কেউ যেন আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, তার উপায় বের করেছিল। এভাবে তারা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত সমতাবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিল যা পরস্পরের মধ্যে সহযোগিতা-সহমর্মিতার এক বাতাবরণ তৈরি করেছিল। সবাই মিলেমিশে কাজ করত। বড় সত্য হলো- আমরা একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতি। এ ব্যাপারে শিশুরা বয়স্কদের চাইতে আলাদা কিছু নয়। ‘এটা কর, ওটা করো না’- বড়দের এ ধরনের নির্দেশ তারা রুখতে চেষ্টা করে। এর অর্থ এই নয় যে, তারা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করবে। এর অর্থ এই যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশীদারিত্ব থাকতে হবে। আমরা জানি যে, অংশগ্রহণমূলক শাসন বা নিয়ন্ত্রণ বড়দের সংগঠনের ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় ছাত্রদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে সামান্যই গবেষণা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, ১৯৬৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে সিনেট সিন্ডিকেটে ছাত্র সদস্য রাখার সুপারিশ করেছিল টোকিওতে। ১৯৭৩ সালে কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন সিনেটে পাঁচজন নির্বাচিত ছাত্র সদস্য অন্তর্ভুক্ত করেছিল যা আজো বহাল আছে।

৯. পুরুষানুক্রমিক পরিবেশ থেকে সরে এলে অপ্রত্যাশিত সমস্যার সৃষ্টি হয় : সব প্রজাতি সুদূর অতীতের জলবায়ুর সঙ্গে গভীরভাবে অভিযোজিত। অপরিহার্যভাবে না হলেও বর্তমান জলবায়ুর সঙ্গে নয়। উদাহরণ, আমাদের পূর্বপুরুষদের খাদ্যের সঙ্গে আজকের শিশুদের খাদ্যের পার্থক্য লক্ষ করা যায়। তাদের খাদ্যের সঙ্গে এখনকার শিশুদের খাদ্যে ওমেগা-৬ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পার্থক্য। যা নার্ভ ও জ্ঞান সংক্রান্ত উন্নয়নের ক্ষতি করতে পারে। দৈহিক ব্যায়াম ও স্পর্শ আর একটি উদাহরণ। স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের আলাদা ক্লাসরুমে বসে থাকতে হয় এবং ছেলেমেয়েদের স্পর্শ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেন যৌন হয়রানির শিকার হতে না হয়। আজকের সমাজে নিষেধাজ্ঞা বেশি চোখে পড়ে। ছেলে ও মেয়েদের আলাদা স্কুলও করা হয়েছে। আমাদের পূর্বপুরুষদের অবস্থার কথা আমরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করি। আজ যেসব শিশুর ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তাদের দেহের বিশেষ রস নিঃসরণে তা বাধার সৃষ্টি করে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সক্রিয় করে তুলতে পারে না। তখন শিশুরা শিক্ষার সঙ্গে দৈহিক সক্রিয়তার এক ভারসাম্য গড়ে তুলতে বাধ্য হয়। তারা আজ যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়, সেগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের অবস্থা থেকে দর্শনীয়ভাবে আলাদা।

১০. কোনো কোনো দক্ষতা অর্জন করতে কম স্বতঃস্ফ‚র্ততার প্রয়োজন হয় ও কঠিন অধ্যবসায়ের সঙ্গে তা অর্জন করতে হয় : কোনো কোনো দক্ষতা আমরা সহজেই অর্জন করতে পারি। যেমন- হাঁটা বা কথা বলা কেউ হাত ধরে কষ্ট করে শেখায় না।

বড়দের দেখে ও তাদের কথা শুনে শিশুরা তা আপনা আপনিই জেনেটিক্যালি শিখে নেয়। বিপরীতে একটি বিশেষ সংস্কৃতিতে কোনো দক্ষতা অর্জন করতে বিশেষ মনোযোগী হতে হয়। উদাহরণ- ভূখণ্ড ও শিকারের ধরনের ওপর নির্ভর করে শিকারের কৌশল নির্ণীত হয়। এখন পড়াশোনা খুব প্রয়োজনীয় দক্ষতা- যা আমরা আপনাআপনি জেনেটিক্যালি অর্জন করতে পারি না। এগুলো শিখতে শিশুদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

শহিদুল ইসলাম : কালাম লেখক ও শিক্ষাবিদ।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj