সিসি ক্যামেরা স্থাপনে উদাসীনতা কেন?

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বর্তমানে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা একটি অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ হয়ে উঠেছে। রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশন ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। কিন্তু সিটি করপোরেশনের ক্যামেরাগুলো অধিকাংশই অকেজো হয়ে আছে। ডিএমপি নগরীতে কিছু পয়েন্টে ক্যামেরা স্থাপন করলেও তাও অকেজো। এমতাবস্থায় ২ বছর আগে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয় পুলিশ প্রশাসন। ‘ডেভেলপমেন্ট অব ঢাকা সিটি ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ নামে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এই প্রকল্পটি এখনো আটকে আছে কাগজে-কলমে। কথা ছিল ওই প্রকল্পের আওতায় রাজধানীতে বসবে ৫০ হাজার সিসি ক্যামেরা। এটি হতাশার বিষয় বৈকি। বর্তমানে সারাদেশে অপরাধকর্ম, বিশেষ করে টার্গেট হত্যাকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরা থাকলে অপরাধীকে চিহ্নিত করা সহজ হতো। জানা যায়, পুলিশের কাজকে সহজতর ও গতিশীল করতে বর্তমান সরকার ১৯৯৮ সালে ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন কন্ট্রোল রুম আধুনিকায়ন’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো ও কেন্দ্রীয়ভাবে অপরাধ ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা, ট্রাফিক ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে রাস্তার যানজট পরিস্থিতি পথ ব্যবহারকারীদের জানানো, পুলিশের বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা এবং ওয়াকিটকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা। প্রকল্প গ্রহণের ১০ বছর পর কাজ শুরু হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ৫৯টি সংযোগ ও প্রবেশমুখে ১৫৫টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাও বসানো হয়। এও ছয় বছর আগে। কিন্তু পুলিশ কর্তৃপক্ষ এগুলো বুঝে না নেয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায় ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি। এ হলো পুলিশের সিসি ক্যামেরা প্রকল্পবিষয়ক আমাদের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা। রাজধানীতে অপরাধী শনাক্তকরণে সিসি ক্যামেরা সহায়ক হয়েছে এমন উদাহরণ কিছু রয়েছে। সাম্প্রতিককালে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা খুনের মতো বহু অপরাধের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। শুধু রাজধানীতেই নয়, ঢাকার বাইরেও অপরাধী ধরতে সিসি ক্যামেরা সহায়তা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। তবে সিসি ক্যামেরা বসালেই যে অপরাধ বন্ধ হয়ে যাবে বা এর মাধ্যমে শতভাগ ঘটনায় অপরাধী শনাক্ত হয়ে যাবে- তার নিশ্চয়তা হয়তো নেই। তবে যথাযথভাবে পরিচালিত হলে এর কিছু সুফল নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। তাই আমরা মনে করি, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত যেসব সিসি ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়েছে, সেগুলো অবিলম্বে মেরামত করা হোক। নগরীর যেসব এলাকা এখনো সিসি ক্যামেরার বাইরে রয়েছে, সেসব এলাকায় স্থাপন করা হোক নতুন ক্যামেরা। এ ক্ষেত্রে ‘ডেভেলপমেন্ট অব ঢাকা সিটি ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ নামে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের প্রকল্পটি দ্রুত চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হতে পারেন।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj